২৩ অক্টোবর ২০২১, শনিবার ০৪:৪৬:৪১ পিএম
সর্বশেষ:

০৭ জুন ২০২১ ০২:২৪:০৬ পিএম সোমবার     Print this E-mail this

অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য বাজেট কি প্রশংসনীয় হতে পেরেছে?

মো. মাজেদুল হক
বাংলার চোখ
 অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য বাজেট কি প্রশংসনীয় হতে পেরেছে?

মাননীয় অর্থমন্ত্রী যেদিন সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য বাজেট পেশ করেন সেদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১২হাজার ৭২৪ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮ লাখের বেশী। করোনাসংক্রমন দেখা দেওয়ার পর এটা ছিল দ্বিতীয় বাজেট যার আকার ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৬ শত ৮১ কোটি টাকা।করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭.২শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও ২০১৯-২০ অর্থবছরেকরোনার কারনে তা কমে ৫.২ শতাংশে দাঁড়ায়। আমাদের জন্য সুখবর যে, দেশে মাথাপিছু আয় বর্তমানে ২হাজার ২২৭ ইউএস ডলারে দাঁড়িয়েছে । প্রস্তাবিত বাজেটের তথ্য অনুসারে, গত ১৫ বছরে দারিদ্র্যের হারও কমেঅর্ধেক হয়েছে। এ হার আরও কমে যাবে । কারন এবারের বাজেট কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মূখ্য ভ’মিকা পালনকরবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এরই মধ্যে ১০ লাখ তরুন-তরুনীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিজিটালবাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে আরও ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মোট ১০০টিঅর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ৩৭টির কাজ শেষ হলে আরও ৮ লাখ মানুষ কাজ করার সুযোগ পাবে। যা করোনাবিধ্বস্ত অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এছাড়াও সরকার গ্রামীন অর্থনীতিতে ই-কমার্স বিষয়ক ক্ষুদ্র ওমাঝারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করার জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ই-কমার্সকে সম্প্রসারিতকরার জন্য সরকার ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিবে। তবে আমার দিক থেকে পরামর্শ যে শুধুপ্রশিক্ষণ দেওয়ার ভেতর সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তাদেরকে ব্যবসা শুরু করার জন্য আর্থিকভাবেসহযোগীতা করতে হবে। তাহলে এ কর্মসূচীর সফলতা আসবে। ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীমের আওতায় তাদেরকেঅন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে। এছাড়াও প্রতিবছর পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ো ৪লাখের বেশী নতুন গ্রাজুয়েটদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশ পাঠাতে পারলে একদিকে রেমিট্যান্স বাড়বে সেই সাথেবেকারত্বের হারও হ্রাস পাবে। এবার প্রস্তাবিত বাজেটে তরুনদের জন্য অনেক সুবিধা দেওয়া হয়েছে যা অত্যন্তইতিবাচক। যেমন বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি সেবায় তরুন উদ্যোক্তাদের কর ছাড় দিয়েছে সরকার। এমনকি ল্যাপটপআমদানীতে শূল্ক বাড়েনি। তবে বিদেশী ফিচার ফোনের আমদানীতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ করাহয়েছে। অন্তত করোনার সময় এ সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হয়নি। বাংলাদেশে এখন মোট মুঠো ফোন ব্যবহারকারীরমধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগের কাছাকাছি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। করোনা ভাইরাসের কারনে সরকার যে “ আমারঘরে আমার স্কুল” কর্মসূচি চালু করলো সেটা সম্পূর্ন স্মার্ট ফোন নির্ভরশীল। এ কর্মসূচী অনলাইন ভিত্তিক যারজন্য প্রয়োজন স্মার্ট ফোন এবং সাথে ইন্টারনেট সুবিধা। সরকার ইতোমধ্যে স্মার্ট ফোন কিনতে ৪১ হাজার৫০১ জনকে ঋণ দিয়েছে। যে ৪ কোটি শিক্ষার্থীকে এ কর্মসূচীর আওতায় পাঠদান করা হবে তাদের বেশী টাকাব্যয় করে স্মার্ট ফোন কেনার সক্ষমতা নাও থাকতে পারে। ঋনের ব্যবস্থা না করে স্মার্ট ফোনের দাম কমানোযোক্তিক মনে করি। অনেকে ঋণের সদ্ব্যবহার নাও করতে পারে। করোনা মহামারীর ভেতর মানুষের আয় হ্রাসপাওয়ায় ক্রয় ক্ষমতা কমে গেছে। এটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট করহারকমানো হয়েছে যা বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান এর জন্য সহায়ক হবে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখটাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভার এর উপর কর মওকুফ করা হয়েছে। এত করে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে সেইসাথে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে বাজেটে যে ভ্যাট ফাঁকির জরিমানা কমানো হয়েছে এটা আমারকাছে যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আমরা সবাই জানি যে বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশেরকাছাকাছি বহুবছর ধরে ঘুরাঘুরি করছে। এছাড়াও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কখনো পূরণ হয়নি। আবারকরোনা ভাইরাস শুরু থেকে রাজস্ব আয় কমে গেছে। এ দেশে ১৬ কোটির বেশী জনগনের মধ্যে টিআইএন এরআওতাভ’ক্ত ২৫ লাখের বেশী মানুষ কর প্রদান করে না। এছাড়া কর ফাঁকি দেওয়া সম্পদশালীদের মধ্যে একটারেওয়াজ হয়ে গেছে। আমি বলবো ভ্যাট ফাঁকির জরিমানা আগের চেয়ে আরও বাড়ানো উচিত। কয়েক বছরেরমধ্যে কর-জিডিপি হার ১৫ শতাংশের কাছাকাছি না গেলে ঋণ-জিডিপি হার বাড়তে থাকবে। এত করেঅর্থনীতি ভারমাম্য হারিয়ে ফেলবে। করের জাল বিস্তৃত করার লক্ষ্যে গ্রাম বাড়ির নকশা অনুমোদনের জন্য করশনাক্তকরন নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভাল উদ্যোগ। তবে প্রবাসীদের জন্য করারোপ শিথিল করা যেতেপারে। তারা বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।এছাড়াও ঘরে বসে রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। বিগত আট বছরে করজাল ৪৫৫ শতাংশবেড়েছে । আমার মতে আগামী অর্থবছরে করজাল বাড়ার হার আরও বেড়ে যাবে। এখন থেকে ৩ লাখ টাকারবেশী আয় করলে কর দিতে হবে। সাধারনত এ আয়ের ভেতর কর দিয়ে থাকেন নি¤œ ও মধ্যম আয়ের মানুষ।করোনার মধ্যে যারা রাতারাতি কাজ হারিয়েছেন তারা সবাই নি¤œ আয়ের লোক। তাদের কথা চিন্তা করেকরারোপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। রেমিট্যান্স বেড়ে এখন ২৪ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। এটা একমাত্রসম্ভব হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়ের মাধ্যমে। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণে তাদেরকে উৎসাহিতকরার জন্য সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০২১-২২ প্রস্তাবিতবাজেটে ২ শতাংশ রাখা হয়েছে। এটাকে বাড়িয়ে ৩ অথবা ৪ শতাংশ করলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েযাবে। অতি ধনীদের উপর সারচার্জ বাড়ানো সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিগত কয়েক বছর ধরেবংলাদেশে আয়-বৈষম্য বেড়ে চলেছে। করোনা প্রকোপের কারনে বৈষম্য আরও বেড়ে গেছে। আয় বৈষম্যেরমাপকাঠি গিনি সহগের মান লকডাউনের আগে ছিল ০.৪৮২ যা লকডাউনের পরে ( ৩১ মে ২০২০) নাগাদবেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৬৩৫। এছাড়াও ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধনকুবেরের ( ৫০ লাখ ডলারের বেশীসম্পদের অধিকারী) সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৪.৩ শতাংশ হার। চীনে এ হার আরও কম। সম্প্রতি ভারতের সাথেবাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করনো সংক্রমনের হার বেড়ে চলেছ। আগে শুধু বিভাগীয় শহরেরভেতরে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটাকে সামাল নাদিতে পারলে অর্থনীতির জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে। বাজেটে ঘোষনা করা হয়েছে গ্রামে হাসপাতাল খুললেকর ছাড়। এ উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার যেচিকিৎসা গবেষনায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল তা খরচ হয়নি। তারপর আবারও ১০০ কোটি টাকাবরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে গবেষনায় স্বল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ অনেক পিছিয়ে আছে। উন্নতদেশগুলোতে চিকিৎসা গবেষনায় বছরে বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। সময়ের প্রয়োজনে আমাদের বরাদ্দকৃত টাকানিয়ে বসে থাকলে চলবে না। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতা বাড়ানো হয়েছে । যতটুকু বাড়ানো হয়েছে তাযথেষ্ঠ নয়। কারন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, নতুন করে গরীব হওয়া ১৬.৩৮ মিলিয়ন মানুষের পাশেদাঁড়াতে হবে আর্থিক সহযোগীতার মাধ্যমে। যদিও ৩৫ লাখ মানুষকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেরমাধ্যমে নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় ১৪ লাখেরকাছাকাছি মানুষকে অর্ন্তভ’ক্ত করা হচ্ছে। এবার আরও ১২০ উপজেলায় ৮ লাখ বয়স্ক নাগরিককে ভাতারআওতায় আনতে চায় সরকার। করোনা পরিস্থিতিথির মধ্যে ভাতা বাবদ অতিরিক্ত ৪৮১ কোটি টাকার পরিবর্তে৫০০ কেটি টাকা করা গেলে ভাল হতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারীর ১৬ মাসে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩৫লাখ থেকে সাড়ে ছয় কোটির বেশীতে গিয়ে ঠেকেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সামাজিক সুরক্ষাখাতে ১ লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ কি পর্যাপ্ত? বিদেশী মাংস, বিদেশী বিস্কুট আমদানীর ক্ষেত্রেভ্যাট এবং সস্পূরক শুল্ক বাড়ানো যোক্তিক। এছাড়াও “ মেইড ইন বাংলাদেশ” ব্রান্ডকে বিশ্ব ব্যাপী বিস্তৃত এবংউদ্যোক্তাদেও উৎসাহিত

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close