১০ এপ্রিল ২০২০, শুক্রবার ০৭:০৯:০৩ পিএম
সর্বশেষ:

২৬ মার্চ ২০২০ ০২:০২:৪০ এএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তবুও তালিকায় নাম নেই সাহাদত মাষ্টারের

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তবুও তালিকায় নাম নেই সাহাদত মাষ্টারের

  মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভুমিকা পালন করে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বঞ্চিত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন সাহাদত মাষ্টার। স্বাধীনতার অর্ধশতব্দী পূরণ হতে চললেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠেনি তাঁর। বিনা চিকিৎসায় মৃত পথযাত্রী স্ত্রী সখিনা বেওয়া।
 পারিবার সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভান্ডার গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিন ডাক্তারের পুত্র সাহাদত হোসেন। তিনি ‘সাহাদত মাষ্টার’ নামে সুপরিচিত। ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন,  এবং ১৯৫৩ সালে নীলফামারী পিটিআই থেকে ভূরুঙ্গামারীর ১ম সি.ইন.এডধারী সাহাদত মাষ্টার প্রাইভেটে এইচএসসি পাশ করেন ১৯৬৫ সালে। পিটিআই প্রশিক্ষণকালীন সময়ে তিনি নীলফামারী থেকে রাইফেল ট্রেনিং গ্রহন করেন।
 তিনি ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ভূরুঙ্গামারী পাবলিক ক্লাব ও লাইব্রেরী (বর্তমানে পাবলিক লাইব্রেরী ও ক্লাব) এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে সমÑসাময়িক সহপাঠী অধ্যাপক মজিবর রহমান, আঃ জব্বার সরকার, আঃ কাদের ব্যাপারী, ডাঃ নিয়ামত আলী প্রমূখ ব্যক্তিদের সাথে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেন তিনি। যুদ্ধের এক পর্যায়ে আসামের গোয়াল পাড়ার ঝাউকুঠি শরনার্থী শিবিরের ত্রাণ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব আসে তার উপর। দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন বলে জানিয়েছেন তার সহযোগিরা। ১৯৯৫ সালের মে মাসে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক।
 স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারগুলোকে পূনর্বাসনের জন্য সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলে সাহাদত মাষ্টারের পরিবার তাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে সংশিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের কাছে বারবার আবেদন করে। কিন্ত অদৃশ্য কারণে তালিকায় তার নাম  ওঠেনি বলে জানায় তার সন্তানেরা। তবে ২০১০ সালে আবেদনকারীদের আবেদন যাচাই বাছাইয়ের জন্য ভূরুঙ্গামারীতে একটি তালিকা আসে। সেই তালিকার ৭০ নম্বর ক্রমিকে সাহাদত মাষ্টারের নাম থাকলেও সে তালিকা আলোর মুখ দেখেনি এ পর্যন্ত। এছাড়াও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটি কুড়িগ্রাম’র পক্ষ থেকে ১৯৯৫-৯৬ সালে “মুক্তিযুদ্ধে কুড়িগ্রাম” নামের ১টি ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ম্যাগাজিনের ২ নম্বর ক্রমিকে সাহাদত মাষ্টারের নাম পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে ২রা ফেব্রুয়ারী’১৩ সালে অনলাইন মুক্তিযোদ্ধা নিবন্ধন ফরম পুরণ করা হয়। যায় নম্বর ডি.জি ১২১৩৯৭। বাংলা ১৩৫৮ সালের সখিনা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। সাহাদতÑসখিনা দম্পতির চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরে অবশ্য রাহেলা বেগম নামে আর একজনকে তিনি বিয়ে করেন। দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রাহেলা বেগম বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৮ই অক্টোবর’১৫ প্রায় বিনা চিকিৎসায় পরলোক গমন করেন।
 প্রথম স্ত্রী সখিনা বেওয়া (৭৮) কান্নাজড়িত কন্ঠে স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তালিকা ভুক্তি না হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ঐ সময় তিনি মুখ খুলে কাউকে কিছুই বলেননি। কাকে বলবেন? সেই সময়ে উপজেলার প্রায় সবাই যে তাঁর ছাত্র অথবা ছাত্রের বয়সী। কখনও কাউকে কিছু বুঝতেই দেননি। হয়তো অভিমান আর অপমানবোধ কাজ করেছে তাঁর মনে।
সাহাদত মাষ্টারের ছেলে রবিউল আলম লিটন জানান, আমার বাবা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। বাবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বঞ্চিত হওয়ার দুঃখ আমরা আজীবন বয়ে বেড়াতে চাই না।
 যুদ্ধকালিন সময়ে ভারতে ঝাউকুঠি যুব শিবিরের অধ্যক্ষ মজিবর রহমান (সহকারী অধ্যাপক) বলেন, যুদ্ধকালিন সময়ে ঝাউকুঠি যুব শিবিরে প্রথম থেকেই খাদ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতেন সাহাদত মাষ্টার। আমি তাঁকে নিয়োগপত্র ও ছাড়পত্র দুটোই দিয়েছিলাম। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাহাদত মাস্টারের নাম তালিকা ভুক্তি না হওয়াটা  অত্যন্ত দুঃখজনক ।
 ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভুক্তির জন্য সাহাদত স্যারের নাম বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো    হলেও অদৃশ্য কারণে তাঁর নাম তালিকা ভুক্তি হয়নি। এ ব্যাপারে আমি মর্মাহত।
অবজ্ঞা আর অবহেলায় বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা সাহাদত মাষ্টারকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সু-দৃষ্টি প্রত্যাশা করছেন তাঁর মৃত্যু পথযাত্রী স্ত্রী সখিনা বেওয়া ও উভয় পক্ষের সন্তানেরা।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
কাউসার হোসেন সুইট
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close