২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার ০৪:০১:৫৩ পিএম
সর্বশেষ:

০৫ আগস্ট ২০২০ ০৯:১৩:২৭ পিএম বুধবার     Print this E-mail this

চামড়ার দর পতনে এতিমখানা ও কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চরম বিপাকে

মিজানুর রহমান মিলন সৈয়দপুর প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 চামড়ার দর পতনে এতিমখানা  ও কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চরম বিপাকে

এবারে কোরবানির চামড়ার দর পতনে চরম বিপাকে পড়েছেন নীলফামারী সৈয়দপুর উপজেলার এতিমখানা ও কওমি মাদ্রাসা কর্তৃক পরিচালিত লিল্লাহ বোডিংগুলো কর্তৃপক্ষ। তারা এখন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংগুলো কিভাবে পরিচালনা করবেন তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছরই ঈদ-উল -আজহায় পশু কোরবানির পর মানুষজন চামড়াগুলো মূলতঃ বিভিন্ন স্থানীয় মসজিদ, এতিমখানা ও লিল্লাহ্ বোর্ডিগুলোতে দেয়। আর এ সব সংগৃহিত চামড়া বিক্রির অর্থে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ে দ্বিনি শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের খাবার যোগান হয়ে থাকে। কিন্তু গত বছরের মতো এবারের চামড়ার দাম না থাকায় ওই সব প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কারণ এবারে কোরবানিতে পাওয়া চামড়া পানির দামে বিক্রি করে যে অর্থ মিলবে তাতে ওই সব দ্বিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের এক মাসের খাবারও যোগান দেওয়া সম্ভব হবে না।
এ নিয়ে গতকাল সোমবার সকালে সৈয়দপুর শহরেরআল-জামায়েতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম রুহুল ইসলাম মাদ্রাসার পরিচালক আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ হারুন রেয়াজীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম দ্বিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয় ১৯২৬ সালে। এই মাদরাসাটিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই শত শিক্ষার্থী দ্বিনি শিক্ষা গ্রহন করছে।
তিনি জানান, প্রতি বছর কোরবানির ঈদে এলাকার লোকজন কয়েক শত কোরবানি পশুর চামড়া মাদরাসায় দান করেন। আর ওই চামড়া বিক্রির অর্থে প্রতিষ্ঠানের লিল্লাহি বোডিংয়ে থাকা আবাসিক প্রায় কয়েক শত শিক্ষার্থী ছয় মাসের খাবার সংস্থান হয়। এবারের ঈদ-উল-আজহায়ও মাদরাসা লিল্লাহ বোডিংয়ে ফান্ডে ৪০০ পিস গরুর চামড়া ও ২৩৬ পিস ছাগলের চামড়া মিলেছে। কিন্তু চামড়া দাম না থাকায় এবারে মাদরাসার ফান্ডে প্রাপ্ত চামড়া বিক্রি অর্থে এক মাসের খাবার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন কওমি মাদ্রাসাগুলোর আয়ের প্রধান উৎস হলো কোরাবনির চামড়া। অথচ সেই চামড়া দাম নেই। গেল বছরও একই অবস্থা ছিল। এছাড়াও মাদ্রাসার লিল্লাহ বোডিংগুলোতে সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে ক্যাপিটেশন গ্রান্ডের কিছু অর্থ দেওয়া হয়। কিন্তু তা নিতান্তই নগণ্য।
শহরের কাজীপাড়ায় অবস্থিত আল জামিয়াতুল আবারিয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ আবুল কালাম কাসেমী জানান, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর মাদ্রাসার লিল্লাহ বোডিংয়ে কয়েক শ’ শিক্ষার্থী ইসলাম শিক্ষা গ্রহন করছেন। তারা সবাই আবাসিক শিক্ষার্থী। এবারের কোরবানির ঈদে মাদরাসা ফান্ডে যে গরুর এবং ছাগলের চামড়া মিলেছে তা বিক্রির অর্থে মাদরাসর লিল্লাহ বোডিংয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের এক-দেড় মাসেরও খাবার চালানো যাবে না। বছরের বাকি মাসগুলো মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কিভাবে খাবার দিবেন তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তিনিসহ সংশ্লিষ্টরা।
শহরের মিস্ত্রিপাড়ার এলাকার বিশিষ্ট চামড়া ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো. শওকত আলী। তিনি জানান, আমরা বংশপরম্পরায় চামড়ার ব্যবসায় জড়িত। দীর্ঘদিন যাবৎ ট্যানারি মালিকদের কাছে আমার বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। আশা করেছিলাম এবারে ঈদের আগেই হয়তো বকেয়া টাকা ট্যানারি মালিকরা পরিশোধ করবেন। কিন্তু তারা একটি টাকাও দেননি। তারপরও নিজের কিছু পুঁজি এবং ধারদেনা করে চামড়া কিনেছি।
শহরের মিস্ত্রিপাড়া এলাকার অপর চামড়া ব্যবসায়ী মো. আজিজুল হক। গত সোমবার সকালে সরেজমিনে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেয়া যায় ক্রয়কৃত চামড়াগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াকরণ করছেন লোকজন। আবার কিছু চামড়া প্রক্রিয়াকরণ করে স্তুপ করে রাখা হয়েছে । এ সময় তাঁর সঙ্গে তিনি বলেন, অন্যান্য বছরগুলো বেশি পরিমাণে চামড়া কিনলেও এবারে পারিনি। বর্তমানে চামড়ার বাজারে যে ধস, তাতে সাহস হয় না। কারণ চামড়া কিনে ট্যানারি মালিকদের বাকিতে দিয়ে পরে তার টাকা পয়সা পাওয়া যায় না। তাই এবারে মাত্র ৮০০ পিস গরুর চামড়া এবং ৫০০ পিস ছাগলের চামড়া কিনেছি। তিনি জানান, এবারে গরুর চামড়া সর্বনি¤œ ৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত এবং ছাগলের চামড়া ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কিনেছি।
শহরের হাতিখানা এলাকার এক সময় বিশিষ্ট চামড়া ব্যবসায়ী অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল। তিনি বলেন, ট্যানারি মালিকের নিকট তাঁর আট লাখ টাকার বেশি মূলধন আটকে আছে। তাই এবারে কোরবানির ঈদে মুলধনের অভাবে এবারে তিনি চামড়া কিনতে পারেননি তিনি।
শহরের আতিয়ার কলোনীর চামড়া ব্যবসায়ী মো. সরফরাজ মুন্না বলেন, বংশপম্পরায় আমরা এ চামড়া ব্যবসার সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ঈদ-উল-আজহা এলে আর বসে থাকতে পারে না। এবারে ঈদে যৎসামান্য কিছু চামড়া কিনেছি। জানি না ভাগ্যে কি আছে। পুঁজি ফিরে পাব কিনা তারও জানি না।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close