০৭ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার ০৯:৩০:২৫ এএম
সর্বশেষ:

১২ জুলাই ২০২০ ১০:৩৬:৪৩ পিএম রবিবার     Print this E-mail this

করোনায় ঘরবন্ধী মানুষের বন্যায় বিপর্যস্ত জীবন

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 করোনায় ঘরবন্ধী মানুষের বন্যায় বিপর্যস্ত জীবন

সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় করোনায় ঘরবন্ধী থাকা অবস্থায় দেশে আবারো বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। টানা ৩দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্যায় ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পানি বন্ধী হয়ে পড়েন লাখো মানুষ। থাকা খাওয়া, প্রাকৃতিক কাজ ও গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। অনেকে গরু ছাগল নিয়ে সড়ক ও বাঁধে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। শুকনো খাবারের জন্য বন্যার্তদের মাঝে হাহাকার দেখা দিয়েছে। সরকারী পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তাও অপ্রতুল বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। অনেক গ্রামের বেশীর ভাগ টিউবওয়েল পানিতে ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ফলে ডায়রিয়া সহ নানা ধরণের পানি বাহিত রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়ার আশংখা করেছেন উপজেলাবাসী। বিভিন্ন গ্রামে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে অনেক পরিবার। বন্যায় ডুবে গেছে গ্রামীন সড়ক, ক্ষেতের ফসল, ভেসে গেছে মাছের খামার সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ভানের পানি দেশে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী সপ্তাহেও বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা। বিগত বন্যায় বন্যার্তদের জন্য নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খুলতে নির্দেশ দেন উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু বর্তমান বন্যায় বেশীর ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় নতুন শংকার সৃষ্টি হওয়াতে জন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ্রিতদের সাথে উপজেলা প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান ও তদারকী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। বন্যায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম দূর্ভোগে দিনাতিপাত করছেন। আবার যার ঘরে খাবার আছে, তারাও ঘরে পানি উঠায় চুলা জ্বালাতে পারছেনা। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে আছে অনেকেই। কিছু রাস্তা শুকনা, আবার কিছু রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় উপজেলার সাথে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্নই বলা যায়। মাছের খামারীরা লাখ লাখ টাকা খরচের পর বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে যাওয়ায় লোকসান কাটিয়ে উঠা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২৫ হেক্টর আউস ধান ৬০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি সবই এখন পানিতে নিমজ্জিত। মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায় বিগত বন্যায় যে কয়টি পুকুর জেগেছিল তাও এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। খামারীরা প্রায় কোটি টাকার উপরে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী জানান রাস্তা ঘাটের অবকাঠামো নষ্ট হয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায় ১২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝে ২৮টি বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৪২টি বিদ্যালয় পানিতে তলিয়ে গেছে, যে কয়টি আছে তাও পানি বাড়লে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায় জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সহ উপজেলার ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব জানান উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বেশীর ভাগ গ্রামের মানুষ পানিবন্ধী অবস্থায় রয়েছে। ৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে পানিবন্ধী মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। ৬টি ইউনিয়নে ২৬টন জিআর চাউল, দেড় টন চিড়ামুড়ি ২৫০শত পরিবারের মাঝে রান্না করা খিচুরী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট , মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ করা হয়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close