০৯ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার ০৯:৩৭:১৪ পিএম
সর্বশেষ:

২৫ জুন ২০২০ ০১:২৬:১১ এএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

কোটালীপাড়ায় ভাঙ্গারী ব্যবসায় ধস, তিন হাজার ফেরিওয়ালার দুর্দিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, গোপালগঞ্জ
বাংলার চোখ
 কোটালীপাড়ায় ভাঙ্গারী ব্যবসায় ধস, তিন হাজার ফেরিওয়ালার দুর্দিন

করোনার মধ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ভাঙ্গারী ব্যবসায় ধস নেমেছে। করোনা সংক্রমন শুরুর পর এ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। মাহাজনরা বাড়ির পাশের খালে ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত নৌকা নোঙ্গর করে রেখেছেন। এ ব্যবসার সাথে জড়িত ৫০ মহাজন ও ৩ হাজার ফেরিওয়ালা বেকার হয়ে পড়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মাহাজনদের কাছ থেকে সাড়ে ৭ কোটি টাকা দাদন নিয়েছেন ফেরিওয়ালারা। দাদনের টাকা ফেরিওয়ালারা সংসারের পেছনে খরচ করেছেন।

এদিকে ভাঙ্গারী মহাজনরা ফেরিওয়ালাদের দাদন দিয়ে পুঁজি সংকটে পড়েছেন। এখন ফের ব্যবসা শুরু করতে মাহাজনরা সরকারের কাছে স্বল্প সুদে ঋন চেয়েছেন।

কোটালীপাড়া উপজেলার কুরপালা গ্রামের মহাজন মোঃ রাসেল ব্যাপারী, তাড়াশী গ্রামের কালাম ও নাসির ব্যাপারী বলেন, আমরা ৫০ ভাঙ্গারী মহাজন বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, নড়াইল, বাগেরহাট, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ দক্ষিাণাঞ্চলে নৌকায় করে ভাঙ্গারী মাল ক্রয় করি। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে আমাদের ফেরিওয়ালারা ভাঙ্গারী লোহা লক্কর, প্লাষ্টিক সামগ্রী কিনে এনে আমাদের নৌকায় জমা দেন। এ জন্য আমরা ৩ হাজার ফেরিওয়ালার প্রত্যেককে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা দাদন দিয়েছি। এ টাকা তারা সংসারের পেছনে খরচ করে ফেলেছে।

তারা আরো বলেন, আমরা ঢাকার ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের কাছে এসব পন্য সরবরাহ করতাম। করোনর মধ্যে ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। বিশাল পরিমান ফেরিওয়ালা ও আমাদের সংসার চালাতেই আমরা পুঁজি সংকটে পড়েছি। নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারছিনা। সরকার স্বল্প সুদে ঋনের ব্যবস্থা করলে আমরা ফের এ ব্যবসা শুরু করতে পারবো। এটি করা হলে এ ব্যবসার সাথে যুক্ত প্রায় ৪ হাজার পরিবার বেঁচে যাবে।

ফেরিওয়ালা ফরিদ শেখ, মাসুম মোল্লা ও রইচ মোল্লা বলেন, আমরা মহাজনদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা দাদন নিয়েছি। এ জন্য আমরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিভিন্ন পণ্যের বিনিময়ে ভাঙ্গারী সংগ্রহ করে ব্যাপারীদের কাছে এনে দেই। আমরা ব্যাপারীদের কাজ থেকে যে টাকা নিয়েছি তা আমরা সন্তানদের লেখাপড়া, জমি ক্রয় ও সংসার চালাতে ব্যয় করেছি। আমাদের কাছে কোন নগদ টাকা নেই। এছাড়া এ কাজের জন্য আমরা পারিশ্রমিকও পেতাম। করোনার মধ্যে ব্যবসা বন্ধ তাই পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ব্যবসা শুরু না হলে আমাদের খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে মানবিক এই বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করবো।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close