২১ এপ্রিল ২০২১, বুধবার ১১:৪৯:৩৫ এএম
সর্বশেষ:

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১২:৫৫:০৫ পিএম শনিবার     Print this E-mail this

খাশোগিকে হত্যার অনুমোদন দেন সৌদি যুবরাজ : মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 খাশোগিকে হত্যার অনুমোদন দেন সৌদি যুবরাজ : মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

সৌদি আরবের ক্ষমতাধর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালে সে দেশের ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে (৫৯) হত্যায় অনুমোদন দিয়েছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। সে বছরই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দিয়ে রাখলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা প্রকাশ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ বিন সালমান খাশোগিকে ‘ধরে আনতে অথবা হত্যা করার’ নির্দেশনার অনুমোদন দিয়েছিলেন।

মূলত তিনটি কারণে খাশোগি হত্যাকাণ্ডে মোহাম্মদ বিন সালমানের জড়িত থাকার কথা বিশ্বাস করছে সিআইএ। এক. ২০১৭ সাল থেকে সৌদি রাজতন্ত্রের নীতি নির্ধারণে তাঁর নিয়ন্ত্রণশীল ভূমিকা; দুই. তাঁর একজন উপদেষ্টা ও নিরাপত্তারক্ষী কয়েকজনের সরাসরি হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা এবং তিন. বিদেশে অবস্থানরত ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনে সহিংস উপায় ব্যবহারে তাঁর সমর্থন।

এই প্রথম মার্কিন সরকার খাশোগিকে হত্যার জন্য সরাসরি সৌদি যুবরাজকে দায়ী করল।

মোহাম্মদ বিন সালমান অবশ্য শুরু থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে সৌদি আরবের ৭৬ নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এসব সৌদি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাবেন না। তবে বাইডেন প্রশাসন সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে না বলে মার্কিন বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে।


মোহাম্মদ বিন সালমান ও তাঁর বাবা সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের সমালোচক হিসেবে পরিচিত জামাল খাশোগি জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে চলে গিয়েছিলেন। তিনি ওয়াশিংটন ডিসির শহরতলীতে বসবাস করতে শুরু করেন এবং সেখানে বসেই ওয়াশিংটন পোস্টে নিবন্ধ লিখে সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন। দেশত্যাগের আগে বহুদিন রাজ পরিবারের সঙ্গে জামাল খাশোগির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে তিনি মোহাম্মদ বিন সালমান ও তাঁর রাজ পরিবারের হাঁড়ির খবর জানতেন। সৌদি যুবরাজ ঠিক এ কারণেই জামাল খাশোগিকে ভয় পেতেন।

খাশোগি ২০১৮ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গিয়ে নৃশংসভাবে নিহত হন। সৌদি আরব থেকে বিশেষ বিমানে করে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল তাঁকে হত্যা করার জন্য আগেই ইস্তাম্বুলে পৌঁছে গিয়েছিল এবং তারাই খাশোগিকে হত্যা করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলে বলে পরবর্তী সময়ে জানা যায়। দেহখণ্ডগুলো এসিডে ঝলসে দেওয়া হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। পরে তারা স্বীকার করে যে, এটা একদল সৌদি দুর্বৃত্তের কাজ।

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার অপরাধে আটজনকে দায়ী করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউশন। চূড়ান্ত রায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে পাঁচজনের বিরুদ্ধে দেওয়া ফাঁসির রায় স্থগিত করে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। বাকি তিন আসামিকে সাত থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

হত্যার প্রায় দুই বছর হতে চললেও খাশোগির মরদেহের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close