৩০ নভেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার ০৯:৩৭:০২ পিএম
সর্বশেষ:

১৭ নভেম্বর ২০২১ ০৩:৪১:০৯ এএম বুধবার     Print this E-mail this

নিপীড়িত ও মজলুম মানুষের নেতা মওলানা ভাসানী!

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন
বাংলার চোখ
 নিপীড়িত ও মজলুম মানুষের নেতা মওলানা ভাসানী!

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর এ বিশ্বভুমন্ডল ত্যাগ করেন। তিনি একাধিক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি তার জীবন দশায় কখনই নিপীড়িত ও মজলুম জনগনকে নিয়ে মিথ্যাচার করে, তাদের নেতা হওয়ার স্বপ্নও দেখতেন না আবার বিশ্বাসো করতেন।তিনি দর্শনের প্রতিপক্ষের কোন বিপদ শুনলে নিরব থাকতে পারতেন না!যাকে আসাম ও বাংলার মানুষ জনগনের আত্মার সম্রাট বলতো!যখন আসামের শাসক মুসলমানদের ওখান থেকে উচ্ছেদ এর পরিকল্পনা করলো!মওলানা ভাসানী আসামের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে, তাদের উপরের অন্যায় আদেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে?তারপর মজলুম এই জননেতা আসামের লোক সভার, সদস্য ছিলেন।এই নেতা শুধুই একজন অন্যায়ের প্রতিবাদী করতেন এটাই নয়? তিনি একজন আধ্যাত্বিক মানুষ ছিলেন।তার মৃত্যু বেশ কিছু দিন আগের একটা ঘটনা উল্লেখ করতে চাই?একদিন আছরের নামাজ পর আমরা কয়জন হুজুরের সাথে নৌকার যাত্রী হই?ভুল যদি না হয় তাহলে নদীটার নাম ধ্বলেশরী। কিছু দুর যাওয়ার পর হুজুর বলছেন, হে মালিক তোমার দান,এই নদী থেকে বড় বড় কৈ মাছ নৌকায় আসলে আমার মেহমানদের খাওয়াতাম? বলা শেষ হওয়ার আগেই বেশ বড় বড় কিছু কৈ লাফ দিয়ে নৌকায় উঠে আসলো! হুজুর মাঝিকে বললেন তুমি এ গুলো রান্নার ব্যবস্হা করো,এশার নামাজ আদায় করে খাবো? যখনি সন্তোষ বা টাঙ্গাইলের উপর দিয়ে যাই তখন, ঐ স্মৃতি চোখের উপর ভেষে উঠে। হুজুরের আধ্যাতিক বিষয়ে যেমন সবাই জানে না!তেমনি তারা রাজনৈতিক দর্শন ও শিক্ষা নিতীও বিভিন্ন নেতা কর্মী বিভিন্ন ভাবে জানেন?ইংরেজের পুলিশ আর ময়মনসিংহের হিন্দু জমিদার মিলে হুজুরের নামে ডাকাতি মামলা করতেও কুন্ঠা বোধ করে নাই?মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আপাদ মস্তক ছিলো নিপীড়িত ও মজলুম মানুষের জন্যে ওয়াকফা করার মত? তিনি মানুষের উপর নিপীড়ন করে আবার নিপীড়িত মানুষের জন্য মায়া কান্না করতেন না?তার বিশাল সম্পত্তি চরের মানুষ আর শিক্ষার জন্যে দান করেছেন।নিজে খালি হাত হয়ে তারপর খালি হাতের মানুষের আল্লাহ তালার দেওয়া বরাদ্দ নিশ্চিত করার আনন্দোলন করতেন?তার প্রতিষ্ঠিত সন্তোষে"ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়ের" শিক্ষাকারি কলম, যদি কেউ পড়ে থাকেন, তাহলে সে বলতে বাধ্য হবে,এটাই কেবল আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের উপযোগী শিক্ষা! ১৯৪৬ ভারত বর্ষ বিভক্তির সময় মুসলিম গনহত্যার কথা তাকে পিড়া দিতো? তবে তিনি বলতেন এই কুলিনরা এত নিলজ্জ্য তারা নিম্নবর্নের মানুষ দিয়ে আরেক পক্ষের মানুষকে হত্যা করিয়ে ফায়দা লুটতো? হুজুর তখন পিজি হাসপাতালে ভর্তি! একদিন আমি মরহুম কবি সমুদ্র গুপ্ত(মিয়া আব্দুল মান্নান) ও মরহুম মুক্তিযুদ্ধা ক,খ,জোয়ার্দার দেখতে গিয়ে, অপ্রাসঙ্গিক কিছু জানতে চাইলাম। হুজুর এককথায় বললেন যারা কোন দিন নামাজ পড়ে না,অথচ প্রাকৃতিক দূর্যোগের আভাস পায় তখন,তারা আল্লাহ, ছাড়া আর কাউকে ডাকে?আমি বললাম না হুজুর! তিনি বললেন ওরা আল্লাহ তালার এই গোলামকে কমিউনিষ্ট বানিয়ে, বিপদকালীন সময় সেই সুযোগ নিয়ে থাকে।রক্তের বন্যার উপর ১৯৪৭ সালে কলোনিয়াল শাসনের প্রতক্ষভাবে অবসান ঘটলেও পরোক্ষভাবে,দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দারস্থ করে গেছে! এ ঘটনা যখন আলাপ করছিলো তখন খুব সম্ভব ১৯৭৬। ১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানকে তথাকথিত স্বাধীনতা দিয়ে বৃটিশ এ অঞ্চল থেকে লোক চক্ষুর আড়াল হয়!গান্ধী, নেহেরু, প্যাটেলদের তখনকার স্বপ্ন ১৫-২০ বছরের মধ্যে তারা পূর্ব পাকিস্তানের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।কিন্তু তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি? স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রুপকার স্হপতি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৫০ সাল থেকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রস্তত করতে থাকে।এর মধ্যে মরহুম শেখ মজিবুর রহমানকে আগারতলা মামলা দিয়ে, রাজনীতি থেকে স্হায়ী ভাবে অবসর অথবা ফাঁসির চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। এমন মজলুম জননেতা দেশে ফিরে এই রকম সিদ্ধান্ত শুনে ঘোষনা দিলে ঢাকা সেনানিবাস ঘেরাওয়ের?এই ঘোষণা শুনেয় পাক শাসকরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, শেখ মজিবুর রহমানকে ছেড়ে দিলো? এর মধ্যে অনেক রাজনৈতিক উথান-পতনের মধ্যে রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা! মজলুম এই নেতা যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন।যুক্তফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকার গঠন করে। কিন্তু যুক্তফ্রন্টের অন্যতম দল আওয়ামী লীগ যার প্রতিষ্ঠাতা মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সামসুল হক।এই দলের যিনি প্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন তার দর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি বন্ধের অনুরোধ করেও যখন কোন কাজে আসলো না!তখন হুজুর জনগনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার কারণে, তার প্রতিষ্ঠিত আ"লীগ এর সভাপতি ও সাধারণ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন।তারপর তিনি তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের নিয়ে"ন্যাশনাল আওয়ামী পাটি"(ন্যাপ) গঠন করতে গিয়ে আক্রমণের স্বীকার হয়।হুজুরের অনুসারীদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হঠে।তারপর কাউন্সিলের মাধ্যমেই ন্যাপ গঠন হয়।এরপর ১৯৬৯ সালে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আহবানে ঢাকায় স্বৈরাচার বিরোধী এক গনমিছিল হয়।এই মিছিলে তথাকথিত বামপন্থী বা ইন্ডিয়া ও রাশিয়া পন্হি ছাড়া সকল ছাত্র,শ্রমিক, মেহনতী মানুষ আর রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে। পথে মধ্যে জামায়াতে ইসলামী যোগ দিলে, ন্যাপ অধ্যাপক মোজ্জাফর আহমেদ(রুশপন্হী)মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকে কানে কানে বলেন হুজুর জামাত গনমিছিলে যোগ দিয়েছে। হুজুর উত্তরদেন শুধু জামাত নয় জীবজন্তু যোগ দিলে তারাও গনতন্ত্রেরের বিশ্বাসী!এই কথা শুনার পর পল্টন পর্যন্ত পৌছানোর আগেই অধ্যাপক মোজ্জাফর আহমেদ সাহেব সহ তার লোকজন বিদায় নেয়?তারপর দক্ষিণ অঞ্চলে ঘূর্ণি ঝড় হয়ে, অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর খবর শুনে, হুজুর প্রায় ১০৩ ডিগ্রি গায়ে জ্বর নিয়ে দূর্গত মানুষের পাশে গেলেন। তার আগেই নির্বাচনের ঘোষণার প্রস্তুতি চলছিল।হুজুর ঢাকায় ফিরে ঘোষণা দিলেন ভোটের বাক্সে লাথি মারো পূর্ব বাংলা স্বাধীন করো!হুজুরের আহবানে সাড়া দিয়ে অধিকাংশ দল নির্বাচন বর্জন করে।তারপর অনেক নাটক শেষে মেজর জিয়া উর রহমান নিজেকে অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষণাদেন।হুজুর তার সাথীদের নিয়ে খুব সম্ভবত বরুইমারী সিমান্ত দিয়ে ইন্ডিয়া প্রবেশ করেন।এরপর প্রবাসী সরকার গঠন ও প্রবাসী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন মজলুম জননেতা। কয়েকটা সভায় অংশগ্রহণের পর ১৯৭২ এর ২২ জানুয়ারী পর্যন্ত হুজুর ইন্ডিয়াতে গৃহবন্দী ছিলেন।বিজয়ের দিন জেনারেল অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ ও দিল্লিতে তখনকার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা হাজার বছরকা বদলা লিয়ার উত্তর খুব দৃঢ কন্ঠে হুজুর জবাব দিলেন।দেশে ফিরেই দেশবাসীকে জানিয়ে দিলেন রক্ত দিয়ে কিনা স্বাধীনতা দিল্লির দাসত্ব করার জন্যে নয়?তারপর তিনি সাপ্তাহিক হক কথা প্রকাশ করতে শুরু করলেন।মাত্র ৮ মাসের হক কথা সহ্য করতে না পেরে বন্ধ করে দিলো।তার কয়কদিন পর হুজুরকে শাহজাহানপুর আবু নাছের খান ভাসানীর বাসা থেকে নিয়ে সন্তোষে গৃহবন্দী করে রাখে!! নিপীড়িত জনগনের নেতা গৃহবন্দী থেকে মুক্ত হলেন।এর আগে তিনি গনতন্ত্র আর গণমানুষের অধিকার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গনঅনশন করেন। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী প্রায় বলতেন দিল্লি এ দেশের জন্যে বিষ ফোঁড়া। ১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লব একটা ঐতিহাসিক ঘটনা, এটা যদি ভবিষ্যৎ এ রাজনীতিবীদরা ধরে রাখতে না পারে তাহলে দিল্লি এ অঞ্চলের নাগরিকদের পরগাছা বানিয়ে রাখবে!উদহারন হিসাবে বিহারী বা উর্দুভাষীদের দেখাতেন!তিনি বলতেন কোরান, হাদিস, ও ইসলামের প্রচারকারীদের উপর জুলুম নিপীড়ন নির্যাতন নেমে আসবে?দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করতে তাদের বিশ্বাসীকে সংখ্যা লঘু বা বিষ ফুরা বানিয়ে,তাদের উসিলায় বাংলাদেশ ও তাদের দেশে মুসলমানদের উপর জুলুম করবে!আজ আমরা সেটাই প্রত্যক্ষ করছি। ১৯৭৬ এর কোন এক সময় পিজি হাসপাতালে হুজুরকে দেখতে আসলেন জিয়া উর রহমান। তখন হুজুর জিয়া উর রহমান সাহেবকে দিল্লির আগ্রসন থেকে দেশকে রক্ষার জন্যে রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলেন!এটা শুনে অনকেই প্রশ্ন করেন`হুজুর সারাজীবন আপনি যাদের বিরুদ্ধে আনন্দোলন করলেন।আবার সেই সেনাবাহিনীকে আপনি সমর্থন দিচ্ছেন। হুজুর এর উত্তর দিয়ে ছিলেন সমসাময়িক রাজনীতিকদের মধ্যে সৎ ও দেশপ্রেমিক এমন কেউ কি আছে? পিজি থেকে রিলিজ হওয়ার কিছু দিন পর আবার নিপীড়িত মজলুম মানুষের জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন?তার পাশে সার্বক্ষণিক আলেমা ভাসানী ছিলেন। এই নেতার মৃত্যুর পর জাতি হয়ে পরলো অবিভাবক শুন্য।তার খাটিয়া প্রথম বহন করে স্বাধীনতার ঘোষক জেনারেল জিয়া উর রহমান। তারপর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেড,এ,খান।হুজুরের জানাযায় অংশ গ্রহণ করে ছিল বিশাল জনগোষ্ঠী। এ বছর এই নেতার মৃত্যু দিবস দেশপ্রেমিক জনগন জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালন করবে।আবার নতুন করে অঙ্গিকার বদ্ধ হবে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি চক্রান্ত থেকে মুক্ত হতে আরেকবার রক্ত দেবে। আল্লাহ পাক মজলুম জননেতার নেতা তার বান্দা মওলানা ভাসানীকে ক্ষমা করুন জান্নাতুলফেরদৌস দান করুন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close