০১ এপ্রিল ২০২০, বুধবার ০১:০৫:০৪ এএম
সর্বশেষ:

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:৩২:২৫ এএম শুক্রবার     Print this E-mail this

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলছেনা কাংখিত স্বাস্থ্যসেবা

আজিজুল ইসলাম, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলছেনা কাংখিত স্বাস্থ্যসেবা

ঘড়ির কাটায় তখন সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৫০ মিনিট। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কক্ষের ভেতরে-সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন রোগীরা। ওই সময় সর্দি-কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে হাজির হন হাটহাজারী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিরের খিল গ্রামের গৃহবধু মাহেরা গাজী (৩০) ও তাঁর শাশুড়ি কুসুম আক্তার (৫৩)। এ সময় চেয়ারে দায়িত্বরত চিকিৎসক উপস্থিত নেই বলে জানান পাশের অন্য একটি চেয়ারে বসে থাকা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) রাজিব বড়–য়া।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জিজ্ঞাসা স্যাকমোর কাছে চিকিৎসক নেই, আমাদের চিকিৎসা কে করবে? নিমেষ মাত্র ক্ষণ বিলম্ব না করে ওই স্যাকমো তাদের উদ্দেশ্য বলেন, আমি আপনাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করব। এমনটা শুনে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা হতভম্ব ও ক্ষুব্ধ। যদিও সেদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ডাক্তার সুহানা কর্তব্যরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এমনই চিত্র দেখা গেল হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে। এ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে দিনে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসকদের দেখা মিললেও রাতের বেলায় চিকিৎসকের আসন দখল করে বসে স্যাকমোরা। ফলে মিলছেনা কাংখিত স্বাস্থ্যসেবা তথা যথাযোগ্য চিকিৎসা। অথচ সরকারি চিকিৎসা সেবার এ প্রতিষ্ঠান উপজেলার লাখ লাখ বাসিন্দার চিকিৎসা সেবা গ্রহনের অন্যতম ভরসাস্থল।
ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে ওই দিনের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাক্তার সুহানা এ প্রতিবেদককে জানান, আমি সেদিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছি। সে (স্যাকমো) টোকেন দিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় বিশ্রামাগারে আমার কাছে রোগী পাঠিয়েছে। তবে কেন যে, ওই রোগীগুলোকে আমার কাছে পাঠায়নি তা আমার বোধগম্য নয়।  
এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্যাকমোদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়, এমনটা দাবী করে চিকিসা সেবা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন মো. সোলায়মান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো সময়ই জরুরি বিভাগে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। তবে রাতের বেলায় পরিস্থিতি হয় সবচেয়ে ভয়াবহ। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক সন্ধ্যা হলে চলে যার হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় বিশ্রামাগারে। তখন দায়িত্বে থাকা স্যাকমোরা হয়ে যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক! তারা (স্যাকমো) শুধু পরিচিতদের চিকিৎসকদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়। কিন্তু চিকিৎসকের সাক্ষাতের বিষয় নিয়ে কথা তুললে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরমর্শ দেয়।
এছাড়া বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা, অবহেলা ও ফাঁকিবাজির কারণে ভেঙে পড়েছে এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা এমন অভিযোগ চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ভূক্তভোগীদের। ফলে একদিকে চিকিৎসা সেবা তথা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি।   
এ ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সৈয়দ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমনটা হওয়ার কথা নয়। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।  


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
কাউসার হোসেন সুইট
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close