২৩ অক্টোবর ২০২১, শনিবার ০৫:৩৩:০৩ পিএম
সর্বশেষ:

১৪ জুন ২০২১ ০১:১৫:০৯ এএম সোমবার     Print this E-mail this

২৬৪ বছর আগে পরাধীনতার জিঞ্জির খুলতে পারিনি আজও

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী
বাংলার চোখ
 ২৬৪ বছর আগে পরাধীনতার জিঞ্জির খুলতে পারিনি আজও

২৬৪ বছর আগে যে পরাধীনতার জিঞ্জির ফিরিঙ্গীরা পড়িয়েছে আজও কি তা থেকে মুক্তি হলো না৷মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরীঃ ১৭৫৭সলের জুনে মির্জা জাফর আলীর ক্ষমতা লোভ আর ইংরেজদের সাথে নিয়ে জগৎ শেঠদের চক্রান্তের সফলতায় আজও স্বাধীন হওয়া হলো না!দক্ষিণ এশিয়ায় ইংরেজ ফিরিঙ্গী, সাম্প্রদায়িক শক্তি, হিন্দু, খৃষ্টান, মোশরেকরা মোনাফেকদের সহযোগিতা অসাম্প্রদায়িক, মানিক,অন্যায়ের প্রতিবাদকারী আলেম-ওলামা ও আল্লাহ তালা, ও রাসুল সাঃ এর নির্দেশনা বাস্তবায়নকারীদের জবরদখলকারী,আল্লাহ তালার প্রদত্ত যমিনের মালিকদের উপর জুলুমকারীদের প্রতিপক্ষ হিসাবে চিহ্নিত করে দেয়! কারণ সকল জালেম,কষাই,আর জনগনের রক্ত চোষকদের প্রতিরোধ আলেম-ওলামা ও দীন প্রচারকারীদের করতে হয় উত্তম পুরস্কার পাওয়ার আশায়।ইষ্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি, ব্রিটিশ সহ তাদের অনুসারীদের প্রত্যক্ষ ভাবে ক্ষমতা ত্যাগ করতে হয়েছে আলেম-ওলামাদের জন্যে।তারা মুসলমানদের সুশোষন করতে, কর্জে সাথে সুদ সংযুক্ত করে সর্বশান্ত করার ব্যাবস্হা করে।মানবজাতির কল্যান আল্লাহ পাক দয়ার নবীর মাধ্যমে যে শিক্ষাদেন তা থেকে খুব কৌশলে আড়াল করে ভুল তথ্যে দিয়ে।তারপর কোরআন ও হাদিসের ভুল ব্যাখা দিয়ে পীর প্রথা প্রচলিত করে,মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার প্রক্রিয়া শুরু করে! তারপর অফিসিয়াল এ্যাক্ট সহ বিভিন্ন কালাকানুন করে,জনগনের সম্পদ আর অধীকার লুটপে!কিন্তু তা রক্ষা করতে গেলেই মহাঅপরাধ হিসাবে গন্য করার বিধান প্রনয়ন করে।জনগণের অর্থে লালিত পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী গঠন করে,যে আইনদ্বারা পরিচালিত করা হয়,তাদের মনিব বা জনগন এর নিরাপত্তা ও সেবার পরিবর্তে লুটেরা এবং জালেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।এ সব বিধানের তৈরী করে ১৯০ বছর এদেশের মালিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার পদদলিত করে গেছে।আজ ৭৪ বছর পরো তাদের অদৃশ্য জুলুম চলছে।২৬৪ বছর আগে ইহুদী, খৃষ্টান, হিন্দু,মোশরেকরা মুনাফেকদের মাধ্যমে অপরাধীকে প্রশ্রয় দিয়ে,সাধারণ মানুষের সাভাবিক জীবিন ব্যাহত করছে। বিশ্বে যেখানে উপবেশিতরা দখল করে শাসন করেছে,সেখানকার মানুষই মজলুম!আজ অবিভক্ত ভারত বর্ষ বিভক্ত হওয়ার পরও ন্যায় বিচার, আইনের শাসন ও রাজকর্মচারীদে অসুভন আচরণ চরম পর্যায়ে পৌছে যে? উপনিবেশীক শাসকদের ক্ষমতা দীর্ঘ স্হায়ী চক্রান্ত কম করে নাই!আলেম-ওলামাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করার কৌশল যখন ব্যার্থ হয়।তখন আই ওয়াস করতে নতুন পথে হাঁটতে থাকে।১৮৮৫ সালে থিওজোফিক্যাল সোসাইটি`র কিছু"অকাল্ট" সদস্য কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করে।এাঁরা হলেন অ্যালান অক্টোভিয়ান,হিউম,দাদা ভাই নওরোজি,দিনেশ এদুল জি ওয়াচা,উমেশচন্দ্র,বন্দ্যোপাধ্যায়,সুরেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যয়,মনমোহন ঘোষ,মহাদেব গোবিন্দ, রানাডে উইলিয়াম, ওয়েডারবার্ন!এটি যে দুরভিসন্ধি নিয়ে গঠন করে।সেই চক্রান্তের কৌশলে পরিবর্তন করে, এই অন্চলে শান্তি ও মুসলিম বিদ্ধেষী কর্মকাণ্ডে প্রতি মুসলিম নেতাদের প্রতিরোধের দেওয়াল গড়তে প্রায় ২১ বছর সময় লেগে যায়!তখন নিখীল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোগ নেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। ৩১ ডিসেম্বর ১৯০৬ সালে ঢাকায় দলটির আত্মপ্রকাশকালীন প্রতিষ্টা সভাপতি হন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সুলতান মুহাম্মদ শাহ্ আগা খান,খাজা সলিমুল্লাহ,হাকিম আজমল খান প্রমুখ।ইতিমধ্যে ইংরেজ ফিরিঙ্গী বেনিয়ার নতুন কৌশল মুসলমানদের উপর জুলুম চালানোর জন্যে!আবার ১৯৪৬ একটা দাঙ্গা বাধিয়ে অগনিত মুসলিম হত্যা করায়।মজলুম জনতারনেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী নিখীল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের ৩৩বছর পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন।প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃশামসুল হক।যুক্তফ্রন্ট গঠন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে যান! কিন্তু আ`লীগ জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করাই মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আ"লীগ থেকে পদ ত্যাগ করেন।৮ বছর পর অর্থাৎ ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী ন্যাশনালআওয়ামী পাটি ন্যাপ গঠন করেন? ১৮৮৫ সালে যখন ব্রিটিশ, ইষ্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি ও তাদের মিত্রদের নিয়ে ইসলামবিদ্ধেষী শক্তির ঐক্য গড়ে তুলতে থিওজোফিক্যাল সোসাইটির নামে রহস্য আবৃত "অকাল্ট" গঠন করে।যারই ধারাবাহিকতায় কংগ্রেস এর সৃষ্টি বা প্রতিষ্ঠা করে!যা উপনিবেশক শাসন -শোষন থাকবে আইনের নামে স্বশরিরের তাদের অস্ত্বিত্বের খুজে পাওয়া যাবে না?কিন্তু ১৭৫৭ সালে যে স্বাধীনতাকে পরাধীনতার শিকল পড়ানো হয়েছে,তা অব্যাহত রাখে?উপনিবেশিক শাসন যেখানে হয়েছে, সেই দেশের সামাজিক, নৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা,শান্তি, আইন শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার, ন্যায় বিচার ভেঙে পরেছে।আর এই শাসন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই তারা অনুপ্রবেশ ঘটায়?এরা উন্নয়নের নতুন মডেল উপস্থাপন করে।আর তা হচ্ছে ভৌতিক অবকাঠামো উন্নয়নের দেশের অর্থনীতি পাচার ও বেকারত্ব বৃদ্ধিতে না না কৌশল ফাঁদে?১৭৫৭ সালের পর থেকে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগরিষ্ঠ, নতুন তোকমা জুলুম করতে সৃষ্টি হয়।হযরত খাজা গরিবে নেওয়াজ,নিজামুদ্দিন আউলিয়া,শাহ জালাল-শাহ পরান সহ ৩৬০ আউলিয়া কেও ই পীর মুরিদী করেছেন, এমন তথ্য আজও পাওয়া যায় নাই?ক্রিকেটে একটা খেলে উপনিবেশেক শোষিত দেশ ছাড়া অন্য কোথাও, এ খেলার তেমন প্রচলন নাই!সাম্প্রদায়িক শক্তির উথান তারা ঘটিয়ে অসম্পদায়িকদের ঘাড়ে দায় চাপানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়, ১৭৫৭র পর থেকে। তার আগে প্রায় ৮০০শত বছর মুসলিম শাসকরা দেশ পরিচালনা কালে মানুষে মানুষে কোন ভেদা-ভেদ ছিলনা।মোঘল শাসন আমলে বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকার কারনে, কাজী দরবার বাদশা পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে,তাদের কাজীর দরবারে হাজির হতে হতো!রাজকর্মচারীরা চাকরি করা কালিন জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হতো! এই গোটা ব্যাবস্হা, সামাজিক সম্প্রতি, নাগরিক অধীকার সব কিছু ধুমরে মুচরেদেয় উপনিবেশিক দখলদাররা।কাশ্মীর,বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া মুসলমানদের সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসাবে চিহ্নিত করে অত্যান্ত কৌশলে প্রকৃত সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে অত্যান্ত নিরাপত্তার সাথে অপরাধ সংগঠিত করেদেয়।তাই ১৯৪৭ এর পর ১৯৭১ পুনরায় রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হলেও,এ অন্চলের জনগন স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বলতে যা,বুঝায় তা আজো পায় নাই! তাই সাধারণ মানুষের রক্ত ঘাম করা অর্থদিয়ে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ আমোদ-প্রমোদ আর ফূর্তি করে।আর তাদের আধা পেট খেয়ে জীবন -ধারণ করতে হয়।তারপর অর্থ কমতি দেখা গেলে তাজা রক্ত নিতেও ভোলেনা।আজকে এ জন্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,১৭৫৭ সালে যে পরাধীনতার জিঞ্জির পরিয়েছে,তা থেকে এ অন্চলের মানুষ মুক্তি পেয়েছে কি? না কি আজো পরাধীন! এবারে মত এখানে শেষ করতে চাই।

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী:লেখক, সাংবাদিক ও  চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ)

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close