০৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার ০৮:৫২:৩৪ পিএম
সর্বশেষ:

২৭ মার্চ ২০২০ ০৩:১০:২২ এএম শুক্রবার     Print this E-mail this

শৈলকুপায় প্রদর্শনী প্লটে দারুন প্রতারণা, দোল খাচ্ছে লালতীর

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) থেকে
বাংলার চোখ
 শৈলকুপায় প্রদর্শনী প্লটে দারুন প্রতারণা, দোল খাচ্ছে লালতীর

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের বীজ গবেষণায় দেশীয় উন্নতমানের জাত প্রসারের জন্য বারী-১ (তাহেরপুরী) পেঁয়াজ বরাদ্দ হলেও প্রদর্শনীপ্লটে উৎপাদন হচ্ছে লাল তীর পেঁয়াজ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসের পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য পাওয়ায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে এলাকার কৃষকগণ দাবি করেছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ৭নং হাকিমপুর ইউনিয়নের সাধুহাটি গ্রামের মাঠে উন্নত বীজ উৎপাদনের লক্ষে চলতি অর্থ বছরে উপজেলা কৃষি অফিস ১ একর জমিতে বারী পেঁয়াজ-১ প্রদর্শনী প্লট তৈরি করে। চাষী মনিরুল ইসলাম জানান, কনোজ কুমার তাকে চাষাবাদে নানাভাবে সহযোগিতা করার আশ^াস দিয়ে বারী পেঁয়াজ-১ বীজ উৎপাদনে উৎসাহীত করে। তথ্য গোপন করে বারী পেঁয়াজ-১ এর পরিবর্তে ৩৫ মন লালতীরের বীজ সরবরাহ করে উক্ত উপসহকারি কৃষিকর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানা যায়, বারী পেঁয়াজ-১ এর প্রদর্শনী প্লট করে কৃষি বিভাগের একান্ত নজড়ে আসতে চেয়েছে কনোজ কুমার। কিন্তুু চাষী মনিরুল ইসলাম  বারী পেঁয়াজ-১ প্লট উৎপাদনে আগ্রহ না দেখালে তাকে ভুলভাল বুঝিয়ে প্লটের জমি নির্দিষ্ট করে লালতীরের বীজ লাগিয়ে দেওয়া হয়। উক্ত জমিতে বারী পেঁয়াজ-১ এর সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে কৃষি বিভাগের চোখে ধূলা দেয় কনোজ কুমার। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনোজ কুমার লালতীর (প্রাঃ) কোম্পানীর নিকট থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য গোপনে বীজ বদলে দিতে পারে বলে সন্দেহ উঠেছে। ১০-১২-২০১৯ তারিখে চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের লক্ষে সাধুহাটি মাঠে ১ একর জমিতে প্রদর্শনী প্লটের কার্যক্রম শুরু হয়। উক্ত প্রদর্শনী প্লট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে নিয়ে আসতে সাধুহাটি এলাকাবাসীর নিয়ে চাষী পর্যায়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সে সময় বীজপ্লটের বাড়ন্ত গাছ দেখলেও কর্মকর্তাগণ লালতীরের বিষয়টি অনুধাবন করেননি, দিনে দিনে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। চাষী বাচ্চু মন্ডল জানান, প্রদর্শনী প্লটে লাল তীরের বীজ আবাদ হয়েছে সবাই জানে তবে কি কারনে বারী-১ এর সাইনবোর্ড তা সাধারণ চাষীদের বোধগম্য নয়। বিল্লাল সেখ নামে অন্য চাষী বলেন তারা ভেবেছেন  হয়তো লালতীরের বৈজ্ঞানিক নাম বারী পেঁয়াজ-১ সে কারনে বিষয়টি কেউ আমলে নেয়নি। তাছাড়া প্লট মালিকের চাচাতো ভাই কমির উদ্দিন জানান, এ প্রদর্শনী প্লটে লালতীরের বীজ উৎপাদন হচ্ছে কিন্তুু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন সে গ্রামের অনুষ্ঠানে চাষীদের উক্ত প্লট মালিকের নিকট থেকে বারী পেঁয়াজ-১ (তাহেরপুরী) এর বীজ সংগ্রহের কথা বলে গেছেন। একই এলাকার চাষী নজরুল ইসলাম প্রশ্ন রেখে বলেন, আবাদ হয়েছে লালতীর বীজ অথচ কর্মকর্তাগণ বারী-১ (তাহেরপুরী) পেঁয়াজ বীজ ক্রয়ে উৎসাহ দেওয়ার নেপথ্য কি ? একাধিক চাষী জানান, শৈলকুপা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনোজ কুমার তথ্য গোপন করে চাষীকে ভূলভাল বুঝিয়ে সরকারের বীজ উৎপাদন গবেষণাকে বিতর্কিত করতেই হয়তো প্রাইভেট কোম্পানীর বীজে উৎপাদনে সহযোগিতা করছেন। চাষীরা জানান, তাহেরপুরী পেঁয়াজ অনেক ভাল অধিক ঝাঁঝ, কন্দের আকার চেপ্টা গোলাকার, বোটা চিকন, মধ্যম আকৃতির লালচে পাটল বর্ণের যার কোথাও মিল নেই প্রদর্শনী প্লটের সাথে। তাছাড়া বীজ রোপনের সময়ও এলাকার চাষীরা দেখেছে লালতীর বীজ রোপন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনোজ কুমার জানান, অফিস থেকে সরবরাকৃত বীজ সংগ্রহ করেই কৃষক মনিরুল ইসলামের প্লটে রোপন করা হয়েছে। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে বীজ পাল্টে কৃষি বিভাগের গবেষণাকে বিতর্কিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেন, তবে কিভাবে উক্ত প্লটে লালতীর উৎপাদন হচ্ছে সে বিষয়টি এড়িয়ে যান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার কুন্ডু জানান, বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষন কৃষি বিভাগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন ব্যক্তির স্থুলকর্মকান্ডের জন্য সরকারের কৃষি বিভাগের বীজ গবেষণাগার বির্তকিত হবে এমন দায়ভার অফিস  বহন করবেনা। সাধুহাটি গ্রামের মনিরুল ইসলামের প্রদর্শনী প্লটে তাহেরপুরী অর্থাৎ বারী পেঁয়াজ ১ বীজ উৎপাদনের লক্ষেই উপ-সহকারিকে সমস্ত দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
কাউসার হোসেন সুইট
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close