৩১ মে ২০২০, রবিবার ১০:৪৫:৫২ পিএম
সর্বশেষ:
পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কাউকে ঘরে ঢুকাবেন না, কোনো সন্দেহ হলে নিকটস্থ থানাকে অবহিত করুন অথবা ৯৯৯ কল করুন: পুলিশ সদর দপ্তর           

২০ মে ২০২০ ০১:৩৮:০২ এএম বুধবার     Print this E-mail this

ত্রাণ তহবিলে টাকা পাঠানোতে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 ত্রাণ তহবিলে টাকা পাঠানোতে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর জন্য আদায় করা টাকাতেও নয়-ছয় করার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, প্রানঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে সরকারী ভাবে অঘোষিত লকডাউনে রয়েছে
দেশ। ফলে দেশে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কর্মহীন মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা অব্যহত রেখেছে সরকার। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা এবং ব্যাক্তিগত ভাবে ত্রাণ বিতরন করছেন অনেকেই। অনেকেই দেশের ক্লান্তিকালে সরকারকে সহায়তা করতে ব্যাক্তিগত অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দিচ্ছেন।
সরকারী অনেক প্রতিষ্ঠান তার বিশাল কর্মীবাহিনীর বেতনের অংশ ওই ত্রাণ তহবিলে জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিত্তবানের পাশাপাশি ভিক্ষুকও দান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতার ২০ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেন। তাই দেশের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ও শিক্ষকদের ওই অর্থ প্রদানের জন্য নির্দেশনা জারি করেন অধিদফতর।
লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ৪টি উপজেলাতে বৈশাখী ভাতা ছাড় দেয়ার আগেই ২০শতাংশ কেটে ব্যাংকে দেয়া হলেও আদিতমারী উপজেলায় সমুলে ছাড় দিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে হাতে হাতে বা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকার। কিন্তু আদায়ের চেয়ে অনেক কম পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
যা নয়- ছয় হিসাব দিচ্ছেন বলেন শিক্ষকদের অভিযোগ। শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোট ১০৮ জন প্রধান শিক্ষক ও ৫৫৬জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে ৪টি বিল সীটের মাধ্যমে ২১ লাখ ৬৫২ টাকা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ৩২হাজার ১৫০ টাকা বৈশাখী ভাতা প্রদান করে সরকার। যার ২০শতাংশ ৪লাখ ২৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং শিশু কল্যানের ২হাজার ২২৫টাকা নিয়ে সর্বমোট ৪লাখ ২৮হাজার ৭৮৫টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকার শিক্ষা অধিদফতরে পাঠিয়েছেন মাত্র ৪লাখা ১১হাজার ৯৭০ টাকা। যার মধ্যে ১৬ হাজার ৮১৫ টাকার কোন হদিস নেই। অবশিষ্ট এ অর্থ শিক্ষা অফিস আতœসাৎ করেছেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, প্রতিজন শিক্ষক বিকাশ খরচসহ পাঠিয়েছি। কম দেয়ার কোন সুযোগ নেই। বরংচ বিকাশ খরচ হিসাবের চেয়ে অনেকেই বেশি পাঠিয়েছেন। টাকা নয়-ছয় করতেই শিক্ষা অফিস ভাতা ছাড় দিয়ে বিকাশে আদায় করেছেন। মোট ভাতার ২০শতাংশের হিসাব করে তো পাঠাতে পারতেন। আত্মসাৎ করার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় শিক্ষকদের দায়ি করতে কম বা না দেয়া ভিত্তহীন অভিযোগ তুলছেন শিক্ষা অফিসার।
ইতিপুর্বেও সরকারী অর্থ উত্তোলন করে নিজের হিসাব নম্বরে রাখার দায়ের উকিল নোটিশ পেয়েছিলেন এই কর্মকর্তা। যা পরে বিদ্যালয় কমিটিকে পরিশোধও করেন বলেও জানান শিক্ষকরা।
তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকার বলেন, বেতন ভাতা কর্তন করার নিয়ম নেই। তাই সবাইকে তাদের প্রাপ্প বুঝে দিয়ে ত্রাণ তহবিলের জন্য এটিওদের মাধ্যমে ২০ শতাংশ বিকাশে আদায় করা হয়েছে। আত্মসাৎ শিশু কল্যানসহ ৪লাখ ১১হাজার ৯৭০টাকা আদায় করে পাঠানো হয়েছে। হয়তো কেউ জমা দেননি। তাই কম গেছে। অফিস খুললে তদন্ত করে দেখা হবে কে জমা দেয়নি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close