১৬ অক্টোবর ২০২১, শনিবার ০৬:১৯:০৪ পিএম
সর্বশেষ:

১০ অক্টোবর ২০২১ ১১:৩৫:২১ পিএম রবিবার     Print this E-mail this

যশোর শিক্ষা বোর্ডে আড়াই কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর
বাংলার চোখ
 যশোর শিক্ষা বোর্ডে আড়াই কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে

যশোর শিক্ষাবোর্ডের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন বোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা। রোববার সকাল দশটায় দুদক সমন্বিত যশোর কার্যালয়ে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ দাখিল করেন। পরে বেলা ১২টার দিকে দুদক কর্মকর্তারা বোর্ডে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। বোর্ড চেয়ারম্যানের দাবি, ঘটনার সাথে জড়িতরা টাকা ফেরত দিতে যোগাযোগ করছেন।
চলতি অর্থবছরে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সরকারি কোষাগারে জমার জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাবদ দশ হাজার ৩৬ টাকার নয়টি চেক ইস্যু করে। এই নয়টি চেক জালিয়াতি করে ‘ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এক কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার দশ টাকা এবং ‘শাহীলাল স্টোর’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৬১ লাখ ৩২ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। সরকারি ছুটি থাকায় ঘটনা প্রকাশ্যে আসার দুইদিন পর আজ বোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা দুদক কার্যালয়ে গিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর বেলা ১২টার দিকে দুদক কর্মকর্তারা বোর্ডে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। দুদক কর্মকর্তারা সকল কাগজ পত্র সংগ্রহ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর পালিয়ে যান হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। রোববারও তিনি অফিসে আসেননি। অফিসে তার কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে।
যশোর শিক্ষাবোর্ড অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবুল বলেন, হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম এর আগেও অনেক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১২ লাখ টাকার একটি দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে সময় তদবির করে তিনি সেখান থেকে রক্ষা পান। এরপর আড়াই কোটির টাকা দুর্নীতির সঙ্গেও তিনি জড়িত বলে নাম আসছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আব্দুস সালাম দুর্নীতির মাধ্যমে উপশহরে দুইটি আলীশান বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি এলাকায় ১০ বিঘা জমি, যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের মালিকানা অর্জন করেছেন।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের একটি সূত্র জানায়, অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও তার নিকটজনরা টাকা ফেরত দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
অপর দিকে শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল ইসলাম বোর্ড কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তিনি তার কাছে থাকা লক্ষাধিক টাকা ফেরত দিতে চাইছেন।
বোর্ড সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা বলেন, মাঝে দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় আজ আমরা দুদকে একটি অভিযোগ দিয়েছি। দুদক কর্মকর্তারা সেটি গ্রহণ করেছেন।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্যা আমীর হোসেন বলেন, ঘটনা জানাজানির পর থেকেই হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা টাকা ফেরত দিতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া। টাকা ফেরত দিলেও তা আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close