২০ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার ০৯:৪৮:৫৯ এএম
সর্বশেষ:

০৬ এপ্রিল ২০২১ ০৩:৫৫:৪৮ এএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞার অজুহাত, আরও বাড়ল পণ্যের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞার অজুহাত, আরও বাড়ল পণ্যের দাম

লকডাউনের প্রথম দিনে পণ্য সরবরাহ সংকটের অজুহাতে রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এই দফায় চাল, ডাল, আটা, শাকসবজি, ফলমূল ও মসলার দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। অথচ বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।


করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাত দিনের লকডাউনের প্রথম দিনেই (সোমবার) সব ধরনের চাল খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা, সবজি প্রকারভেদে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা, এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। কেজিতে এলাচের দাম ৫০০ টাকা, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ একাধিক মসলাজাতীয় পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে রাজধানীর বাজারে খাদ্যপণ্যের কোনো ধরনের সংকট দেখা যায়নি; বরং চাহিদা ও ক্রেতার তুলনায় সব ধরনের পণ্যের বেশি মজুত দেখা গেছে। রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোয়ও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনে রমজান মাস তাই এখনই দ্রুত পদক্ষেপ না-নিলে ব্যবসায়ীরা লকডাউনের অজুহাতে পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে ফেলবে। দাম বাড়লে তা সহজে কমে না। ফলে বাড়তি দাম পুরো রমজান মাস অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে এসব পণ্যের দাম বাড়ার তথ্য খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক পণ্যমূল্য তালিকায়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলছে, এদিন লম্বা বেগুনের দাম ১০ টাকা, আমদানি করা আদা ২০ টাকা, শুকনা মরিচ ২০ টাকা, আমদানি করা ও দেশি রসুনের দাম ১০ টাকা, মুগ ডাল ১০ টাকা ও মসুরের ডাল প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে মাছের দামও। ২২০ টাকা কেজির রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলাকালীন নিত্যপণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, পাইকারি ও খুচরা বিক্রিতে কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি।

সোমবার বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সড়ক, নৌ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এ বিষয়ে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে আলাদা করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ফ্রিজিং ওয়াগন (পণ্য পরিবহণের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি) চালু করে বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত বছর দেশে সাধারণ ছুটি চলাকালীন বিভিন্ন কারণে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছিল। সে সময় কিছু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে এবার প্রথম থেকেই অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কাজ করছি। আশা করছি, বাজারে কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বিষয়ে গত রোববার সারা দেশের ডিসি, ইউএনওদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও আন্তঃজেলা পরিবহণে যাতে কোনো সমস্যা না-হয়, তার জন্য তদারকি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সড়ক, নৌপথের পরিবহণগুলো যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় চিঠি দিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। লকডাউনের সময়ে কৃষিপণ্য বহনকারী পরিবহণগুলো যাতে কোনো বাধার মুখে না-পড়ে, সেজন্য পণ্যবাহী বাহনে ব্যানার লাগিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে বিআরটিসির যেসব ট্রাক রয়েছে সেগুলোও অর্ধেক ভাড়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য পরিবহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পণ্য পরিবহণে বিশেষ ট্রেন দেওয়া হবে, না-যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে শুধু বাড়তি ওয়াগন যুক্ত করা হবে-এ বিষয়ে দু-একদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকর করা হবে।

রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ, পটোল, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়, যা রোববার ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা রোববার বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা। প্রতি কেজি ৩৬-৩৭ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

তবে নয়াবাজারে এই টমেটো ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা রোববার বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা। পাশাপাশি প্রতি পিস লাউ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা রোববার ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। রাজধানীর কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, লকডাউনের কারণে সময়মতো সবজিবাহী ট্রাক বাজারে আসতে পারেনি। তা ছাড়া ট্রাকও কম এসেছে। যে কারণে সবজির সংকট রয়েছে। তাই দাম বাড়তি।

জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, এ জন্য আমি সাধুবাদ জানাই। তবে এই বিধিনিষেধে পণ্য বহনকৃত পরিবহণ আওতামুক্ত।

তাই পণ্য সংকটের কারণে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পণ্যের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক। এ বিষয়ে সরকারকে বাজার মনিটরিং সমন্বিতভাবে করতে হবে। তা না-হলে ব্যবসায়ীরা লকডাউনের অজুহাতে ভোক্তাদের জিম্মি করে ফেলবে।

অন্যদিকে সরকারি সংস্থা টিসিবির দৈনিক বাজারমূল্য তালিকায় লক্ষ করা গেছে, এদিন কেজিতে সর্বোচ্চ ২ টাকা বেড়ে মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬৬ টাকা। পাইজাম চাল কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। এ ছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকা, যা আগে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দিদার হোসেন বলেন, বাজারে সব ধরনের চালের দাম বাড়তি। লকডাউনের খবর শুনে ভোক্তারা হুমড়ি খেয়ে চাল কিনেছেন। তবে সরবরাহ দু-এক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে-দামও কমবে।

টিসিবির পণ্যমূল্য তালিকা থেকে দেখা যায়, সোমবার কাঁচা মরিচের কেজি ৬০-১০০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, এলাচ ৩ হাজার ৫০০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৪০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩০০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, মুগ ডাল ১৪০ টাকা, মাঝারি দানা মসুর ডাল ৯০ টাকা ও তুরস্কের বড় দানার মসুর ডাল প্রতি কেজি ৭০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, একদিনের ব্যবধানে দাম বাড়ার চিত্র একেবারেই অযৌক্তিক। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একাধিক টিম বাজারে আছে। কী কারণে দাম বাড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারসাজি শনাক্ত করা সম্ভব হলে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close