২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার ০৯:১৬:৫১ পিএম
সর্বশেষ:

১৬ অক্টোবর ২০২০ ১২:৫৫:০১ পিএম শুক্রবার     Print this E-mail this

নবজাতক (কণ্যা) জন্মের পর মৃত ঘোষণা, দাফন দিতে গিয়ে জীবিত!

আমিনুল ইসলাম বাবু স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলার চোখ
 নবজাতক (কণ্যা) জন্মের পর মৃত ঘোষণা, দাফন দিতে গিয়ে জীবিত!

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শুক্রবার (১৬,অক্টোবর) ভোরে গাইনী বিভাগে জন্ম দেন নবজাতক (কণ্যা) সন্তান শাহিনুর বেগম (২৭) নামে এক মা। জন্ম নেয়া নবজাতক টিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল থেকে কাপড় জরিয়ে পেকেট করে দেন, হাসপাতালের স্টাফরা। সাথে মৃত্যুর সনদ দিয়ে দেন। এবং দাফনের জন্য বলা হয়। তা নিয়ে নবজাতকের বাবা গাড়ি চালক ইয়াছিন মৃতদেহ ভেবে তাকে নিয়ে যান আজিমপুর কবরস্থানে। 

সেখানে কবরস্থানের লোকজন দাফন কাফন বাবদ ১৪শ টাকা দাবি করেন। কিন্তু সে সময় তার কাছে এতো টাকা ছিল না। তার তাকে অন্য কবরস্থানে নেওয়া কথা বলেন। বাবা দেখেন তার সন্তান হঠাৎ নড়ে উঠেন। পরে বিষটি বিশ্বাস না হলেও, আশপাশের লোকজন ও তা দেখেন, এবং দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তখন তিনি নবজাতক সন্তানকে বুকে জরিয়ে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিষয়টি হাসপাতালে ছড়িয়ে পরে। এতে ভর্তির জন্য তার আর কোন ব্যাক পোহাতে হয়নি। দ্রুত নবজাতক বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন নবজাতক টিকে নবজাতক নিউনিটের ভর্তি করা হয়েছে।

নবজাতকের বাবা আরো বলেন, এটা ছিল তার ২য় সন্তান এর আগে ইসরাত জাহান (১০) তার এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি বলেন , বেচে যাওয়া সন্তান বর্তমানে নবজাতক ইউনিটের আইসিইতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আপনা তার জন্য দোয়া করবেন। তিনি বলেন নবজাতটিকে মৃত ঘোষণা করে, যে সনদ টি দিয়েছিল। তা আবার নিয়ে গেছেন, চিকিৎসকরা।

নবজাতকের মা, শাহিনুর বেগমকে গত বুধবার ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন তার স্বামী বাসচালক ইয়াসিন।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর সেখানকার চিকিৎসকরা তার স্ত্রীকে দেখেন এবং জানান তার প্রেশার অনেক হাই।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল, বাচ্চাটি ডেলিভারি না করালে তার প্রেশার কমবে না। চিকিৎসকদের কথায় সম্মতি দেওয়ার পর বুধবার রাতেই তাকে লেবার রুমে নিয়ে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। ডেলিভারি না হওয়ায় তাকে ১১০ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দুদিন চেষ্টার পরও ডেলিভারি হয়নি।রশুক্রবার ভোরে শাহিনুরের আবার ব্যথা শুরু হয়। এরপর পৌনে ৫টার দিকে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। চিকিৎসকরা জানান বাচ্চাটির মৃত অবস্থায় জন্ম হয়েছে।

ইয়াসিন বলেন, এরপর হাসপাতালের আয়া বাচ্চাটিকে প্যাকেট করে বেডের নিচে রেখে দেন এবং কোথাও নিয়ে দাফন করার জন্য বলেন।

তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালঙ্গা গ্রামে। তুরাগ ধউর নিসাতনগর এলাকায় থাকেন তারা। তার স্ত্রী গৃহিণী ও তিনি বিআরটিসি বাস চালক।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘নবজাতকটি জীবিত আছে, ভালো আছে। তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা তদন্ত কমিটি করবো। তদন্ত করে বের করার চেষ্টা করবো কেন এমনটি হয়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close