২৭ মে ২০২০, বুধবার ০৫:১০:২৪ পিএম
সর্বশেষ:
পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কাউকে ঘরে ঢুকাবেন না, কোনো সন্দেহ হলে নিকটস্থ থানাকে অবহিত করুন অথবা ৯৯৯ কল করুন: পুলিশ সদর দপ্তর           

২৪ মে ২০২০ ০৪:৫৯:৫০ এএম রবিবার     Print this E-mail this

দাকোপে এখনো ভেড়িবাঁধের উপর শত শত পরিবারের বসবাস

বিধান চন্দ্র ঘোষ দাকোপ (খুলনা) থেকে
বাংলার চোখ
 দাকোপে এখনো ভেড়িবাঁধের উপর শত শত পরিবারের বসবাস

আগামীকাল মহা প্রলংকারী ঘূর্নিঝড় আইলার ১১ বছর পূর্তি গেলেও খুলনার দাকোপে এখনো পর্যন্ত ৭৮০ পরিবার ভেড়িবাঁধের উপর ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকার নতুন করে পূনর বাসন না দিলে হয়তো আর কোন দিন ঘরে ফেরা হবে না এমনই অভিমত জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিন এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৫ মে সুন্দরবন লাগোয়া দাকোপের বিভিন্ন জনপদে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। মুহুর্তের মধ্যে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপজেলার ৩টি পোল্ডার। ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয় কামারখোলা সুতারখালী দ‘ুটি ইউনিয়ন। এসময় প্রান হারায় ১৬ জন, নিখোঁজ হয় ৭ জন, আহত হয় ১১ জন। নদীতে অধিক পানি বৃদ্ধির ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭৫.৫ কিঃ মিঃ ওয়াপদা ভেড়িবাঁধ বিধবস্ত হয়। অসংখ্য পুকুর, চিংড়ি ঘের ডুবে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। গৃহহীন হয় দু‘টি ইউনিয়নের ২৯৮৩২টি পরিবার। আইলার পর সরকারী ও বেসরকারী বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা জনপ্রতিনিধিদের গাফিলতিতে পানিতে ভেসে যায়। পরে অধিক অর্থ ব্যয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভেড়িবাঁধ নির্মান ও ক্লোজার আটকিয়ে দূর্গত এলাকাকে ২০১০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী পানি মুক্ত ঘোষনা করেন। এসময়ে সরকারের আর্থিক সহযোগীতায় এবং পূনরবাসনের আওতায় অধিকাংশ পরিবার ঘরে ফেরেন। আর ভিটে বাড়ি আইলায় সম্পূর্ণ গ্রাস করায় এবং জায়গা জমি না থাকায় এখনো পর্যন্ত কামারখোলার ৮০টি ও সুতারখালীর ৭০০টি পরিবার ভেড়িবাঁধের উপর ঝুপড়ি ঘরে অত্যান্ত মানবেতর জীবন যাপন করে চলেছেন। এছাড়া সুপেয় খাবার পানির চরম সংকট চলছে।
কালাবগী এলাকার রেজাউল ঢালী, আবু তালেব, আঃ গফুর ও ছাত্তার গাজসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আইলায় শিবসা নদী গর্ভে ভিটেবাড়ী, ফসলী জমি বিলিন হওয়ায় এবং আর কোন জায়গা জমি না থাকায় বেঁড়িবাঁধের উপর ঝুপড়ি ঘরে অভাব অনাটনের মধ্য দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। সরকার নতুন করে পূনরবাসন না দিলে হয়তো আর কোনদিন তাদের ঘরে ফেরা হবে না বলে জানান। তাছাড়া কাজ না থাকায় অনেক অসহায় পরিবার জীবিকার সন্ধ্যানে জন্মস্থান ছেড়ে ভিন্ন দেশসহ বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে বলেও জানান।
সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন ভেড়িবাঁধের উপর বসবাসকারীদের জায়গা জমি না থাকায় এবং অনেকের জায়গা ভেড়িবাঁধের বাহিরে পড়ায় ঘরে ফিরতে পারছে না। সরকার ব্যবস্থা না নিলে হয়তো আর কোনদিন ঘরে ফিরতে পারবে না তারা। এছাড়া আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে নতুন করে আরও প্রায় ১ হাজার লোক রাস্তার উপর বসবাস শুরু করেছেন বলে জানান।
কামারখোলা ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডলও একই অভিমত ব্যক্ত করে জানান তার ইউনিয়নেও আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে নতুন ৪৫টি পরিবার ভেড়িবাঁধের উপর বাস করছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ বলেন আশ্রয়ন প্রকল্প গ্রহনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া সরকারী বাড়ি আসছে পর্যায়েক্রমে তাদের দেয়া হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close