১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার ০৪:১৮:৩৮ এএম
সর্বশেষ:

২৭ মে ২০২০ ০২:২৪:০৩ এএম বুধবার     Print this E-mail this

আম্পানে সুন্দরবনের ক্ষতি বুলবুলের ‘৩ গুণ’

ডেক্স রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 আম্পানে সুন্দরবনের ক্ষতি বুলবুলের ‘৩ গুণ’

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে গতবছরের ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের চেয়ে ৩ গুণ বেশি ক্ষতি হয়েছে।আম্পানে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে গঠিত চারটি কমিটির প্রতিবেদনে এমন তথ্যই ফুটে উঠেছে।

আম্পানের তাণ্ডবে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে ২১ মে চারটি কমিটি করে দেয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কমিটিগুলো রোববার বিকালে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। সোমবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, এবার আম্পানে বনের ১২ হাজার ৩৫৮টি গাছ ভেঙেছে। বন বিভাগের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে অন্তত ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের প্রায় এক কোটি ৬৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

এতে বনায়ন করা গাছপালা উপড়ে যাওয়া, বন বিভাগের কয়েকটি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং সুন্দরবনের মধ্যে খনন করা মিঠা পানির ১৭টি পুকুরে লবণ পানি প্রবেশ করে মিঠা পানির উৎস নষ্ট হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক বনজসম্পদ এবং বন্যপ্রাণির কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আম্পানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করার জন্য গঠিত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর মঙ্গলবার সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডিএফও মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বন বিভাগের তথ্য মতে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের আওতাধীন এলাকায় ১০টি রেন্টি গাছ, দুটি তাল গাছ, পাঁচটি নারিকেল গাছ, সাতটি ঝাউগাছ, একটি বটগাছ ও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া বনের মধ্যে ১৮টি জেটি, ২৪টি অফিস ও স্টাফ ব্যারাক, ২১টি সোলার, এক হাজার ২৫৫ মিটার রাস্তা, গ্যাংওয়ে পল্টুন আটটি, ওয়াচ টাওয়ার একটি, ফুট ট্রেইল দুটি, পানির ট্যাংক ১৬টি, হরিণ রাখার খাচার সেট একটি, ডলফিন প্যাবিলনের ফাইবার একটি, পাবলিক টয়লেট একটি, আরসিসি বেঞ্চ ট্রান্সফর একটি এবং দুটি গোলঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা এক হাজার ১২৪ ঘনফুট সুন্দরী গাছ।

বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরুপণের গঠিত কমিটির সদস্যরা সুন্দরবন পূর্ব এবং পশ্চিম বিভাগের আওতাধীন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, শুধুমাত্র সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের আওতাধীন এলাকায় এক কোটি ৬৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বনাঞ্চলের ক্ষতি সাত লাখ ৬১ হাজার টাকা এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি এক কোটি ৬০ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা। তবে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বনসম্পদ এবং বন্যপ্রাণীর কোনো ক্ষতি হয়নি।

ক্ষয়ক্ষতির এ প্রতিবেদন ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন।

২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের ৪ হাজার ৫৮৯টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন বিভাগের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৬২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলেরর বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খাঁন সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “সুন্দরবনকে সময় দিলে সিডর, আইলা ও বুলবুলের আঘাতের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মত করেই আম্পানের ক্ষয়ক্ষতিও কাটিয়ে উঠবে।”

এ প্রসঙ্গে খুলনাস্থ সুন্দরবন ওয়াচ গ্রুপের আহবায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, প্রাকৃতিক নিয়মে সুন্দরবন তার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের কাজ হবে বনকে রক্ষা করা। সেটা বেআইনী কাঠ সংগ্রহকারীদের কবল থেকেই হোক বা প্রকৃতি বিধ্বংসী কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমেই হোক। কারণ সুন্দরবন আবারো দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে শক্তিশালী ঝড়কে বুক পেতে ঠেকিয়ে দিয়ে দেশকে ব্যাপক জীবন ও সম্পদহানি থেকে রক্ষা করেছে।

উল্লেখ্য, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান গত ২০ মে সন্ধ্যায় প্রচন্ড গতিতে সুন্দরবনে আঘাত হানে। সে সময় এ ঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে ছিল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১২ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। এরপর রাতে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়।

এ দুর্যোগে মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঝড়ে গাছ বা ঘর চাপা পড়ে অন্তত ২৩ জনের প্রাণ যায়। প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা ভেঙে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন দেশের অর্ধেকের বেশি গ্রাহক। উপকূলের বিভিন্ন এলাকার বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন বুক পেতে ঢাল হয়ে ঝড়ের গতি কমিয়ে না দিলে জানমালের ক্ষতি হত আরও অনেক বেশি। এক যুগ আগে ঘূর্ণিঝড় সিডরও আছড়ে পরেছিল সুন্দরবনের উপর যা রক্ষা করেছিল উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই ঝড়ে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অনেক বেশি। তবে কয়েক বছরের মধ্যে প্রাকৃতিক নিয়মে অনেকখানি সামলে ওঠে সুন্দরবন। গতবছরের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলও এসেছিল একই পথ ধরে, তখনও ঢাল হয়ে ঝড় ঠেকিয়ে দিয়েছিল এই সুন্দরবন।

এবারের আম্পানে সুন্দরবনের বাঘ, হরিণসহ অন্য কোনো বন্যপ্রাণীর তেমন ক্ষতির তথ্য মেলেনি বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “সুন্দরবন নিজে থেকেই বুলবুলের ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে। আম্পানের ক্ষয়ক্ষতিও সুন্দরবন নিজেই কাটিয়ে উঠবে। আমাদের কেবল বন বিভাগের প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলো মেরামত করতে হবে।”

পার্সটুডে

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close