০৭ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার ১০:০৪:৫৮ এএম
সর্বশেষ:

১৩ জুলাই ২০২০ ০২:৫৩:৩৪ এএম সোমবার     Print this E-mail this

তিস্তা ব্যারেজে রেড এলার্ট,তীরবর্তী লোকজনকে নিরাপদে যেতে পাউবোর মাইকিং

তন্ময় আহমেদ নয়ন, জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট থেকে
বাংলার চোখ
 তিস্তা ব্যারেজে রেড এলার্ট,তীরবর্তী লোকজনকে নিরাপদে যেতে পাউবোর মাইকিং

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ভারত থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি আসায় তিস্তা ব্যারেজ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যারেজ রক্ষার্থে যেকোনো মুহূর্তে ফ্লাট বাইপাস কেটে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে পাউবো।
রোববার (১২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 তিনি জানান, রাত ৯টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫৩ দশমিক ১০ মিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ মি.) বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সকাল ১০টায় তিস্তার পানি কমতে থাকলেও বেলা ১২টায় পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। যে কারণে তিস্তার তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, তিস্তা ব্যারেজের সব কয়টি গেট খুলে দিলেও পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে তিস্তা পাড়ে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফ্লাট বাইপাস কেটে দেওয়া হলে তিস্তার পানি লালমনিরহাটসহ ৫টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়বে। তাছাড়াও হাতীবান্ধা-বড়খাতা বাইপাস সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে যে কোনো সময় পাকা সড়কটি ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, অতিবৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। চারদিকে অথৈ পানির কারণে গবাদি পশুপাখি নিয়ে অনেকটা বিপাকে চরাঞ্চলের খামারি ও চাষিরা।

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট এ বন্যায় পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলার নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে এসব ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দী।

পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার তীরবর্তী এলাকার ব্রিজ, কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। ভেসে যাচ্ছে শত শত পুকুরের মাছ। নষ্ট হয়েছে চাষিদের বাদাম, ভুট্টা ও সবজিসহ নানান ফসল।

চরাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষ শিশুখাদ্য ও নিরাপদ পানির সমস্যায় পড়েছেন। তিনদিন ধরে পানিবন্দী থাকলেও সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ বা শুকনো খাবার এখনো পৌঁছায়নি পরিবারগুলোর অভিযোগ।

তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ইনচার্জ নুরুল আমিন জানান, দুপুরের পর থেকে পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। পানি কখন কমে যাবে বলা যাচ্ছে না।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close