১৬ অক্টোবর ২০২১, শনিবার ০৫:০৭:০৮ পিএম
সর্বশেষ:

১২ অক্টোবর ২০২১ ১০:২১:২০ পিএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

চরম উত্তেজনা গালদাহ গ্রামে

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর
বাংলার চোখ
 চরম উত্তেজনা গালদাহ গ্রামে

 মোবাইল সেট চুরির কল্পিত অভিযোগ এনে চিহ্নিত দূর্বত্তরা গালদা গ্রামে নিরীহ কয়েকজন গ্রামবাসীকে মারাত্মক জখম করেছে। যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের এই ঘটনায় মারাত্মক জখম আহত মহিববুল ইসলাম বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি একই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের গাজীর পুত্র। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ব্যক্তির রাজধানি ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আহত অন্যরা স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহন করেছেন। এ বিষয়ে মনিরামপুর থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় গালদাহ গ্রামে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কেন থানায় অভিযোগ দেওয়া হলো এই কৈফিয়তে অভিয্ক্তুদের পক্ষে বহিরাগতরা মহড়া শুরু করেছে।
ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে একটি মোবাইল চুরি কেন্দ্রিক শালিষ বসে। সিদ্ধান্ত হয় পরদিন মোবাইল কোম্পানী থেকে সিমের কললিষ্ট উদ্ধার করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শালিষ শেষে একটি ভ্যানযোগে বাড়ি ফেরার পথে মাছুমের দোকানের সামনে পৌছালে গালদার মৃত নুর আলীর পুত্র আজহারুল ইসলাম (৫০), আজহারুল মোড়লের পুত্র রিফাত মোড়লসহ ৮/১০ জন মৃত আব্দুল কাদের গাজীর পুত্র আব্দুল ওহাব, মহিববুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে আসামিরা একজোট হয়ে বাশের লাঠি ও হাতে পায়ে উল্লেখিত তিন ভাইকে মারধোর শুরু করে। এসময় তাদের আঘাতে মহিববুল ইসলাম রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পিতা ও চাচাদের রক্ষায় এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা রফিকুল ইসলামের পুত্র খালিদুর রহমানকেও মারপিট করে। পরবর্তীতে মৃত আব্দুল কাদের গাজীর পুত্র জহুরুল ইসলাম, মৃত নজিবুর রহমানের মাহাবুব আল মিজবাহ, মৃত মতলেব গাজীর পুত্র রবিউল ইসলামরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মহিববুল ইসলামকে হাসপাতালে পাঠায়। আহত অন্যরা গ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করেছে।
আহতের ভাই রফিকুল ইসলাম জানান ¯্রফে ইর্ষার বশবর্তী হয়ে আসামিরা এই অপকর্ম করেছে। তারা একটি ফোন নাম্বার ডাইভার্ট করে মোবাইল চুরির কল্পিত অভিযোগ এনে তাদের মারধোর ও জখম করেছে। এর কারন গ্রামে আজহারুল ইসলাম ভ্যালুলেস। তার পুত্র রিফাতও বখাটে। মান সন্মান প্রতিপত্তি সব কিছুতেই তারা অনেক পিছিয়ে। আসামিরা আমাদের সামাজিক কাজেও ইর্ষান্বিত। কেননা রাজনীতি বা সামাজিক কর্মে কখনোই ফিল্ডে নেই। গ্রামে তারা আব্দুল আলিমের পরিচালনায় গালদাহ ওয়েল ফেয়ার গ্রুপ তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করছেন। এতে অভিযুক্ত আজহারুল বা তার পরিবারের কেউ সম্পৃক্ত নয়। এ কারনে তারা ইর্ষান্বিত। অভাবি মানুষকে সহযোগিতা, গাছের চারা রোপণ, মসজিদে সেবায় ব্যস্ত রয়েছে এই গ্রুপের সদস্যরা। এটাই তাদের প্রধান ইর্ষার কারন। প্রায়ই তারা এই নিয়ে তাদের গালিগালাজও করে। পাশাপাশি স্থানীয় সকল রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে আব্দুল আলিম, মহিববুল, রফিকুল ইসলামদের স্মরনাপন্ন হন। এটাকেও ঐ আজহারুল চক্র ভালো নজরে দেখেনা। প্রায়ই তারা এ নিয়ে খিস্তি খেউর করে।
গালদা গ্রামবাসী জানায়, অভিযুক্ত আজহারুলের স্ত্রী সুরাইয়া নিজেকে মনিরামপুর আওয়ামীলীগ নেতা মাহামুদুল হাসান কে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করছে। তবে তিনি তার কোন আত্মীয় নন। একই গ্রামে সুরাইয়ার বাড়ি এটিকেই আত্মীয় দাবি করে সুরাইয়া, সুরাইয়ার স্বামী আজহারুল ও পুত্র রিফাত বহুদিন ধরেই একের পর এক অপকর্ম করলেও কেউ তাদের কোন অপকর্মের কোন প্রতিবাদ করতে পারেনা। এ বিষয়ে মাহামুদুল হাসান জানিয়েছেন, গালদার সুরাইয়া এর কারন আজহারুল কিছুদিন সিঙ্গাপুরে কাজ করে কিছু টাকা আয় করেছে। সেই গুমরেই তাদের মাটিতে পা পড়েনা। এর আগে সে তার আপন ভাই মফিজুরের পৈত্রিক জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়েছে। তাকে প্রায়ই এরা স্বামী স্ত্রী পুত্র মিলে মারধোরও করে। আগে তারা মৃত খোরশেদ আলীর পুত্র ফজরকেও মারধোর করেছে। এরা এখনো মহিববুল ও তাদের পরিবারের সকলকে গালিগালাজ করছে।
স্থানীয়রা জানায় আজহারুল একটি বিতর্কিত মানুষ। তার অপকর্মের শেষ নেই। তিন বছর আগে ময়েন দফাদারের কন্যা আকলিমা খাতুেনর কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা নেয় তিন বছর আগে। দুই বছর আগে গফফার মোড়লের পুত্র হারুন অর রশিদের কাছ থেকে ৯০,০০০ টাকা নেয়। বিদেশে পাঠানোর নামে আজহারুল টাকা নেয়। বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয় সে। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো মামলা দিয়ে তাকে হয়রান করে। আকবর আলী পিং খোরে শদ গাজী পানি দেয়াকে কেন্দ্র করে বছর দুই আগে মারধোর করে আজহারুল।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহত মহিববুল ইসলামের মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা খুব ভালো নয়। তাকে ঘটনার দিনই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতের ভাই রফিকুল ইসলাম ৯ অক্টোবর মনিরামপুর থানায় অভিযোগ করেছেন।
খেদাপাড়া ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুর রহমান ঘটনার পরদিনই আহত মহিববুল ইসলামের বাড়িতে যেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খোজখবর নিয়েছেন। ইউপি আওয়ামীলীগ নেতা শফি উদ্দীনও তাদের খোজ খবর নিয়েছেন। আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আগে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা হোক তারপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। থানা পুলিশকে এক্ষেত্রে তারা সকল ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। কেননা আজহারুল চক্র নিরীহ গ্রামবাসি মহিববুল ইসলাম, তার ভাই-ভাইপোকে মারধোর জখম করাটা রিতীমত বিধি বহিভূত অন্যায় কর্ম। এর প্রতিকার সকলের কাম্য।
খেদাপাড়া ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুর রহমান বলেন, আজহারুল গং খেদাপাড়া ইউনিয়নের গালদা গ্রামে মহিববুল ইসলাম, তার ভাইপো ভাইদের অন্যায়ভাবে মারধোর ও জখম করেছে। তাদের অন্যায় দিন দিন আরো বাড়ছে। এর শেষ হওয়ার জন্য পুলিশকে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close