২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার ০৭:২০:৫৭ পিএম
সর্বশেষ:

০৫ আগস্ট ২০২০ ০৮:৫২:১৮ এএম বুধবার     Print this E-mail this

বিপর্যয়ের দায় নিচ্ছে না কেউ

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 বিপর্যয়ের দায় নিচ্ছে না কেউ

ফের ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে কোরবানির পশুর চামড়ার দামে। সিন্ডিকেটের কারসাজি, ঘোষিত মূল্য বাস্তবায়নে মনিটরিংয়ের অভাব, শেষ মুহূর্তে রফতানি অনুমতির ঘোষণা এবং সমন্বয়হীনতার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। চামড়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে আগামী দিনের কয়েক হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য নিশ্চিত করেছে সেই পুরনো সিন্ডিকেট।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রীতিমতো পানির দরে বিক্রি হয়েছে চামড়া। ন্যূনতম দাম না পেয়ে ক্ষোভে-দুঃখে অনেকে বিক্রি না করে ফেলেও দিয়েছেন। দায়ীদের শনাক্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় এ বিপর্যয় থামানো কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

রাজধানীতে গরুর চামড়া আকার ভেদে প্রতিটি ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২ থেকে ১০ টাকা। আর পোস্তার আড়ত মালিকরা ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় এসব চামড়া ক্রয় করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। ঢাকার বাইরেও ছিল একই ধরনের চিত্র।

কিন্তু এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির দায় নিচ্ছে না কেউ। সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া হচ্ছে বেসরকারি বাণিজ্য। এতে খুব বেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। অপরদিকে ট্যানারি মালিকদের চিরাচরিত একই সুর, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা না বুঝে ব্যবসা করছেন।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে চামড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। জুমের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিভাবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ করে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে বৈঠকের সংশ্লিষ্ট সূত্র  জানায়, সরকারি ঘোষিত মূল্য না মানলে ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে ভোক্তা আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া ঢাকার বাইরের লবণমিশ্রিত ৩০ লাখ চামড়া রাজধানীর ট্যানারিতে সুষ্ঠুভাবে আনতে পরিবহন ব্যবস্থা করা হবে। আর আগামীতে লবণমিশ্রিত ছাড়া কোনো চামড়া পরিবহন করা যাবে না। এ ব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু বাজার বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি বৈঠকে।

ওই বৈঠকের আগে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, কাঁচা চামড়ার বাজার পর্যবেক্ষণে বিগত সময়ের তুলনায় বেশি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসক, আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের প্রতিনিধি ও টি-বোর্ডের প্রতিনিধি মনিটরিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।


বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া চামড়ার বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি- এমন দাবি করে তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ১২শ’ চামড়া ফেলে চলে গেছেন একজন বিক্রেতা। এটি এক ধরনের ‘স্যাবোটাজ’ হতে পারে। কারণ তিনি চামড়াগুলো টাকা দিয়ে ক্রয় করে ফেলে যাবেন কেন?

বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে কিনা- জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, ৫০ থেকে ৬০ লাখ পিস চামড়া কোরবানিতে সংগ্রহ হবে। এর মধ্যে এক বা দু’হাজার পিস নষ্ট বা ফেলে দিলে এটি খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। তবে এ বিষয়ে আগামীতে আরও ভালোভাবে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিপর্যয় ঠেকাতে এ বছরও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু সেখানে কিছুট অস্পষ্টতা আছে। কোরবানির পর সরাসরি চামড়া বিক্রির দাম এবং পোস্তার পাইকারদের বিক্রির দাম কত হবে- তা সুনির্দিষ্ট করা নেই।

এ সুযোগে পোস্তার পাইকার এবং ট্যানারি মালিকদের নিজস্ব ক্রয় প্রতিনিধির তৎপরতায় বিগত কয়েক বছর ধরেই চামড়ার দামে অস্বাভাবিক মূল্যহ্রাস ঘটাচ্ছে। সিন্ডিকেটের ‘সবুজ সংকেত’ নিয়েই তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে কম দামে চামড়া কিনে নেয়। এবার গরিব ও এতিমদের হক চামড়ার দাম নিয়ে বিগত সব রেকর্ড ভঙ্গ হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চামড়া খাতে একই সিন্ডিকেট কয়েক বছর ধরে কৌশলে কোরবানির চামড়ার বাজারকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে কম দামে চামড়া কেনাকাটা করে। এ চক্র আবার প্রকাশ্যে বিরোধিতা করছে বিদেশে ওয়েট-ব্লু ও কাঁচা চামড়া রফতানির।

সরকারের বিভিন্ন বৈঠকে ওই চক্রটি একদিকে বলছে চামড়ার মূল্য কমানোর কথা, অপরদিকে বলছে রফতানির অনুমতি দিলে এ খাত শেষ হয়ে যাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমন একটি আভাস পেয়েই তড়িঘড়ি করে ঈদের একদিন আগে বিদেশে চামড়া রফতানির অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু অনেকে মনে করছেন, তড়িঘড়ি রফতানির ঘোষণা খুব বেশি কার্যকর হয়নি। আরও আগে এ ঘোষণা এলে সবাই প্রস্তুতির সময় পেত।

জানা গেছে, কোরবানি এলেই এ চক্র নানাভাবে সরকারকে চাপের মুখে রাখে। প্রথম শুরু করে চামড়ার মূল্য যাতে না বৃদ্ধি পায়। এমন চাপের মুখে ফেলে গত বছরের তুলনায় কোরবানির পশুর চামড়ার নির্ধারিত দামের থেকে এবার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়ে ধরা হয়েছে। অথচ সেই দামও দেয়া হয়নি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের।

ঢা

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close