২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার ০৯:৩৮:৩২ এএম
সর্বশেষ:

০১ আগস্ট ২০২০ ১১:১৯:৪৮ পিএম শনিবার     Print this E-mail this

কুরবানির শিক্ষায় মনের ষড়রিপু নিধন

পারভীন আকতার
বাংলার চোখ
 কুরবানির শিক্ষায় মনের ষড়রিপু নিধন

## কুরবান!মেহেরবান!ত্যাগ!কী যে আনন্দ সবার মাঝে একটা নিরীহ প্রাণীকে জবাই করে গোস্ত খাওয়ায় সারা!কার থেকে কে কতো বড় গরু বা মহিষ কিনে পাড়ায় পাড়ায় দেখিয়ে সোডাউন করবে সেই যে মগজওয়ালারাই বেশ ভালোভাবেই করে। নাউজুবিল্লাহ! এটাই কি ত্যাগের মহিমা?মানুষজাতি তুই কবে মানুষ হবি?পশুর চেয়ে অধম বলেই ঐ প্রাণীটা আল্লাহর কাছে চুপচাপ যেতে মনস্থির করে নিয়েছে।তুই কি পারবি তার স্থলে নিজেকে খোদার জন্য উৎসর্গিত হতে?মোটেও না।মুখে বড় বড় কথা, অন্তরে রুটি দিয়ে গরম গরম রান্না গোস্তের স্বাদ নিতে ব্যস্ত থাকি আমরা।আল্লাহকে তুষ্ট করেছি। বাহ্ এখন পেট ভরে খেয়ে নিই।বাকী গোস্ত ফ্রীজআপ করে ছয় মাস খাবো।নো চিন্তা,ডু ফূর্তি। 

##ইসলাম কখনোই জুলুমবাজদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়না।মানুষজাতিই কেবল নিজের সুবিধা সুযোগ নিতে মানুষকে জানোয়ার তৈরি করে।টাকা বানানোর মেশিন বানায়।লোভী কেতাদুরস্ত গগনতলে মিছে অমূল্য বাণী শোনায়।চিন্তা করলে একটা পশু কখনোই মালিকের অবাধ্য হয় না।জবাই করার সময় হাত পা ছুঁড়ে, প্রাণটা যেতে কার না কষ্ট হয়!তবুও মন রক্ষা করে চলে, এক সময় শান্তভাব। সবার উপভোগ আর ভোগের সামগ্রী হয়।কোন চাওয়াই নেই আর।মানুষ খুশি পশুর আত্মা বলে কিছু থাকলে তাও খুশি।তবুও মানুষ আমরা বুঝিনা এতো ত্যাগ কার জন্যে করেছে ঐ নিরীহ প্রাণীটা?আমার আপনার খোদার সকালের জন্যই।নিখাঁদ ত্যাগ একেই বলে!শেখার শেষ নেই,জানার আছে আরো অনেক।এতো দম্ভ করে কী লাভ?

##মানুষের অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে ভাবনার শেষ নেই ।তাদের মনের প্রকৃতি বুঝে দার্শনিক ভাবনায় ডুবে থাকার পরও যেন কূলকিনারা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।কেন মানুষ নিজেকে আয়ত্তে রাখতে ব্যর্থ? কেন মানুষ নিজের ইচ্ছেকে অন্যের উপর চেপে দিয়ে মজা পায়?খুন,রাহাজানি,ধর্ষণ এসব মানুষই মানুষকে বলি দেয় শুধু ষড়রিপুর তাড়নায়।আনকন্ট্রোল!স্বর্গের কাছে থাকে মানুষের আত্মা।তার মাঝে থাকে আল্লাহ,ভগবান আর ইশ্বর।সবই একজনই।ভিন্ন পথ,অভিন্ন এক সত্ত্বা দিয়ে পৃথিবী চলছে এবং চলবে।রাজা একজনই অনাদিকাল।তাইতো শৃঙ্খলার অভাব দেখা যায় না।নিয়মতো সকাল হয়,সূর্য উঠে আবার রাত আসে ঘন অাঁধার হয়ে।ব্যতিক্রম কেউ কি দেখেছে?

##রাগ,ঘৃণা, স্বাথপরতা আর লোভ মানুষকে ভালো কিছুই দিতে পারেনা।বরং সব নিয়ে নিঃস্ব করে।ভালোবাসার বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে ত্যাগী হতে হয়,কল্যাণকর কিছু প্রতিষ্ঠিত করতে হলে মনের পশুটাকে কুরবানী দিতে হয় প্রতিনিয়ত।তবেই না আমরা আল্লাহর হুকুমের যোগ্য উদাহরণ হতে পারবো।হযরত ইব্রাহিম (আঃ) নির্দ্বিধায় যে কাজটি করেছেন, আল্লাহ তালা কিন্তু পরীক্ষা করেছেন শুধুই।দুব্বা দিয়ে সন্তান ঈসমাইলের স্থলে কুরবানি ফরজ করেছেন।ইসলাম কী ত্যাগের মহিমা শেখায় ভাবা যায়!
নিজেকে আজ ইতিবাচকতায় বদলাতে হবে।উদার হয়ে ভাবতে হবে,লোভ লালসা ষড়রিপুকে দমন করতে কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। ভাবতে হবে পৃথিবীতে আজ আছি তো,কাল নাই।তাই বিবেকের দরজা খুলে জাগ্রত থাকতে হবে সারাক্ষণ। সকলের ঈদ উদযাপন সুন্দর ও ত্যাগের শিক্ষায় হৃদয় উদ্ভাসিত হোক। ♥ঈদ মোবারক♥

পারভীন আকতার: কবি ও প্রবন্ধ লেখিক

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close