৩০ নভেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার ০৯:৫২:১২ পিএম
সর্বশেষ:

১৪ নভেম্বর ২০২১ ০২:৫৪:১৭ এএম রবিবার     Print this E-mail this

সংখ্যাগরিষ্ঠরাই এখন সংখ্যালঘু

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী
বাংলার চোখ
 সংখ্যাগরিষ্ঠরাই এখন সংখ্যালঘু

 একটি রাষ্ট্রের যখন তিনটি স্তম্ভের একটা ভেঙে পরে তখন,সেই রাষ্ট্রে সাম্য থাকে কি?আর যদি কোন দেশের কোন নাগরিক সংখ্যাগরিষ্ঠ আর সংখ্যালঘু বলে পৃথক হয়,তাহলে সেই রাষ্ট্রে শান্তি ও স্হীতিশীলতা থাকতে পারে?এ দুটি বিষয় নিয়ে সাম্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে কাজ করে,তাদের চমৎকার বিশ্লেশন শুনলাম?প্রিয় বন্ধুরা আপনারা হয়তো বলবেন,সংখ্যাগরিষ্ঠ আর সংখ্যালঘু তো আসেই!রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এটা স্বীকার করে? কিন্তু যারা সাম্যের সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখে,তাদের দৃষ্টি অন্য রকম তারা বলছে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি, সন্ত্রাসী,জঙ্গি, লুটপাট, অনৈতিক সম্পদের মালিক বা দখলদার ও মেরুদণ্ডহীন তারাই এটার প্রবক্তা!তাদের দৃষ্টিতে যারা নিজেদের সংখ্যালঘু হিসাবে পরিচয়দেয়,আবার রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে দাবী করে,তারা যে দেশের নাগরিক তারা সেই দেশকে নিজের দেশ হিসাবে মানুষিক হিসাবে মানতে নারাজ?যে দেশেবাস করে আয় ইনকাম করে,আর অন্যদেশে সম্পদ রাখে, আর বসবাসকারীদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকে? আর যাদেরকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে,তাদের ঘারে সকল দায়-দায়িত্ব চাপায় নির্বিঘ্নে। অনেকেই মন্তব্য করে আ"লীগ যখনই ক্ষমতায় বসে তখন এমন ঘটনা ঘটার পিছনেই বা রহস্য কি?এটা অনুসন্ধান করতে কথিত সংখ্যা লঘুদাবীদারদের শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচ পন্ডিত, দক্ষ আলেমদের পাঁচ প্রতিনিধি সাবেক একজন গ্রহণ যোগ্য বিচারকদিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে,তাদের তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্হা গ্রহণ কেবল রাজনৈতিক জুলুম,বৈষম্য সৃষ্টির সকল অপকৌশল নিয়ন্ত্রণ করে, সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব? এক অনুসন্ধানে দেখা যায় কাশ্মীর,গোজরাট,আসাম,ত্রিপুরা সহ ইন্ডিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মুসলমানদের গনহত্যা করা হচ্ছে! সেখানে কোন মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের ঘটনা স্হল পরিদর্শনের কোন সংবাদ কি শুনা যায়? কিন্তু বাংলাদেশে দুর্গাপূজার এক হনুমানের পায়ের উপর পবিত্র কোরান রাখা,তারপর পরিতোষ নামে একজন এক বিয়াদবী করা,রংপুরে এক এলাকায় হিন্দু আগুন ধরানো, বৃহত্তর নোয়াখালীর কিছু এলাকায় ইসকন সহ কয়কটি সংগঠন কতৃক মসজিদে হামলা!ইন্ডিয়ান হাই কমিশনার কিংবা তার সহকারী তরিত্ব ঘটনাস্হলে উপস্থিত হওয়া নিয়ে নানা সন্দেহের জাল বিস্তার করেছে। আর এ সব ঘটনা যে সমস্ত এলাকায় ঘটেছে তা অধিকাংশ সীমান্ত এলাকা বলেও সমালোচনায় উঠে আসছে!এরপর থেকে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ,সনাতন ঐক্য পরিষদ,ইসকন সহ কিছু সংগঠন নানা দাবী দাওয়া শুরু করেছে। তবে ইন্ডিয়াতে যে ভাবে ১৯৪৬-২০২১ পর্যন্ত মুসলিম নরহত্যা করছে,সে ব্যাপারে নুনতম প্রতিবাদ করার কথা শুনা যায় না!সীমান্তে মানুষ হত্যার ব্যাপারেও তারা নিরব!চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় উপজাতিদের মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ করে,সেখানকার মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা,মিয়ানমার রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বাচারে হত্যাবাড়ী ঘড় পুরানো,নারী নির্যাতন এমন কি বাংলাদেশের ভীতর এসেও রোহিঙ্গার প্রতিবাদকারী নেতাদের হত্যা করলেও,তারা নিন্দা টুকু জানাতে পারে নাই?১৯৪৬-১৯৬৫ পর্যন্ত উর্দুভাষীদের বহু পরিবার আত্মীয়স্বজন দাঙ্গা হারিয়ে এ অঞ্চলে এসে আশ্রয় নেয়?১৯৭১ এর স্বাধীনতার পর ইন্ডিয়ান কথিত মিত্রবাহিনী তাদের পাকিস্তানি বানিয়ে বাড়ীঘর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদ ও লুটপাট করে। আজও তাদের অমানবিক জীবন-যাপন করতে হয়! তাদের ইন্ডিয়াতে ফীরিয়ে নেওয়ার দাবী ঐ সকল সংগঠনকে করতে শুনা যায় নাই?অথবা তাদের উচ্ছেদ কৃতবাড়ি ঘর ফেরৎ প্রদানের জন্যে একটা বিবৃতি পর্যন্ত দিয়েছেন এমনটি শুনা যায় নাই!এমন কি ইন্ডিয়ান হাই কমিশন,জাতিসংঘ, পশ্চিমা বিশ্ব তাদের জন্য একটু টুশদ্ধ করতে শুনা যায়নি?রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরৎ যাওয়ার বিষয় কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এমন নজিরও খুঁজে পাওয়া দায়? শ্রীলংকা, ভুটান, নেপাল দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ,সন্ত্রাসী ও জঙ্গি চক্রের হাত থেকে আপাতত মুক্ত! সেই চক্র এখন সক্রিয় খুব অল্প সংখ্যক মেরুদণ্ডহীন প্রানী নিয়ে তারা তাদের প্রতিপক্ষ বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে তাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল,পেশাজীবি সংগঠন আর রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ও ছাত্র সমাজের মধ্যে আদর্শহীনদের নেতৃত্বে বসানোর প্রক্রিয়া শেষ? এ সকল বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।কারণ হিসাবে পর্যবেক্ষক মহল মনে করে সমাজকে যারা অসুস্থ করে,তাদের ব্যাবপারে বিচার বিভাগকে অদৃশ্য শক্তি সহনশীল। আর আলেম-ওলামা-ইসলাম প্রচারকারী সমাজকে যারা সুস্থ পথের দিকনির্দেশনা প্রদান করবে,সার্বভৌমকে যারা নিরাপদ রাখার কাজ করবে, তাদের বুকের উপর জগদ্দল পাথর বসাচ্ছে!এই জগদ্দল পাথরটাকে অপসরণ করতে, হলে প্রযোজন জাতিয় ঐক্য কিন্তু এই যাতে হতে না পারে সেই জন্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠ আর সংখ্যা লঘু বিভক্তি করে?দেশের নাগরিক সবাই সমান অধিকার ভোগ করার কথা? দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক আধিপত্য ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আধিপত্য বিস্তার করতে এই সংখ্যালঘু আর সংখ্যা গরিষ্ঠ করে বিভক্ত করে। মুসলমান যখন আল্লাহ তালার দরবারে হাজির হয়,তখন রাজা-প্রজা কিংবা ধনী গরিব কারো মাঝে বিভক্তি থাকে না?সবাই এক কাতারে এক সাথে দাঁড়ায়।কিন্তু একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে দেখা যায় তাদের পুজাঁয় যে ঢলী ঢোল বাজায় তার পুজার মুলবেদীতে যাওয়ার কতটুকু অধিকার থাকে, এটা তাদেরই বিবেচনা করে দেখার প্রয়োজন নয় কি?আজকে বিবেচনা বা পর্যালোচনা করতে গেলে এটা পরিস্কার হয়ে যায় কারা এই মানুষের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আর সংখ্যালঘু বিভক্তি করে, এটা পরিস্কার হয়ে যাবে।আল্লাহ তালার এই যমিনে ৪শত কোটি খৃষ্টান, ২শত কোটি মুসলমান, ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, বা অন্যানদের সংখ্যা আলোচনায় আসে না?কিন্তু এই ইহুদী ও হিন্দুদের বসবাসের এলাকায় মুসলমানরা কি শান্তিতে বসবাস করতে পারে এটা অনুসন্ধান করলেই অনেক ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাবে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করে মানবজাতির বিশেষ করে মুসলিম অধ্যাশিত এলাকায় নাগরিকদের মধ্যে সংখ্যা লঘু আর সংখ্যা গরিষ্ঠ করে বিভক্তি করার পিছনে একটা অসত উদ্দেশ্য কাজ করে এমন ঘটনা হয় তো পাওয়া যাবে। আজকে এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার জনগন বিশেষ করে বাংলাদেশের জনগনের নিরব চাওয়া, কুমিল্লা থেকে যে চক্রান্ত শুরু হয়েছে,যা সারাদেশের মানুষের মধ্যে বিষবাষ্পের মত ছড়িয়ে পরেছে,এই নঘ্নতার সাথে যারা প্রকৃতই জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যাবস্হা করা।এ ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের যারা এই সমস্ত এলাকায় গেছে তাদের কি উদ্দেশ্য ছিলো, সেটাও অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে দাবী উঠছে।দ্বিতীয়ত হিন্দু নাগরিকদের উপর কারা জুলুম করলো,কেন করলো, তারপর আলেম-ওলামা-ইসলামপ্রচারকারীদের কারস্বার্থে কেন টার্গেট এ পরিনত করা হলো এটাও অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তারপর হিন্দু নাগরিকদের ক্ষয় খতি ও প্রায় ২০টা মসজিদ পুড়ানোর সাথে অদৃশ্যে থেকে একই মহল কলকাঠি নাড়ছে কিনা, এ বিষয় পরিস্কার হওয়া দরকার। এটা যদি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উপর জুলুম আর শান্তি বিনিষ্ট করার উদ্দেশ্য হয়,তাহলে তারও কঠিন বিচার এখন দেশের জনগনের প্রত্যাশা?আর দেশের কোন নাগরিক নিজেকে নিজে বা অন্য কেউ সংখ্যালঘু বা বিষ ফোঁড়া হিসাবে পরিচিত করার চক্রান্ত করলে,তাকে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির বিধান করতে হবে! দেশের কোন নাগরিক কে বিচারিক আদালতের নির্দেশনা ছাড়া গ্রেফতার ও হয়রানী বা রিমান্ডের নামে জুলুম করে, অপশক্তির স্বার্থ রক্ষায় স্বীকারোক্তি নেওয়া বন্ধ করা,দেশের প্রতিটি নাগরিককে আইন সমান দৃষ্টিতে দেখার নিশ্চয়তা করতে পারলে সংখ্যা গরিষ্ঠ আর সংখ্যালঘু করে আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগ থাকবে না?রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ যখন দূর্বল করা হয়, তখন নিশ্চয় কোন অসুভ উদ্দেশ্য থাকে এমনটিই সাধারণ নাগরিকদের অভিমত। আল্লাহ তালার যমনি সকল নাগরিকের সমান অধিকার যারা ব্যাক্তির স্বার্থে নাগরিকদের বিভক্তি করে, তারাই পর্দার আড়ালে থেকে এমন অনৈতিক অপরাধ করছে।আর যারা মানুষের মধ্যে বিভেদ বা বিভক্তি সৃষ্টি করে তাদের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য হলো,দাম্ভিক, অহংকার, প্রতিহিংসা পরায়ন অন্যের চরিত্রহনন,আল্লাহ তালার দান মানবাধিকার হরণ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close