০৯ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার ০৫:১২:৪৪ পিএম
সর্বশেষ:

২৭ জানুয়ারি ২০২১ ০২:০৫:৪৭ এএম বুধবার     Print this E-mail this

কাজু বাদাম ও কফি চাষ দেখতে বিদেশ যাবেন ১১৬ কর্মকর্তা

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 কাজু বাদাম ও কফি চাষ দেখতে বিদেশ যাবেন ১১৬ কর্মকর্তা

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে অর্থ বাঁচাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন প্রকল্পের অহেতুক অর্থ খরচ কমানোর নির্দেশও দিয়েছেন। কিন্তু এসব পরামর্শ ও নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিদেশ সফরের আয়োজন লেগেই আছে। উন্নয়ন প্রকল্প মানেই প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণের হিড়িক। সম্প্রতি একনেকে অনুমোদনের জন্য তৈরি ‘কাজু বাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পেও এমন চিত্র দেখা গেছে।

এবার কাজু বাদাম ও কফি চাষ দেখতে বিদেশ যাবেন ১১৬ কর্মকর্তা। এর মধ্যে ৭ ব্যাচে (প্রতি ব্যাচে ৮ জন করে) ৫৬ জন প্রশিক্ষণ নিতে যাবেন। এক্সপোজার ভিজিট করবেন পাঁচ ব্যাচে (প্রতি ব্যাচে ১০ জন) ৫০ জন। জনপ্রতি চার লাখ ৪০ হাজার করে এসব সফরে ব্যয় হবে ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্প প্রস্তাবে বৈদেশিক প্রশিক্ষণে আরও অনেক বেশি ব্যয় ধরা ছিল। কিন্তু আমরা অনেক কমিয়ে দিয়েছি। তবে এক্সপোজার ভিজিট বিদেশে নাও হতে পারে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ড কাজু বাদাম উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি করছে। আমরা যদি সেখানে গিয়ে চারা রোপন থেকে শুরু করে বাদাম, সংগ্রহের পর তা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে পারি তাহলে দেশে কাজু বাদাম ও কফি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সেজন্যই কিছু বিদেশ সফর রাখা হয়েছে। এখনতো পাহাড়ি অঞ্চলে কাজু বাদাম ও কফি চাষ হচ্ছে। কিন্তু প্রক্রিয়াকরণ না জানায় সেগুলো কাচা অবস্থায়ই রফতানি করা হচ্ছে। এতে লাভ হচ্ছে কম।’

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণ শেষ হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘বিদেশ সফর নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তারপরও এটা রাখা হয়েছে। কেননা বিদেশ সফরের প্রয়োজন আছে। কারণ, এটি বাংলাদেশে প্রথম চাষ। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ সফরের মাধ্যমে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তারা দেশে এসে তা কাজে লাগাতে পারবে।’

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- কাজু বাদাম ২ হাজার ২৫০টি প্রদর্শনী, কফি প্রদর্শনী ৫ হাজার ২৫০টি, কৃষক প্রশিক্ষণ ৪৯ হাজার ৫০০, ৪৮০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, এক্সপোজার ভিজিট, ২০টি উদ্ধুকরণ ভ্রমণ, ১ হাজার ৩৫০ সেট কৃষক গ্রুপকে কফি প্রসেসিং যন্ত্রপাতি সরবরাহ, রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হাটিকালচার সেন্টারের একটি অফিস ভবন, ৫০০টি পার্বত্য অঞ্চলে সেচ সুবিধা দেওয়ার জন্য সোলার ইরিগেশন সেটআপ, কাজুবাদামের উচ্চফলনশীল নতুন ২টি জাত উদ্ভাবন, ২৫ হাজার জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, ৭৫০ বর্গকিলোমিটার কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে আধুনিক ফিল্ড ল্যাব নির্মাণ, মাঠ অফিস, আনসার ক্যাম্প, ৮১টি ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি ১৯০টি মাঠ যন্ত্রপাতি এবং ৭৯টি অফিস যন্ত্রপাতি ক্রয়।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে একনেক সভার সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, কাজুবাদাম এবং কফির জাত ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান উৎপাদন এলাকা দুই হাজার হেক্টর থেকে ছয় হাজার হেক্টরে উন্নীত করা হবে। কাজু বাদাম এবং কফি ফসলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, বৈশিষ্ট্যকরণ, মূল্যায়ন, সংরক্ষণ এবং উচ্চফলনশীল ও উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হবে। পাহাড়ি এলাকায় পতিত জমি কাজে লাগিয়ে স্বল্প পুঁজিতে আগ্রহী ও অগ্রগণ্য কৃষকদের মাধ্যমে উৎপাদিত কাজুবাদাম ও কফি প্রক্রিয়াজাত, সংরক্ষণ ও বিপণনের পর দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রফতানি করা হবে।

সূত্র জানায়, দেশে কাজুবাদাম এবং কফির চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে গত তিন বছর ধরে কাজুবাদাম এবং কফির চাষ হয়ে আসছে। কিন্তু উন্নত জাত, ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি এবং ভালো বিপণন ব্যবস্থাপনার অভাবে ফসলের চাষ লাভজনক ও জনপ্রিয় হয়নি। পার্বত্য অঞ্চল ছাড়াও দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, সিলেট, টাঙ্গাইল এবং ময়মনসিংহ জেলাগুলো কাজুবাদাম ও কফি চাষের উপযোগী। পার্বত্য অঞ্চলসহ কফি ও কাজুবাদাম চাষের উপযোগী দেশের অন্যান্য জেলায় বসতবাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে উন্নত জাতের কাজুবাদাম ও কফি চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

সারাবাংলা

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close