২২ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার ১২:৪৯:০৩ পিএম
সর্বশেষ:
টিকা দেয়ার পর ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ            ফেব্রুয়ারিতে অক্সফোর্ডের করোনা টিকা বাজারে আনতে পারে বেক্সিমকো            নাক, নাসিকারন্ধ্র, মুখ গহ্বর এবং শ্বাস ও খাদ্যনালীর মিলনস্থলে অবস্থান করা করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম ‘ন্যাজাল স্প্রে’ উদ্ভাবনের দাবি করেছে বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)। যার নাম রাখা হয়েছে ‘বঙ্গোসেফ ওরো ন্যাজাল স্প্রে’।            এখন থেকে এ URl লগইন করুন http://www.banglarchokh.com.bd/secondcopy/index.php           

০৮ আগস্ট ২০২০ ১১:৩৪:১১ পিএম শনিবার     Print this E-mail this

কিন্তু তুমি তোমার মন আর প্রানের কথাগুলোই বলবে”

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, গোপালগঞ্জ
বাংলার চোখ
 কিন্তু তুমি তোমার মন আর প্রানের কথাগুলোই বলবে”

বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় থাকার কারনে পরিবারেকে সময় দিতে পারতেন না। আওয়াম লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের দাবীদাওয়া থেকে শুরু করে আবেগ, রাগ সব কিছুই সামাল দিতেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দেবার সময় বঙ্গবন্ধুকে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বলেছিলেন, তোমাকে অনেকে অনেক কিছুই বলবে। কিন্তু তুমি তোমার মন আর প্রাণ থেকে যে কথাগুলো আসবে তুমিই তাই বলবে। কারন তোমার সামনে বাঙ্গালীদের স্বাধীনতা আর পিছনে ইয়াইহা খানের অস্ত্র। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সম্পর্কে এমনটিই বলছিলেন মামাতো ভাই শেখ বোরহান উদ্দিন।

আজ ৮ আগস্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মদিন। ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত যোগ্য সহধর্মীনি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই মহীয়সী নারী। যে কারনে রাজনৈতিক জীবনে সফল হয়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ দিতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

টুঙ্গিপাড়া ঘুরে জানাগেছে, ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের অজোপাড়া গাঁ টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বাবার শেখ জহুরুল হক এবং মা হোসনে আরা বেগমের সন্তানদের মধ্যে সবার ছোট ফজিলাতুন্নেছা। তবে মা বাবা আদর করে ডাকতেন রেনু নামে। মাত্র ৫ বছর বয়সেই মা ও বাবা দুজনকে হারালে দাদা শেখ কাশেমের কাছে বড় হন তিনি। সাত বছর বয়সে দাদা শেখ কাশেম মারা গেলে বঙ্গবন্ধু মায়ের কাছে চলে আসে ফজিলাতুন্নেছা।

এরপর মাত্র ১৩ বছর বয়সে চাচাতো ভাই কিশোর শেখ মুজিবের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। সেই থেকেই হয়ে ওঠেন যোগ্য জীবন সঙ্গী। তখন থেকে রেণুর শাশুড়ি বঙ্গবন্ধুর মাতা শেখ সায়েরা খাতুন তাঁকে নিজের সন্তানদের মতো মাতৃস্নেহে লালন-পালন করেন।

দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে বার বার কারাররণ করতে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে। কিন্তু সংসার সামলে বাঙ্গালীর স্বাধীনতার প্রশ্নে কখনো হার মানতে দেননি বঙ্গবন্ধুকে। বাঙ্গলীর স্বাধীনতার জন্য নিজের সর্বস্ব বিলেয়ে দিয়েছে তিনি। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে কখনোই দলের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত হতে না দিয়ে সমস্যা সমাধান করতেন ফজিলাতুন্নেছা। বঙ্গবন্ধুর পিছনেই থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর সাথে ঢাকার ৩২ নম্বরে বাসায় থাকলে মাঝে মধ্যেই টুঙ্গিপাড়ায় ছুটে যেতেন তিনি। টুঙ্গিপাড়া আসলেই খোঁজ খবর নিতেন আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের। এ বাড়ী ও বাড়ী ঘুরে সময় কাটাতেন তিনি। এত বড় একজন নেতার সহধর্মীনী হয়েও আহংকার ছিলনা এতটুকুও। সবাই যেন আপন করে নিতেন এক পলকেই।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মামাতো ভাই শেখ বোরহান উদ্দিন জানান, বঙ্গবন্ধু ডেকে বলতে রেনু দেখ সবাই কি বলছে তুমি একটু দেখ, যা তোদের ভাবীর কাছে যা। তখনই সব কিছুর সমাধান হয়ে যেত। স্বাধীনতায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের যে ভূমিক রয়েছে তা ভোলার নয়।

তিনি আরো বলেন, আমি তখন ধানমন্ডি স্কুলে পড়ি। রবিবার স্কুল বন্ধ ছিল। সময় হলেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসায় চলে যেতাম। এক রবিবার না গেলেই পরের রবিবার তিনি নিজেই খোঁজ নিতেন। বলতেন কেন তুই আসিসনি। তার এই আন্তরিকতা কিন্তু এখন আর কোথাও পাওয়া যায় না।