০৮ জুলাই ২০২০, বুধবার ০১:২৭:২৩ পিএম
সর্বশেষ:
বিশ্বে মৃতের সংখ্যা আজ মঙ্গলবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৪১ হাজার ৮৬ জনে।            দেশে মোট এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত            দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই হাজার ১৫১ জনের মৃত্যু            করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৩০২৭            বান্দরবানের সদর উপজেলায় দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন            হিমঘরে এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ,ছেলেমেয়ে দেশে ফিরলে শেষকৃত্য            শেষ ইচ্ছায় রাজশাহীতে মায়ের পাশেই সমাহিত হবেন এন্ড্রু কিশোর           

১৫ মার্চ ২০২০ ০৩:০৪:০৫ এএম রবিবার     Print this E-mail this

লক্ষ্যমাত্রার ১১২ শতাংশ ধার নিয়ে নিয়েছে সরকার

ডেক্স রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 লক্ষ্যমাত্রার ১১২ শতাংশ ধার নিয়ে নিয়েছে সরকার

রাজস্ব আদায়ে মন্দা, সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধস। তাই উন্নয়ন প্রকল্পসহ প্রতিদিনের ব্যয় নির্বাহের জন্য ধার করার বিকল্প নেই সরকারের। ধার করতে গিয়ে অর্থ-বছরের আট মাসেই বাজেট নির্ধারিত ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে ধার নেয়া লক্ষ্যমাত্রার ১১২ শতাংশ নিয়েছে সরকার। যা সংশোধিত বাজেটের ৭৩ শতাংশ। অপরদিকে আয় না থাকায় ধার নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে সরকার ধার শোধও করেছে এক লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। তারপরও এই খাতে সরকারের বর্তমাণ ঋণের পরিমাণ ৫৮ হাজার কোটি টাকা। যা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেয়ার লক্ষ্য থেকে ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা বেশি।

সরকারের ব্যয় কর্মসূচিতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ আহরণের হাতিয়ার হিসেবে গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড এবং বাংলাদেশ ট্রেজারি বিল রয়েছে। এর মাধ্যমেই সরকার মূলত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে টাকা ধার করে থাকে। বাংলাদেশ ট্রেজারি বিল এক ধরনের স্বল্পমেয়াদি শর্তহীন সরকারি ঋণপত্র। অন্য কথায় ট্রেজারি বিল হলো একটি স্বল্পকালীন মানি মার্কেট প্রোডাক্ট। স্বল্পকালীন বাজেট ঘাটতি মেটানো অথবা অন্যান্য প্রয়োজনে স্বল্পকালীন তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সরকার ট্রেজারি বিল ইসু্য ও বিক্রয় করে। আর গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড ব্যবহার করা হয় দীর্ঘ মেয়াদের জন্য।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেছেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া আর জমা দেয়া সরকারের একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে ক্ষেত্রবিশেষে কখনো কখনো বেশি ঋণ নিতে হয়। এতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ যেসব বিল বা বন্ডের মেয়াদ শেষ হয় তার টাকাও পরিশোধ করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ফেব্রম্নয়ারি পর্যন্ত সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে ৫৭ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। একই সময়ে সরকার ঋণ পরিশোধ করেছে এক লাখ ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রস জমার পরিমাণ এক লাখ ৬০ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। আট মাসেই সরকার এই লক্ষ্যমাত্রার ১২ শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছে। এই হিসেবে ঋণ নেয়ার পরিমাণ ১১২ শতাংশ।

এদিকে ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাজেট সংশোধন করে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়ার নতুন লক্ষমাত্রা হচ্ছে ৭২ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। মূল বাজেট থেকে সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ২৫ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে আট মাসে সরকারের ঋণ নেয়ার কথা ৪৮ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। সেখানে ঋণ নেয়া হয়েছে ৫৭ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। যা লক্ষমাত্রা থেকে ৯ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা বেশি নেয়া হয়েছে। শতাংশের হিসেবে ঋণ নেয়া হয়েছে ৭২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ছিল ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। যা সংশোধিত করে করা হয় ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। ফলে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য কমে যায় ১১ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। বছর শেষে সরকার প্রকৃত ঋণ নেয় ৩৭ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা।

সরকার ব্যাংক ব্যবস্থার থেকে যেসব ঋণ নেয় তা ট্রেজারি বিল এবং বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। টাকা সংগ্রহের জন্য ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিল এবং ৫, ১০, ১৫ এবং ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকার ট্রেজারি বন্ড নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

এই বিল ও বন্ড কিনতে পারে বাংলাদেশ নিবাসী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান যেমন- ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, কর্পোরেট বডি, প্রভিডেন্ট ফান্ড পেনশন ফান্ড ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অনিবাসী বাংলাদেশী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান যাদের বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকে ফরেন কারেন্সি একাউন্ট আছে তারাও কিনতে পারবে।

বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় (মেয়াদ ভেদে বিলের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৩১ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং বন্ডের ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ) মুনাফা দেওয়া হয়। তবে প্রত্যেক নিলামে এই মুনাফা পরিবর্তনশীল। এ বিল ও বন্ড গ্যারান্টিযুক্ত বিধায় এ খাতে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। বিলের মেয়াদকাল ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন এবং বন্ডের মেয়াদকাল ৫, ১০, ১৫ এবং ২০ বছর। তাই বিনিয়োগকারী সুবিধাজনক মেয়াদে বিনিয়োগ করতে পারে।

সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সকল কর্পোরেট শাখায় পাওয়া যায়। যে সব জেলায় সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের কর্পোরেট শাখা নেই সে সব জেলার সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় পাওয়া যাবে। ক্রেতা সরাসরি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠেয় নিলামে (প্রাইমারি মার্কেটে) অংশগ্রহণ করতে পারে। বিলে বিনিয়োগ স্বল্প মেয়াদি হওয়ায় মেয়াদান্তে মুনাফা ও আসল একসাথে ফেরৎ পাওয়া যায় বন্ডের মুনাফা ইসু্যর তারিখ থেকে ছয় মাস অন্তর অন্তর উত্তোলন করা যায়। অর্জিত মুনাফা এবং পুনঃবিক্রয়কৃত অর্থ/মেয়াদ পূর্তির পর আসল বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশে প্রত্যাবাসনও করা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে বন্ড বাজারের আকার অত্যন্ত সীমিত এবং এখানে বন্ড ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। ইসু্যকৃত অধিকাংশ বন্ড রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্তৃক ক্রয় ও ধারণ করা হয়েছে। খুবই স্বল্পসংখ্যক বন্ড বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ক্রয় এবং ধারণ করছে। কিছুসংখ্যক ব্যক্তি এবং অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাতেও কিছু বন্ড রয়েছে। ফলে এরাই বাংলাদেশের বন্ড বাজারের প্রধান ক্রেতা এবং সংগঠক। সরকার এ সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বন্ড ক্রয়ের জন্য নির্দিষ্ট অংকের বরাদ্দ দিয়ে তাদের জন্য বন্ড ক্রয় বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিধিবদ্ধ সম্পদ হিসেবেও বাধ্যতামূলকভাবে বন্ড ক্রয় ও ধারণ করতে হয়। ইসু্যকৃত এ সকল বন্ডের মধ্যে অধিকাংশই হস্তান্তরযোগ্য নয়। মাধ্যমিক বাজার না থাকায় বন্ড হোল্ডারদেরও সেগুলোর নগদায়নের জন্য বন্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

এদিকে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ৬ ভাগ বেড়ে হয়েছে ১২ লাখ ১৬ হাজার ২০২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণ বাড়ার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ সময়ে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ ঋণও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির হার হচ্ছে ৩২ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

অন্যদিকে চলতি অর্থ-বছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৩ হাজার ৭০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি হার ৫ শতাংশ। কিন্তু রাজস্ব আদায়ে টার্গেট থেকে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২৮ হাজার ৩০১ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে টার্গেট পূরণ হলে সরকারকে বাড়তি ঋণ নিতে হতো না। ফলে ব্যাংকিং খাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হতো না। যদি সঞ্চয়পত্র গত অর্থ বছরের মতো বিক্রি হতো তাহলেও সরকারকে ধার করে চলতে হতো। কারণ যেসব সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে সেসব সঞ্চয়পত্রের টাকা এবং যেসব বিল ও বন্ডে মেয়াদ শেষ হয়েছে তার টাকা পরিশোধ করতেই হতো। ফলে এনবিআর লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না করলে সরকারের ধার করার বিকল্প নেই। তবে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক আয় সরকারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। নয়তো আরও বেকায়দায় পড়তে হতো সরকারকে।

উলেস্নখ্য, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এনবিআর থেকে রাজস্ব আদায়ে টার্গেট রয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

অপরদিকে সরকারকে ঋণ নিতে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা নীতিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তিত মুদ্রা নীতি অনুযায়ী সরকারি ঋণের সীমা ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আগে ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ এখন তা করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আর বেসরকারি খাতের ঋণসীমা ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ অপরিবর্তিতই রাখা হয়েছে। আর সরকারি ঋণের সীমা বাড়ায় ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৩ শতাংশ করা হয়েছে। যা আগে ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা এই প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উৎসঃ   যায়যায়দিন

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close