২৮ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার ০২:০১:০৭ পিএম
সর্বশেষ:

১৮ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৩১:৫৮ পিএম শনিবার     Print this E-mail this

বিজয় ছিলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আজকের বাংলাদেশিদের কিন্তু সেটা ছিনিয়ে নেয় ইন্ডিয়া

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী
বাংলার চোখ
 বিজয় ছিলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আজকের বাংলাদেশিদের কিন্তু সেটা ছিনিয়ে নেয় ইন্ডিয়া

 ১৯৭১ সালের ৯ মাস যুদ্ধ করলো সেনা,নৌ,বিমান বাহিনী, পুলিশ, আনছার বাহিনী ও ছাত্র -যুবক-কৃষক-সাংবাদিক সহ সর্বস্তরের নাগরিক। ১৯৫০ সাল থেকেই মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্যে প্রস্তত করেন।তিনি স্বপ্ন দেখেন দেশ স্বাধীন হলে সামাজিক সম্প্রতি বজায় থাকবে,মৌলিক, মানবিক, আইনের শাসন ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে।আধিপত্যবাদ,সাম্রাজ্যেবাদ,সম্প্রসারণবাদ,সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিদায়ের মাধ্যমে সাম্যের দেশ হিসাবে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বা মডেল হিসাবে পরিচিত লাভ করবে।কিন্তু ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী জগৎ শেঠদের মাধ্যমে আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠার অন্তরায় হয়ে, দাঁড়ায় তখনকার আলেম-ওলামা-ইসলামের অনুসারীরা!এত আলেম-ওলামা-ইসলামের অনুসারীদের হত্যা করে তারপর দখলদারদের প্রতিহত থামে না!তখন ব্রিটিশরা দেশটিকে বিভক্ত করলো জুলুমের কুপ নির্মাণ অর্থাৎ ভারতকে কয়েক খন্ড করে,বৈষম্য ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে! আর পূর্ব বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান হিসাবে ১২ শত মাইল দুরে আরেক খন্ড মুসলিম দেশ পাকিস্তানের সাথে সংযুক্তের মাধ্যমে! তখন ইন্ডিয়ার নেতা করম চাঁন গান্ধী তার সহযোগী নেহেরু, প্যাটেলদের কাছে আক্ষেপ করে বলে ছিলেন,এটা কি করলেন।তারা সেদিন বলেছিলেন ১০/১৫ বছর পর আবার তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হবে।তারই ধারাবাহিকতা অব্যহত কিনা এটা পর্যালোচনার দাবী রাখে!১৯৪৬ সালে নেহেরু -প্যাটেল গং রা এমন কৌশলে মুসলমানদের হত্যা শুরু করে,আজও তা শুনলে গায়ের লোম শিওরে ওঠে! এতে করে অবিভক্ত ভারত বর্ষে কয়েক লক্ষ বাঙালী ও উর্দুভাষী পরিবার জীবন বাঁচাতে পূর্ব বাংলায় এসে আশ্রয় নেয়। প্রায় ২৪ বছর ইন্ডিয়া কুটকৌশল করতে এবং প্রতিরোধ ঠেকাতে এই অঞ্চলে প্রতি বছর ২০০০কোটি টাকা খরচ করতো?এরি মধ্যে ১৯৭১ সালে মার্চের ভয়াল রাতে হিংস্র পশুর মত নিরস্ত্র বাঙালীর উপর ঝাপিয়ে পরে পাক হানাদাররা!সেদিনের মেজর জিয়া উর রহমান সহ্য করতে না পেরে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। " তিনি ঘোষণা দিলেন আমি মেজর জিয়া বিদ্রোহ করলাম এবং অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাধীনতা ঘোষনা করলাম!"অবশ্য এই ইংরেজীতে ঐ বক্তব্য কয়েকবার ইথারে ভেষে বেড়ানোর পর মুল বক্তব্য ঠিক রেখে কারো অনুরোধে সংশোধন হয়!তারপর শুরু হয় প্রত্যক্ষ যুদ্ধ। এক পর্যায়ে গঠন হয় প্রবাসী সরকার যার উপদেষ্টা মন্ডলির সভাপতি হন,মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। তাকেও ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদী শক্তি গৃহ বন্দী করে!তারপর ১৯৭২ এর ২২ জানুয়ারী পর্যন্ত তিনি গৃহবন্দী থাকেন।ইতিমধ্যে প্রবাসীর সরকার, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্যে মুক্তি যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এর দায়িত্ব পান জেনারেল এম,এ,জি,ওসমানী, উপপ্রধান এর দায়িত্ব পান এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার। লড়াইয়ে বিজয় হতে সেক্টর বিভক্ত করা হয়। বিজয় যখন সুনিশ্চিত তখন ইন্ডিয়া সমর্থনদেয়।১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ যখন আত্মসমর্পণ এর সময় নতুন চিত্র বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সামনে হাজির হয়!আর তা হলো জেনারেল নেয়াজীকে -ইন্ডিয়ান সেনা কর্মকর্তা জেনারেল অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়!ইন্ডিয়ার পার্লামেন্টে তখনকার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন,হাজার বছর ক্যা বদলা লিয়া! আর কোলকাতার আনন্দো বাজার ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ সংবাদ প্রকাশ করলো পাকিস্তান -ভারতের যুদ্ধ শেষ।আবারও পূর্ব বাংলার সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন নতুন চক্রান্তের জ্বালে আটকিয়ে পরলো।অত্যান্ত কৌশলে ইন্ডিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলো!আর শুরু থেকেই ইন্ডিয়া সাবধানতা অবলম্বন করতে প্রতিপক্ষ হিসাবে মুসলমানদের দাড় করালো,তারপর ইন্ডিয়া থেকে মহাজের হয়ে আসা উর্দুভাষীদের আবার পথে বসায় ইন্ডিয়ান সেনা সদস্যরা! গত ৫০ বছর দেশপ্রেমিক ও প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধাদের উপর জুলুম ও বির্তকৃত করার পিছনে তাদের চক্রান্ত কম নয়!সদ্য স্বাধীন দেশে পাকবাহিনীর রেখে যাওয়া অস্ত্র স্বস্ত্র লুটে নিয়ে যাওয়া,শিল্প কলকারখানার যন্ত্রপাতি লুটের বাধা দিতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধা মেজর এম,এ,জলিলকে কারা ভোগ করতে হয়েছে!স্বাধীনতা পর্বতী ১০-১৫ হাজার সুশিক্ষিত কর্মক্ষম যুবক হত্যা,তারপর তথাকথিত দেশের নাগরিকদের মধ্যে সংখ্যালঘু নামের বিষ ফোঁড়া তৈরী করে!রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে ধরা পরলে কথিত গল্পের আবিস্কার করে,সংখ্যালঘুর উপর জুলুম হচ্ছে, তারপর পার্বত্য এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, জঙ্গি, সন্ত্রাসী সহ সমাজ বিরোধীদের ইন্ধন দানের অভিযোগ রয়েছে!১৯৭৫ সালে দেশের অতন্ত্র প্রহরীরা যখন বুঝতে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আত্মসমর্পণ এর সময় ইন্ডিয়া ছিনিয়ে নিয়েছে! তখনই তারা সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান জেনারেল জিয়াকে গৃহবন্দী থেকে মুক্ত করেন।এক সময় দেশপ্রেমিক নেতাদের অনুরোধে স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়া উর রহমান রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।তার পররাষ্ট্র নীতি সকল দেশ বাংলাদেশের বন্ধু প্রভু নয়।মুসলিম রাষ্ট্রের ঐক্যবদ্ধ করা এবং পরস্পর পরস্পরের আপনজন হওয়ার, পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি শক্তিকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষে সার্ক গঠন করে।একটস অবস্থায় রাতের অন্ধকারে জিয়া উর রহমানকে শাহাদাৎ বরণ করতে হয়।জনগন রাস্তায় নেমে আসলে তারা কৌশল পরিবর্তন করে।এই ইন্ডিয়ার শহীদ জিয়ার পরিবার ঈমানদার আলেম-ওলামা-ইসলামের আদর্শ প্রচারকারীদের টার্গেট করে এবং জুলুম,নিপীড়ন, নির্যাতন চালিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির দায় এড়ানোর কোন পথ খোলা নাই বলে পর্যবেক্ষক মহল এর ধারণা। আজকে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা যেখানে ইন্ডিয়ার উপর হওয়ার কথা,সেখানে বাংলাদেশের উপর হওয়ায় বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগন বিস্মিত হয়েছে!ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান গণমাধ্যম মিথ্যাচার করে নিজেদার দায় এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল সব সময় অনুসরণ করে। এর পর ওয়ান ইলেভেনের ঘটনা মনে হলে দেশপ্রেমিক জনগন শিয়রে ওঠে!বাংলাদেশের জনগন নাগরিক সকল অধিকার বিশেষ করে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত এর জন্যেও তাদের আর জাতিসংঘকে দায়ী করে। ইন্ডিয়ার চাটুকারিতা ও মিথ্যাচারের সমর্থন না করলে তার উপর নির্যাতন নেমে আসার খবর শুনা যায়?বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ভীতরে যে সব শরীকরা ইন্ডিয়ার সাম্প্রদায়িকতা ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে, তাদের উপর জুলুম নেমে আসে। আজকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া উর রহমান সার্ক গঠন করেন।বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা আঞ্চলিক স্হীতিলতার স্বপ্নদ্রোষ্ট্রা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া উর রহমান এর সহধর্মিণী চার ও সাত দলীয় জোটনেত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে,সার্ক গতিশীল করে,আধিপত্যবাদের ভীত নড়িয়ে দেওয়া আজ তার মৌলিক অধিকার সুচিকিৎসা অনিশ্চিত! বিজয়ের আত্মসমর্পণ হাইজ্যাক করেই ক্ষান্ত হয় নাই ইন্ডিয়া! তারা এ দেশের ভীত ভেঙে দিয়ে গোটা দেশকে তাদের উপর নির্ভরশীল করার চেষ্টায় লিপ্ত? নয় মাস যুদ্ধ করেছে তখনকার পূর্ব পাকিস্তান আজকের বাংলাদেশের জনগন? এই দেশ স্বাধীন হওয়া ইন্ডিয়ার সীমান্ত ব্যয় কমে ৫০ হাজার কোটি টাকা দাড়িয়েছে,স্বাধীনতার পর কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুটেছে,এ ছাড়াও মাদক সহ সামাজিক অবক্ষয় এমন জিনিস বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে গোটা জাতিকে পুঙী করার পক্রিয়া শেষের দিকে বলে সমালোচনা যত্রতত্র! ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বার্থে বিজয় ছিনিয়ে আনার অঙ্গিকার? দিল্লির পৃথিরাজ আর সিলেটের কষাই গৌর গোবিন্দ ঈমানের কাছে হার মেনেছে!নারেয়ে তকবির আল্লাহু আকবারের আওয়াজ সকল জালেম আর মুনাফেকর বির্পযয় নিশ্চিত করবে। জুলুমের অবসান করে মজলুম জননেতা স্বপ্ন সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই হোক অঙ্গিকার।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2022. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close