২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার ০৮:৫৫:১৪ এএম
সর্বশেষ:
পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কাউকে ঘরে ঢুকাবেন না, কোনো সন্দেহ হলে নিকটস্থ থানাকে অবহিত করুন অথবা ৯৯৯ কল করুন: পুলিশ সদর দপ্তর           

২০ এপ্রিল ২০২০ ০৫:২৯:২৯ পিএম সোমবার     Print this E-mail this

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল

বাংলার চোখ
 স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল

আজ আমরা সবাই একযোগে পৃথিবীব্যাপী স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছি। কোন এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় COVID-19 নামীয় ভাইরাসের আক্রমণে পরাশক্তি থেকে শুরু করে অনুন্নত বিশ্ব সবাই এক কাতারে, আক্ষরিক অর্থে কারো কিছুই করার নেই, স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী থেকে পরম করুণাময়ের অশেষ রহমত আশায় দিনাতিপাত ব্যতীত। বুঝতে শেখার পর থেকে পরিবারের সকল সদস্য মিলে এভাবে একটানা ঘরে সময় কাটানো হয়নি কখনো। এর পরিণতি বা মুক্তিকাল এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনিশ্চিত, অজানা। অতিব্যস্ত ছকবাধা পরিচিত জীবনের ব্যতিক্রম এ সময়টা নিজেকে উত্তমরূপে চেনা - জানার এক মোক্ষম সময় ভেবে একান্ত নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। বন্ধুদের দারুন সব লেখা পড়ে কিছু একটা লেখার দুঃসাহস এর দারপ্রান্তে আমি। কষ্ট করে আপনাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে এ লেখা পড়ার জন্য আগাম ধন্যবাদ। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা-চেতনা, সমাজ - সংসার ইত্যাদি পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে তাদের জীবনের গল্পটা আলাদা হয়, স্বকীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমিও আমার মনের রাজা। জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা শেষে মনে হয়েছিল আর কোন টেনশন নাই, বড় হয়ে সব শিখে গেছি। তারপর একে একে কলেজ ভর্তি, এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, চাকুরী, চাকুরী সংক্রান্ত বিভিন্ন পরীক্ষা, টেনশন ও শিক্ষার মধ্য দিয়েই যাপিত হচ্ছে জীবন। সংসার ও সন্তানসহ সুখী পরিবার এর একজন আমি, আলহামদুলিল্লাহ ! ছকে বাঁধা কর্মজীবনে স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা-ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী নিয়ে বহমান জীবন। ঘড়ির কাটা মেনে চলা জীবনের এত শত আয়োজনে নির্ধারিত দায়িত্ব-কর্তব্য পরিপালনের পর ইদানিং একান্ত নিজের কিছু সময় খুঁজে পাওয়া মুশকিল। Home quaritine এর এ সময়ে খুব মনে পড়ছে স্কুল জীবনের কথা, ক্লাসে টেক্সট বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করা ভালোলাগার সব বই পড়া, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা, সিনেমা দেখা, একা বা কাছের কয়েকজন বন্ধু মিলে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, নতুন শেখা তাসের কোন একটা খেলায় দিনাতিপাতসহ অন্যান্য বিভিন্ন কারণে বাবার প্রচন্ড বকুনি। বাবা এখন আর তেমন বকা দেন না, কিন্তু আমি সেইসব সময়, ভয় এবং বকার অনুভূতিগুলো খুব মিস করছি। এখন বই কেনা হয় কিন্তু পড়া হয় না, সিনেমা দেখার ইচ্ছে ম্রিয়মাণ, শুধু বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর কোথাও ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছেগুলো প্রায়ই মনের আকাশে ডানা মেলে উড়ে। কর্মজীবনে ছুটির দিন গুলো ধরাবাঁধা নিয়মে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন আর মাঝেমধ্যে বন্ধু-বান্ধবের সাথে কেটে যাচ্ছে নিয়ত। সময়ের সাথে সাথে স্বাভাবিক নিয়মে ভালোলাগা ও ভালোবাসার উদ্যমতাও রং বদলায়। জীবনের স্বাভাবিক নিয়মে বর্তমান অবশ্যই সুন্দর ও শ্বাশত কিন্তু ছাত্রজীবনে যাপিত সেই সোনালী সময় গুলোর তুলনায় ইটপাথরের লাল নীল শহরের এ গন্ডিবদ্ধ জীবন, সময় বড়ই বৈচিত্রহীন। পৃথিবীতে আমাদের আগমন এবং প্রস্থান সম্পূর্ণ একা, শেষ বিচারের দিন কৃতকর্মের হিসাব একাই দিতে হবে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট। মানব জীবনে আমি ও আমিত্বকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই। হিন্দু পুরাণেও বর্ণনা করা হয়েছে মানুষ নিজেকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। অথচ অবাক বিষয় পৃথিবীর এত সব আয়োজনে ইদানিং নিজের জন্যই আমাদের কোন সময় নেই। বেঁচে থাকার জন্য পরিবার, সমাজ-সংসার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এর ভূমিকা অনস্বীকার্য তদুপরি জীবনের সকল পর্যায়ে সঠিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের নিমিত্তে সবার আগে নিজেকে জানা অতীব গুরুত্বপূর্ণ, সক্রেটিসের ভাষায় KNOW THYSELF অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। পুরনো সব রঙিন স্মৃতি সাথে নিয়ে নিজের জন্য একান্ত কিছুটা সময় উপভোগের মানসে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা আমি কয়েকটা দিন ইন্দ্রজালের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। আমাদের প্রতিটা জীবনের জন্য নির্ধারিত মহামূল্যবান সময়ের কতখানি তথাকথিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপচয় হচ্ছে ভাবা দরকার। অবাক ব্যাপার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের কতশত, হাজার সংখ্যায় বন্ধু-বান্ধব, তাই কি ? বন্ধু শব্দটা আমার নিকট অত্যন্ত মূল্যবান, দুই অক্ষরের এ শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে আছে সর্বোচ্চ বিশ্বাস, ভালোলাগা-ভালোবাসা আর ভরসা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত কারো কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে অন্য সব বন্ধুদের ভালোলাগা, কষ্ট, ভালোবাসা ও অন্যান্য রংবেরঙের ইমোজি কতটা আন্তরিকতার প্রকাশ, হৃদয় নিঃসরিত অভিব্যক্তি আর কতটাইবা লোকদেখানো সৌজন্য আমি সন্দিহান। বর্তমান যুগে বিভিন্ন রূপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন রকম আশীর্বাদ অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, জানি ও মানি। তারপরও হঠাৎ খেয়ালের বশে একা থেকে হারানো সেই সোনালী দিনগুলো অনুভবের অভিপ্রায়ে ইন্দ্রজাল থেকে কয়েকটা দিনের জন্য নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে মনে হল উল্লেখিত মাধ্যমে প্রায়শঃই আমাদের অমূল্য সময় অবহেলায় অপচয় হয়। মানুষের বেঁচে থাকার বিভিন্ন মাধ্যম - পরিবার, গোত্র, সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান হচ্ছে তার পরিবার। এ ক`দিনের হঠাৎ অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন মাধ্যমের অনেক অনেক বন্ধুর মধ্যে অতি অল্প কিছু সুহৃদ উৎকণ্ঠিত হয়ে আমায় যোগাযোগ করে, যদিও যথারীতি পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীগণের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এ সময়টায়। যেমনটা বলছিলাম, আসলে কি এত এত বন্ধু হয় ! বন্ধু শব্দটির সকল মহিমা ধারণ করে হাতেগোনা কয়েকজন বন্ধুই আমাদের আজীবন ধন্য করে। আমাদের বন্ধুর প্রয়োজন অনস্বীকার্য কিন্তু জীবনে পরিবার সর্বক্ষেত্রে - সর্বাগ্রে, তাই আমাদের জন্য নির্ধারিত অতি মূল্যবান জীবন সময়ের বেশিরভাগটাই পরিবারের প্রাপ্য মনে করি, সবকিছুর পর আমরা পরিবারের কাছেই ফিরে আসি, আসতে হয়। আমরা সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়ে চলাচলে সর্বাবস্থায় পারস্পরিক বিশ্বাস সবচেয়ে বড় বিষয়। চলার পথে প্রায়শঃই অনেককে সর্বোচ্চ বিশ্বাসের পর হঠাৎ কোন ব্যক্তি স্বার্থে তারা আমাদের এমন সব ঘটনার মুখোমুখি করে যার জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত থাকি না, হতবাক হয়ে কষ্ট পাই।


আমি সর্বান্তঃকরণে বিশ্বাস করি যারা বিশ্বাস ভঙ্গ করে তারা কখনো সুখী হতে পারেনা। পরবর্তীতে পুনরায় অন্যজনে বিশ্বাস করে পথ চলি, কারন মানুষ হিসেবে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য মানুষ ভিন্ন আর কিছু তো আমাদের নাই। আমার উপলব্ধি, সর্বাবস্থায় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি সম্মান করা উচিত, অন্যকে বেশি প্রাধান্য দিলে তার অবহেলায় কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মনে রাখতে হবে, আমরা কখনোই কারো জন্য বিশেষ বা অতীব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারিনা, সময় পরিবর্তন হয়, কারো জন্য বিশেষ হওয়ার চেষ্টা না করে নিজেকে নিজের জন্য বিশেষ করার চেষ্টাই উত্তম। একান্তে ভেবে দেখার অনুরোধ রইল, ধরাধাম থেকে চির বিদায়ের দিন ও অতঃপর কতজনের ভাবনায় জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণে আমাদের অনুপস্থিতি আন্তরিক কষ্টের কারন হবে; আমাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় কতজনার চোখের কোন মাঝেমধ্যেই ভিজে উঠবে ! সুতরাং সর্বাগ্রে নিজেকে জানা, ভালোবাসা ও যোগ্য করে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আপন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গঠনমূলক অবদান রাখার মাধ্যমে কারো মনের মনিকোঠায় এতোটুকু জায়গা করে নেয়াই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এ ধরাধামে লক্ষ কোটি মানব সন্তানের নিয়ত আসা-যাওয়ার মধ্যে সময়ের আবর্তে নিজেকে স্মরণীয়-বরণীয় করার মতো পরম প্রাপ্তি আর কিছুতেই নাই। স্বভাবতই মানুষ নিজের প্রশংসা খুব উপভোগ করে। ক্ষণস্থায়ী বাহ্যিক রুপ-যৌবন, ধন-দৌলত নিয়ে করা অন্যের প্রশংসা বাক্যে আনন্দিত হওয়া হাস্যকর বোধ হয়। মনের সৌন্দর্য বিকশিত করে সমাজ সংসার আলোকিত করার মাধ্যমে অন্যের প্রশংসা বাক্য অর্জন করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। মনের আলো বিকাশে নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলন এর পাশাপাশি, বই পড়া ও শরীর চর্চা অত্যন্ত জরুরী। দৈনন্দিন জীবনাচরনে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে মনে রাখতে হবে আমাদের অতি প্রিয় সন্তান-সন্ততি প্রতিনিয়ত আমাদের অনুকরণ করে শিখছে যা ভবিষ্যতে তাদের জীবন গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।সুখী-সমৃদ্ধ, আলোকিত জীবন গঠনে সুস্বাস্থ্যের কোন বিকল্প নেই। ছেলেবেলায় পড়া খুবই ছোট একটা বাক্য " স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল " সেটার মাহাত্ম্য যে এত এত বেশি তা আমরা বিশ্ব মহামারীর দুর্যোগপূর্ণ আজকের এ দিনগুলোতে অনুক্ষণ অনুভব করছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরো কি ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে সেটা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। ডিজিটাল এ সময়ে চারিপাশে শত সহস্র আসল-নকল তথ্যের মধ্যে নিজ দায়িত্বে তথ্য বাছাই করতে হবে। মনে রাখতে হবে একজনের পক্ষে কখনোই সবকিছু জানা সম্ভব নয়। অপ্রয়োজনীয় তথ্যে বিভ্রান্ত হওয়া সময়ের অপচয় মাত্র। বর্তমান সময়ে সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য বাছাই পূর্বক সময়ের সদ্ব্যবহার অতীব জরুরী। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় আমাদের স্বার্থপরের মতই চিন্তা করা উচিত মনে করি। এ মুহূর্তে সর্বাগ্রে নিজ স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিজন এর স্বাস্থ্য ও সহযোগিতায় বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত। স্বার্থপরের মতই এভাবে আমরা যদি প্রত্যেকে নিজে ভালো থেকে নিজের পরিবার-পরিজনদের ভালো রাখার চেষ্টা করি তাহলে সামগ্রিকভাবে সবাই ভালো থাকবে, সমাজ ভালো থাকবে, রাষ্ট্র ভালো থাকবে। সহজভাবে বলা যায়- আমি যেন অন্য কারো রোগের কারণ না হই। এছাড়া সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিবর্গের সর্বোচ্চ সৎ অংশগ্রহণে ব্যক্তি সমাজ রাষ্ট্রের সমন্বিত কার্যক্রমে অসহায় গরীব দুঃখীদের সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সকলের সুস্বাস্থ্য ও সুখী পরিবার কামনা করছি। Vera Lynn wartime song “we will meet again” অনুযায়ী বলছি - আবারো আমাদের দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ।
লেখকঃ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ভূঁঞা, ব্যাংকার।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close