১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার ০৩:২০:১০ এএম
সর্বশেষ:

১১ জুলাই ২০২০ ১০:৫২:৪১ পিএম শনিবার     Print this E-mail this

চুয়াডাঙ্গায় মুখী কচুরর ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাঁসি

রানা কাদির, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 চুয়াডাঙ্গায় মুখী কচুরর ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাঁসি

খাদ্য শস্য ও অর্থকরী ফসলের পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গায় কৃষকরা নানা ধরণের সবজির আবাদ করে থাকেন। ভুট্টা ও ধানের পরেই জেলায় সবজির অবস্থান। ভুট্টা ও আমন ধানের মাঝামাঝি এই জেলার প্রান্তিক কৃষকরা অধিক মুনাফার আশায় মুখী কচুর আবাদ করে থাকেন। সরে জমিনে যেয়ে জানা গেছে, তিন মাস বা সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে মুখীকচুর আবাদ করে অল্প পরিশ্রমে লাভবান হচ্ছেন জেলার প্রান্তিক কৃষকরা। সাধারনত উঁচু জমিতে এই ফসলের ফলন ভাল হয়। অসময়ে বাজার ভাল পেয়ে লাভবান হওয়ায় জেলার প্রান্তিক কৃষক ঝুঁকছেন এই ফসলে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলার কৃষকরা ১ হাজার ১৯৮ হেক্টর জমিতে মুখীকচুর আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৬৩ হেক্টর জমিতে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে, দামুড়হুদা উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে ও জীবননগর উপজেলায় ৯৫হেক্টর জমিতে। কচু উৎপাদন হয়েছিল ২৮ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন। গত বছর ভালো মুনাফা পাওয়ায় চলতি বছর ২৭৬ হেক্টর বেশি জমিতে মুখী কচুর আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে সদর উপজেলায় ৮৮৮ হেক্টর জমিতে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৫৬ হেক্টর জমিতে, জীবননগর উপজেলায় ১৩০ হেক্টর জমিতে ও দামুড়হুদা উপজেলায় ১০০ হেক্টর মোট ১ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমিতে মুখীকচুর আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে এ আবাদের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া, হারদি, চিৎলা, জেহলা, বলিয়ারপুর, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া, খেজুরতলা, গাইদঘাট, দিননাথপুর, সরোজগঞ্জ, দামুড়হুদার বিঞ্চপুর, কার্পাসডাঙ্গা, বাঘাডাঙ্গা, হোগলডাঙ্গা ও জীবননগরের বাঁকা এলাকায় এই ফসলের আবাদ হয়ে থাকে।
দামুড়হুদা উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, আমি চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে মুখী কচুর আবাদ করেছি। ফাল্গুন মাসে সাধারনত এ ক্ষেত রোপন করা করা হয়। আষাঢ় মাসে ওঠানো হয়। এক বিঘায় তিন থেকে ৪ মন বীজ লাগে। নিজের স্যালো মেশিন না থাকলে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। থাকলে খরচ একটু কম হয়। বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়। একই গ্রামের আসাদুল হক বলেন, আমি ভুট্টা কাটার পর চৈত্র মাসে ১০ কাঠা জমিতে কচুর আবাদ করেছিলাম। ভালো হলে কাঠা প্রতি ৪ মন পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্তমান ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে খুচরা বাজরে কেজি প্রতি কচু বিক্রি হচ্ছে। কচুতে লোকসান নেই লাভই হয়। আবার ওই জমিতে আমন ধানের আবাদ হয় ।
আলমডাঙ্গা উপজেলা গৌড়িহ্রদ গ্রামের কৃষক এখলাছুর রহমান জানান, এক বিঘা জমিতে আমি কচুর আবাদ করেছি। এ বছর বাজার ভালো। এক বিঘা জমিতে ৭০ মনের নীচে নয়। উপরে ৯০ মন পর্যন্ত হয়ে থাকে। এখন ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দামে মন প্রতি কচু বিক্রি হচ্ছে। এমন বাজার থাকলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা কচু বিক্রি করে মুনাফা থাকবে।
আলমডাঙ্গা জেহালা ইউনিয়নের কৃষক আহসান আলী জানান,বিঘা প্রতি কচু লাগাতে ৪ টি লেবার লাগে। ওঠানোর সময় লাগে ৪০ থেকে ৫০ টি লেবার। তিনি জানান, এ বছর কচুর বাজার মুল্য ভাল হওয়ায় কৃষকরা ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিঘা প্রতি পাইকারী দরে বিক্রি করতে পারবে। বর্তমান বাজার মূল্যে কৃষকরা বেশ খুশি।
স্থানীয় ব্যবসায়িকরা গাংনী, ভাংবাড়িয়া, হারদি, মোমিনপুর, ডিঙ্গেদাহ, বেগমপুর, কার্পাসডাঙ্গা থেকে কচু ক্রয় করে ট্রাক যোগে খুলনা, ঢাকা, চিটাগাং, ফরিদপুর ও মাগুড়াতে পাঠায়। সেখানে কচুর পাইকারী বাজার গড়ে উঠেছে।
করোনার কারণে অনেক ব্যবসায়ী দু‘শ্চিন্তায় আছে। মুকাম কচুর বাজার কেমন যাবে ? বিশেজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, ক্লান্তি হ্রাস করে কচুর মুখি এনার্জি ধরে রাখতে ও ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। ওজন কমানোর জন্য বেশ কার্যকর। কারণ এর ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। হজম সহায়ক এই সবজিতে প্রচুর ফাইবার থাকে বলে পরিপাক প্রক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। পাকস্থলী পরিষ্কার করে ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে পরিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার পাশাপাশি পাকস্থলীর বর্জ্য পদার্থ নিস্কাশনেও সাহায্য করে কচুর মুখি।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুফি রফিকুজ্জামান জানান, সাধারনত কৃষকরা ফাল্গুন বা ভুট্টা কেটে চৈত্র মাসে অধিক মুনাফার আশায় মুখী কচুর আবাদ করে থাকে । এই ফসল সাধারনত উঁচু জমিতে ভাল হয়। তিন বা সাড়ে তিন মাসে অল্প খরচে কৃষকরা ভাল ফলন পেয়ে থাকে । বর্তমানে মন প্রতি ১১০০টাকা থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলায় এবার ১ হাজার ৪৭৪ হেক্টর বা ১১হজার ১০ বিঘা জমিতে মুখী কচুর আবাদ করেছে কৃষকরা । যদি গড়ে বিঘা প্রতি ৭৫ মন দরে কচু উৎপন্ন হয় তবে ৮২ লক্ষ ৫ হাজার ৮শ ৮ মন কচু উৎপন্ন হবে । মন প্রতি তারা ১১০০টাকা গড়ে কচু বিক্রি করতে পারলে ৯০ কোটি ৮৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩৫০ টাকায় কচু বিক্রি করে জেলার অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close