০৪ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার ১০:৫৬:০৫ এএম
সর্বশেষ:
যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে গত কয়েক দিন নিউজ আপলোড করা সম্ভব হয়নি। সাময়িক সমস্যার জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত- সম্পাদক           

২১ নভেম্বর ২০২০ ১২:০৪:৩৫ এএম শনিবার     Print this E-mail this

পদ্মা সেতু: ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হবে স্প্যান এরিয়া নির্মাণের কাজ

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ মাওয়া মুন্সিগঞ্জ থেকে
বাংলার চোখ
 পদ্মা সেতু: ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হবে স্প্যান এরিয়া নির্মাণের কাজ

৬দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈঘ্রের পদ্মা সেতু এখন স্বপ্নের খোলস থেকে বেরিয়ে ও তথাকথিত কাগজ-কলমের বন্দিদশা কাটিয়ে রূপ নিয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতায়। এই পদ্মাসেতুর কাঠামোটি পৃথিবীর অন্যতম একটি কাঠামো এবং স্বাধীনতার পর সব চেয়ে বড়কাঠামো হিসেবেই এটি।

যা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে স্থাপন করতে যাচ্ছে পদ্মা সেতু পাল্টে দেবে শরীয়তপুর মাদারীপুরে এবং মুন্সিগঞ্জ, মাওয়া প্রকল্প এলাকার চেহারা। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার পর্যটন খাতে যা যোগ করবে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রকল্প এলাকায় নির্মিত সার্ভিস এরিয়াগুলোর কাজ শেষে সাধারণের জন্য খুলে দেয়া হলে তার সুফল পাবেন দেশের পর্যটনপ্রেমীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই স্প্যান - এরিয়া নির্মাণের কাজ শেষ হবে। এ যেন ধীরে ধীরে গড়ে উঠা এক নতুন শহর। অজস্র স্বপ্নকে বুকে নিয়ে যা জেগে উঠছে উত্তাল পদ্মা নদীর উভয় পাড়ে।

পদ্মা সেতুকে ঘিরে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত যে স্বপ্ন,পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দেশের অন্য জেলাগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক এগিয়ে যাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। ব্যবসা-ব্যানিজ্য প্রসার হবে। দেশের অথর্নীতি আয় বাড়বে।

এদিক পদ্মাসেতুর কাজের সুবিধার জন্য ২০১৪শালের শুরুতেই মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর এবং মাদারীপুরে গড়ে তোলা হয়েছিল তিনটি সার্ভিস এরিয়া। দেখতে সেগুলো কে দুর থেকে পর্যটন কেন্দ্র মনেধরার মতো।

মূল সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ” দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, এর মধ্যে এক ও দুই নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় মূল সেতু, নদী শাসন প্রকল্প ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা থাকছেন। ৩ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় থাকার ব্যবস্থা হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের। আপাতত এই ৩টি সার্ভিস এরিয়া দেশি বিদেশি প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞদের আবাসন এবং গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হলেও এগুলোকে ঘিরেই পদ্মার দু’পাড়ে গড়ে উঠছে পর্যটন সম্ভাবনা। বিশেষ করে ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়াটিকে পুরোপুরি গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটনবান্ধব করে। ৩ টি সার্ভিস এরিয়া নির্মাণে সার্বিক তদারকি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেতুর কাজ শেষ হলে ৭৭ হেক্টর এলাকা জুড়ে নির্মিত ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় পর্যটকদের জন্য থাকবে আবাসনের পাশাপাশি আধুনিক সব সুবিধাই। চলতি বছরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ করাহলে সার্ভিস এরিয়াগুলো সেতু বিভাগের হাতে হস্তান্তর করবে সেনাবাহিনী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় শত শত ট্রাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে নানা ধরনের নির্মাণ সামগ্রী। আসছে প্রয়োজনীয় ভারি ভারি যন্ত্রপাতি। দেশি-বিদেশি হাজার হাজার শ্রমিক আর কর্মকর্তার থাকার জন্য মাওয়া ও জাজিরা পাড়ের প্রান্তে বানানো আছে বড় বড় ঘর। এ গুলোকেও নির্মাণকাজ শেষে অনুষ্ঠানিক বাবে হস্তান্তর করবে সেনাবাহিনী-সেতু বিভাগের হাতে।


প্রথম শুরু হওয়া মূল পাইলিংয়ের কাজ শেষে ৪১টি স্প্যান বসানোর কাজ হাতে নেওয়া হয় সেগুলোর মধ্যে এখন বকি ৪টিমাত্র। সেতুর মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নম্বর খুঁটিতে ৩৮তম স্প্যান ও ২৩ নভেম্বর ১০ ও ১১ নম্বর খুঁটিতে ৩৯তম স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। গত ১১ নভেম্বর বুধবার পদ্মা সেতুতে ৩৭তম স্প্যান বসানোর ফলে দৃশ্যমান হয়েছে ৫ হাজার ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু। তারও পূর্বে মাওয়া প্রান্তের ২ ও ৩ নম্বর খুঁটিতে ৩৬তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে।

পদ্মার বোকে ৩ মিটার ব্যাসের ৪শ’ ফুট দীর্ঘ পাইলটির ৪০ ফুট ভেতরে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে নদীর মাঝে মাঝে চলছে ড্রেজিং-ও পিলার পাইলিং অন্তর অন্তর এ সেতুর পাইলগুলোর ১২০ মিটার বা ৪০ তলা ভবনের সমান কাঠামো পানির নিচে প্রবেশ করেছে। সব মিলিয়ে সেতুটির একেকটি পাইলের দৈর্ঘ্য হবে ১৫০ মিটার। পাইলগুলো আকারে হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেমনি এগুলো যাবে সবচেয়ে বেশি গভীরে। অন্যদিকে এই প্রথম নিজস্ব অর্থায়নে বড় কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যেটি হয়তো ইতিহাস হয়ে থাকবে। সরকারের ইমেজ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দাতা দেশগুলোর অন্যায় হস্তক্ষেপ প্রবণতা কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাওয়া পয়েন্টে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়কে থাকা ব্রিজ, সংযোগ সড়কের পাশের সার্ভিস রোড তৈরি, ড্রেজিং ও ক্ষতি গ্রস্তদের পুর্নবাসনের কাজ। শেষে ভারী ভারী নির্মাণ যন্ত্র গুলো বিদায় নিচ্ছে ।
মাওয়া পয়েন্টের পাথর ভাঙ্গা, মাটি কাটা, মাটি ভরাট করা, রাস্তা সমান করার কাজ-ওয়েল্ডিং এর আলোর ঝলকানি আর ভারী যন্ত্রপাতির শব্দে কর্মমুখর পদ্মার পাড় পাশাপাশি অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ চলছে পুরোদুমে।

এদিকে এ সেতুর কাজ পর্যবেক্ষণে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষঞ্জ দল এসেছেন কহেক দফা এবং এই বিশেষঞ্জ প্যানেল সেতু এলাকায় উভয় পারে দু’দিন বৈঠক করেছেন। এর মধ্যে থেকে ই তার পর থেকে,

নতুন গতি পেয়ে পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞে দেশী-বিদেশী প্রায় ২০ হাজার কর্মীর নিরন্তর কাজ করছেন। ২০ হাজারের ১৮ হাজার বাংলাদেশী। আর দু’হাজার বিদেশীর। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশী নারী কর্মীরাও।

পালাক্রমে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে তারা। এই ২০ হাজারের বাইরে নিরাপত্তায় রয়েছে দু’পারে ২ হাজার সেনা সদস্য। এছাড়া পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনতো রয়েছেই।

সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ,বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১০৯ তম বোর্ড সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন ‘পদ্মা সেতু এখন স্বপ্ন নয়। এটি এখন দৃশ্যমান বাস্তব। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।’পদ্মা সেতুর অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইতি মধ্যে কাজের সামগ্রিক অগ্রগতি হয়েছে ৮২ ভাগ।
ইতি মধ্যে ৩৭টি স্প্যান বসানো হয়েছে ।ফলে সেতুর ৫.৫৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে ,নদীর ¯্রােত প্রত্যাশিত লেভেলে থাকলে বাকি ৪টি স্প্যান ঢিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে স্থাপন করাহবে । তিনি আরোও জানান মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে শত করা প্রায় ৯১ ভাগ। এ ছাড়া নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ।প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে শতকরা ৮২ ভাগ।
বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এসব তথ্য পাষাপাষি তিনি আরো জানান,

সরকারের বিরুদ্ধে ও পদ্মাসেতুকে নিয়ে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে। ফেসবুক-ইউটিউবে গুজব-অপপ্রচার চলছে। এ সব গুজব ষড়যন্ত্র কে পিছনে রেখে।
পদ্মা পাড়ের বিপুল জনগণের অধীর আগ্রহের অবসান ঘটিয়ে
শুভযাত্রায় পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2020. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close