২৮ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার ০২:৪১:৩৫ পিএম
সর্বশেষ:

২৮ নভেম্বর ২০২১ ১১:৫৪:৫০ পিএম রবিবার     Print this E-mail this

হাটহাজারীতে ভোট কেন্দ্রে দখল নিয়ে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশে ফাঁকা গুলিবর্ষণ

আজিজুল ইসলাম, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 হাটহাজারীতে ভোট কেন্দ্রে দখল নিয়ে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশে ফাঁকা গুলিবর্ষণ

তৃতীয় দফায় সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন বাদে উপজেলার ১৩ ইউপি নির্বাচনে দুই একটি ইউনিয়ন ছাড়া সবকটিতে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালেট পেপার ছিনতাই ও সংঘর্ষের ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দলীয় এক প্রার্থীসহ দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদকর্মীকে হেনস্থ ও তাদের একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত কোন প্রার্থী না থাকায় নিজেরাই (সরকার দলীয়) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীরা পক্ষে পার্শ্ববতী উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে ভোট কেন্দ্রে দখলে সহায়তার অভিযোগ এবং এক প্রার্থীর পক্ষে একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই নৌকা প্রতীকে সিল মারার ভিডিও স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১২২টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহন হয়। এ সময় প্রায় কেন্দ্রে পুরুষের চাইতে নারী ভোটারদের স্বত:ফূর্ত অংশ বেশ লক্ষনীয় ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে দুপুর ১১টা থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের বাইরে সরকার দলীয় সমর্থক ও প্রার্থীরা প্রভাব বিস্তার শুরু করে। এতে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের শান্তিপূর্ণ দৃশ্য পাল্টে যায়। এরমধ্যে বেলা ২টার পর থেকে প্রায় ভোট কেন্দ্র গুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি শূন্যের কৌটায় পৌঁছে। এরমধ্যে উপজেলা কন্টোল রুম ও মিডিয়াকর্মীদের কাছে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালেট পেপার ছিনতাই ও সংঘর্ষের ঘটনার খবর আসতে শুরু করে।
এদিকে, বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী উপজেলার রাউজান উপজেলার জনৈক এক কমিশনারের অনুসারীরা পূর্ব গড়দুয়ারা সিকদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তোলে এক সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী। এছাড়া ওই ইউনিয়নের আরও বেশ কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীদের মার্কায় সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া দুপুর ১২টার দিকে চিকনদ-ী ইউনিয়নে কাটাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুইটিতে গোলাগুলি এবং কেন্দ্র দখল নিয়ে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থীর দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় আধাঘণ্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত ছিল। ওই দুটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সমর্থকদের হাতে সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ চলাকালে হামলার শিকার হন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ।
এর আগে সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দুটি ভোট কেন্দ্র কুলালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লতিফপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় বেশকিছু ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। কুড়িয়ে পাওয়া ব্যালটে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটিতে আপেল প্রতীকের ওপর সিল মারা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের সিল ও ভোটাররে স্বাক্ষরের স্থানে আঙ্গুলের টিপসই রয়েছে।
তাছাড়া, বিকেলের দিকে ধলই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল মনসুর (আনারস) তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি লাইভ ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে তিনি অভিযোগ করেন, উক্ত ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শান্তিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছেন। তবে এ বিষয়ে ওই প্রিজাইডিং অফিসার জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. শামসুল আরেফিন জানান, সরকার দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা জোর করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারে। এ সময় উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমার করার কিছুই ছিল না।
একই ইউনিয়নে দিকে ৯নং ওয়ার্ডে বিকেল ৩টার দিকে ধলই সোনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা গেছে, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর উপস্থিতিতে তার কর্মী ও সমর্থকরা কেন্দ্রের ভিতরে ব্যালট পেপারে সিল মারে। এ সময় চট্টগ্রাম অফিসের মাইটিভি’র ক্যামেরা পারর্সন নূর নবী ও বিজয় টিভির ক্যামেরা পারর্সন মো. সোহেল নামে দুই সাংবাদকর্মী কেন্দ্রের ভিতরে ব্যালট পেপারে সিল মারার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে অর্ধ শতাধিক নৌকা প্রতীকের কর্মী ও সমর্থক লাটি-সোটা নিয়ে তাদের উপড় হামলা চালায় এবং মোবাইল ও জাতীয় পরিচয় পত্র ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি কেন্দ্রে উপস্থিত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দে’র কাছে নৌকা প্রার্থীর সামনে অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন ওই সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
অন্যদিকে, চিকনদ-ী ইউনিয়নে ফতেয়াবাদ আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে (ইভিএম) মহিলা বুথে তসলিমা আকতার নামে এক গৃহবধু তার ভোটাধিকার প্রয়োগের আগে বাহির থেকে এক গোপন কক্ষে ঢুকে নৌকা প্রতীকের বোটামে ছাপ দিয়ে দ্রুত বের হয়ে যান বলে অভিযোগ করে ওই নারী। তারমধ্যে গুমানমর্দ্দন ও মেখল ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রতিপক্ষ না থাকায় দুই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় কোন সংঘার্তের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ওই দুই ইউনিয়ন ছাড়া মির্জাপুর, ছিপাতলী, নাঙ্গলমোড়া, উত্তর মাদার্শা, দক্ষিণ মাদার্শা, বুড়িশ্চর ও শিকারপুর ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালেট পেপার ছিনতাই ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বেলা ১টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক জানান, এখনও পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ পরিস্থিতির ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলম জানান, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়াই শেষ হলো ১৩ ইউনিয়নে ভোটগ্রহন। বিভিন্ন মাধ্যমে যে কেন্দ্র থেকে অভিযোগ এসেছে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2022. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close