৩০ মে ২০২০, শনিবার ০৮:৪৫:২৪ পিএম
সর্বশেষ:
পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কাউকে ঘরে ঢুকাবেন না, কোনো সন্দেহ হলে নিকটস্থ থানাকে অবহিত করুন অথবা ৯৯৯ কল করুন: পুলিশ সদর দপ্তর           

২৫ এপ্রিল ২০২০ ০৭:২৮:৪৮ পিএম শনিবার     Print this E-mail this

কষ্টে আছেন শিল্পী আকবর

বিনোদন ডেক্স
বাংলার চোখ
 কষ্টে আছেন শিল্পী আকবর

রিক্সাচালক থেকে গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন যশোরের আকবর। রাতারাতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে তার গানের খ্যাতি। তবে দুঃসংবাদ হচ্ছে, সেই আকবর বর্তমানে মোটেও ভালো নেই। অসুস্থ থাকার পরেও তার ঔষধ কেনার টাকা নেই, ঘরে খাবার নেই। স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে উপোষও থাকতে হচ্ছে ‘তোমার হাত পাখার বাতাসে’ গানের এ শিল্পীকে।

শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে নিজের কষ্টের কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন আকবর। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ একটা কাজ করেছিলাম। প্রায় দু’মাস হলো ঘরে বসে আছি। মিরপুর-১৩ এলাকায় থাকি। চারদিক লকডাউন। ঘর ভাড়া দিতে পারিনি। বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। বাসার পাশে দোকানে বাকি করে খেতে অনেক ঋণ হয়ে গেছে। দু’দিন আগে দোকানদার বাকিতে জিনিস দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ঘরে খাবার নেই। এজন্য উপোষ থাকতে হচ্ছে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি।

গতবছর জানুয়ারিতে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন আকবর। কিডনি সমস্যা, রক্ত শুন্যতা, টিবি ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন এ গায়ক। তার শরীরে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। সেজন্য কোমর থেকে দুই পা অবশ ছিল। রোগ ও আর্থিক সংকটে তখন মুমূর্ষু ছিলেন আকবর। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আকবরকে ডেকে তার চিকিৎসার জন্য ২০ লাখ টাকা (সঞ্চয়ী পত্র) অনুদান দিয়েছিলেন। তারপরও এই দৈন্যদশা কেন?

আকবর বলেন, ২০ লাখের সঞ্চয়ীপত্র ছাড়া নগদ ২ লাখ টাকার চেক পেয়ে ঢাকার পিজি হাসপাতাল ও ইন্ডিয়া থেকে উন্নত চিকিৎসা নিয়েছিলাম। এছাড়া প্রতি ৩ মাস পর পর সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয়ী পত্র থেকে ৪৯ হাজার টাকা করে পাই চিকিৎসা বাবদ। সর্বশেষ জানুয়ারিতে টাকা তুলেছিলাম। আগামী মাসে টাকা তুলে এরমধ্যে ঋণ হয়েছে তা শোধ করতে হবে। ওদিকে শরীর আবার খারাপ হতে শুরু করেছে। ভাতই খেতে পারছিনা এরমধ্যে আবার ঔষধ কই পাবো?

আকবর আরও বলেন, দুইমাস ঔষধ খেতে না পেরে চিন্তায় অনাহারে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছি। সারা শরীরে ফোসকা আর ঘা দেখা দিয়েছে। আমার আত্মীয় স্বজন নেই। শ্বশুরবাড়ি থেকেও আমাকে মেনে নেয়নি। তাই তাদের কোনো হেল্প কখনো পাইনি। বন্ধু বান্ধব আমার নেই বললেই চলে। করোনার সময় সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুবই সমস্যার মধ্যে আছি। কার কাছে হেল্প চাইবো? লজ্জা লাগে। এখন আমার বাসায় খুব করুণ অবস্থা। দুঃখ কষ্টের বিষয়গুলো অভিভাবক বলতে ইনি ছিলেন তাকে জানালে তিনিও কিছু করেননি। আমি এখন খুব কষ্টে আছি এটা বলে বোঝাতে পারবো না।

তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে শুনছি মিডিয়ার অসচ্ছল মানুষ ও শিল্পীকে সাহায্য সসহযোগীতা করা হচ্ছে। এছাড়া রাস্তায় অনেক সময় এসে সাহায্য দিচ্ছে। কিন্তু পকেটে যাতায়াতের টাকা নেই। ফোন করে কারো কাছে সাহায্যের কথাও বলতে পারছি না। কারণ এই সময়ে কেউ ভালো নেই। ফোন করলে বিরক্তবোধ করবে। জানিনা ভবিষ্যতে কি অবস্থা করছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো অনাহারে মারা যেতে হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close