০৯ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার ০৯:২৯:৩২ পিএম
সর্বশেষ:

৩০ মে ২০২০ ০৬:২২:৫৯ এএম শনিবার     Print this E-mail this

দাকোপে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার হাজার হাজার মানুষ দিশেহারা

বিধান চন্দ্র ঘোষ দাকোপ (খুলনা) থেকে
বাংলার চোখ
 দাকোপে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার হাজার হাজার মানুষ দিশেহারা

খুলনার দাকোপে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে কয়েকটি স্থান মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব স্থানগুলি দ্রুত মেরামত না করলে যে কোন মুহুর্তে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হতে পারে। আর এই আশঙ্কায় তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ইতি মধ্যে ভাঙ্গন কবলিত কয়েকটি স্থান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তাগণ পরিদর্শনও করেছেন।
সরেজমিনে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ভৌগলিক অবস্থানের কারনে তিনটি পৃথক দ্বীপের সমন্বয় এই উপজেলা গঠিত। এখানে প্রায় সারা বছর ধরে চলে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। আর প্রতিনিয়ত এখানকার স্থানীয় বাসিনন্দারা ভাঙ্গনের কবলে পড়ে তাদের সহায় সম্পত্তি হারিয়ে দিন দিন নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। শধু মাত্র নদী ভাঙ্গনের কারনে অসহায় সম্পত্তি হারিয়ে ছিন্ন মুল হয়ে পড়েছেন এমন লোক গোটা উপজেলায় অনেক রয়েছেন। আবার অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে পাশ^বর্তী দেশ ভারতে চলেও গেছেন। উপজেলার চারপাশ জুড়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদীর মধ্যে রাক্ষুসী শিবসা, ঢাকী, চুনকুড়ি, পশুর, ঝবঝপিয়া ও মাঙ্গা নদীর ভাঙ্গন এখনও পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য। যে কারনে ক্রমেই দিনদিন ছোট্ট হয়ে আসছেন জনবসতীর মানচিত্র।
সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে পানখালী ইউনিয়নের খলিসার গেট, পুরাতন ফেলীঘাট, জাবেরের খেয়াঘাট, ইয়াসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে, মৌখালী দোয়ানির গেটের পশ্চিম পাশে ও পশ্চিম পাড়া বটতলা খাল, কামার আবাদ ও খোনা মোল্যা বাড়ি সংলগ্ন। চালনা পৌর এলাকার গোড়কাটি এনামুলের স্ব-মিল সংলগ্ন। তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া বাজার হতে গাইন বাড়ি, কামনিবাসিয়া গাইন বাড়ির সামনে ও পুরানো পুলিশ ফাড়ি হতে ঝালবুনিয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত একাধীক স্থান মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। সম্প্রতি আম্ফান ঝড়ের প্রবল পানির তোড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ এসব স্থানগুলি দ্রুত মেরামত না করলে যে কোন মূহুর্তে নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হতে পারে। আর এতে অসংখ্য মৎস্য ঘের তলিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ভেসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া এতে একমাত্র নির্ভরশীল আগামী আমন চাষ মারাত্মক ভাবে ব্যহত হতে পারে বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাছাড়া এসব স্থানের লোকজন ভাঙ্গন আতংকের মধ্য দিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ কামনিবাসীয়া এলাকার রাম ঢালী, তারাপদ দাস, সুশান্ত গোলদারসহ একাধীক ব্যক্তি বলেন জায়গা জমি যা ছিল বসতবাড়িসহ সবটুকু ঢাকী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখন ওয়াপদা রাস্তার উপর খোলা আকাশের নীচে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছি। তাদের মতো আরও অসংখ্য পরিবারের একই অবস্থা বলে জানান।
তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত কুমার মন্ডল জানান এপর্যন্ত ভাঙ্গনে অনেক লোকের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এদের অনেকেই এখনো পর্যন্ত বেড়িবাঁধের উপর মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই মুহুর্তে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বাঁধ না দিলে ব্যাপক এলাকা তলিয়ে যেতে পারে। আর অসংখ্য মাছের ঘের ভেসে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া এ অঞ্চলে একমাত্র নির্ভরশীল আগামী আমন চাষ মারাত্মক ভাবে ব্যহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। ভাঙ্গনে ভেঙ্গে প্লাবিতর আশঙ্কায় তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ নির্ঘম রাত কাটাচ্ছেন বলে তিনি জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েও শুধু আশ^াস ছাড়া আর কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। সরকারী বরাদ্দের পর কাজ হতে অনেক সময়ে লাগবে। কিন্তু সেই পর্যন্ত কিভাবে বাঁধ টিকিয়ে রাখবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না বলে জানান।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ বলেন পানি সম্পদ প্রতি মন্ত্রী ভাঙ্গন কবলিত ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেছেন। বরাদ্দ আসলে কাজ শুরু হবে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন নদী ভাঙ্গনে কয়েকটি স্থান মারাত্মক ঝঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার পানি সম্পদ প্রতি মন্ত্রী ভাঙ্গন কবলিত কানিবাসিয়ার কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেছেন। আশু ভাঙ্গন রোধে এলাকার লোকজন কাজ করছেন। আমরা শুধু জিও ব্যাগসহ কিছু সরঞ্জামাদির সাপোর্ট দিচ্ছি। বরাদ্দ আসার সাথে সাথে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে টেকসই মজবুত বাঁধের কাজ শুরু করবেন বলে জানান।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close