২০ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার ১০:১০:২৬ এএম
সর্বশেষ:

০৮ এপ্রিল ২০২১ ০২:৫৭:৫৩ এএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

নতুন জাতের পেঁয়াজ বীজ উদ্ভাবন

মালেকুজজামান কাকা, যশোর থেকে
বাংলার চোখ
 নতুন জাতের পেঁয়াজ বীজ উদ্ভাবন

 এখন থেকে সরাসরি বীজ বুনে পেঁয়াজ চাষ করা যাবে। চাষিদের জন্য এ জাতের পেঁয়াজ বীজ বারী-১ উদ্ভাবন করেছেন যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। ফলে চাষিদের আর বীজ হিসেবে পেঁয়াজের বাল্ব বা কন্দ ব্যবহার করতে হবে না। যশোরের কৃষক নতুন দুটি জাত নিয়ে খুবই আগ্রহী। ইতিমধ্যে অনেকেই নতুন জাতের দুটি পেয়াজ পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেছেন।

বারী-১ এবং বারী-৫ পেয়াজের ফলন হবে বিঘাপ্রতি ৭৫-৮০ মন। এখন তা হয় ২৫-৩০মন। খরচও কমবে।
প্রতিবছরই দেশে পেঁয়াজের সংকটের সবচেয়ে বড় কারণ বীজ সংকট ও সংরক্ষণের অভাব। আমাদের দেশে বীজ হিসেবে সাধারণত পেঁয়াজের বাল্ব বা কন্দ চারা হিসেবে ব্যবহার করে চাষ করা হয়। এতে বিঘাপ্রতি খরচ হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ফলে অনেকের ইচ্ছা থাকে কিন্ত খরচের ভয়ে পেঁয়াজ চাষ করতে পারেন না।

পেঁয়াজ চাষকে সাশ্রয়ী ও লাভজনক করে তুলতে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা মানসম্মত পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করতে গবেষণা শুরু করেন বেশ আগেই।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, যেহেতু এই বীজ আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এর ফলে অনেক টাকা চলে যায়, সে জন্য কৃষক পর্যায়ে বীজ দিতেও পারি না বেশি। তাই আমাদের কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বীজ প্রযুক্তির বিভাগের আওতায় একটি প্রকল্পে মাধ্যমে আমরা বীজ উৎপাদন কার্যক্রম করছি। এখান থেকে উৎপাদিত বীজ আগামী বছর কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে।

এক বিঘা জমিতে যেখানে ৫/৬ মন পেঁয়াজের কন্দ লাগে সেখানে এক কেজি বীজ দিয়ে ৫/৬ হেক্টর জমি চাষ করা সম্ভব। তাতে কৃষককের খরচ হবে মাত্র ৫/৬ হাজার টাকা। ফলে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষ বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গবেষকরা।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাওসার উদ্দীন আহম্মদ জানান, নতুন এই পেঁয়াজের বীজ আমরা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করলে আমাদের দেশে পেঁয়াজের যে সংকট তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে এবং বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয় এই পর নির্ভরশীলতা আর থাকবে না।

কৃষি বিজ্ঞানীদের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কৃষকেরা।
বারি পেঁয়াজ-১ এর ফলন তোলার পর বীজ আকারে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সহজ শর্তে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।

সারা বছর চাষযোগ্য বারি পেঁয়াজ-৫
সারা বছর চাষযোগ্য নতুন জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। জাতটির নাম দেওয়া হয়েছে `বারি পেঁয়াজ- ৫। ইতিমধ্যে জাতটি কৃষকদের মাঝে অবমুক্ত করা হয়েছে। ঘাটতি মেটাতে এবং কৃষকদের মাঝে জাতটির চাষ জনপ্রিয় করতে সম্প্রতি পেঁয়াজের বারির গাজীপুর আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র মাঠ দিবসের আয়োজন করে।
বাংলাদেশে মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ` প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত পেঁয়াজ বীজ ও বীজকন্দ উৎপাদন প্রযুক্তি` বিষয়ক এ কৃষক মাঠ দিবসে ৭০জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

মাঠ দিবসের উদ্বোধন করেন বারি মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম। মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহা. সহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে বারি ও বারি মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিভিন্ন বিভাগের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বিজ্ঞানীরা কৃষকদের জানান, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন।

প্রতি বছর ঘাটতির প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী করতে হয়। ঘাটতি মোকাবেলা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বছরব্যাপী চাষের জন্য বারি পেঁয়াজ-৫ উদ্ভাবন করেছে। জাতটি একদিকে বছরব্যাপী চাষ করা যায়, অন্যদিকে অন্য জাতের তুলনায় বারি পিয়াজ-৫ এর উৎপাদন ২-৩ গুণ বেশি। বিঘা প্রতি অন্য জাতের পেঁয়াজের উৎপাদন যেখানে ২৫-৩০ মণ, সেখানে বারি পেঁয়াজ-৫ এর উৎপাদন ৭৫-৮০ মণ। তাই জাতটি চাষ করলে কৃষক লাভবান হবে। দেশে পিঁয়াজের ঘাটতি মেটানোও সম্ভব।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close