২৮ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার ০৩:০৯:২৯ পিএম
সর্বশেষ:

২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৪৪:৫৪ এএম বৃহস্পতিবার     Print this E-mail this

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত কি?

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী
বাংলার চোখ
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত কি?

সম্প্রতি মার্কিন মুলকে গনতন্ত্র সম্মেলনের নামে একটি অপশক্তির ঐক্যের সম্মেলন হয়ে গেলো বলে বিশ্বের ২০০কোটি মানুষের মাঝে যাদের মধ্যে আল্লাহ ভিতী আছে বলে তাদের ধারণা। এখনে মুসলমানদের অধিকার আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে পরিপন্থীদের উপর নানা প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিন, কাশ্মির,সিরিয়া,ইরাক,লিবিয়া, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিষয় ইস্পট কোন দিক নিরাপত্তার বিষয়ে কোন কিছু বলা নাই! বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে!কিন্তু মুল সমস্যার বিষয় দৃশ্যতো চোখ ঘুরিয়ে রেখেছে!এই সম্মেলন গনতন্ত্র, মৌলিক, মানবিক অধিকার, আইনের শাসন,ন্যায় বিচারের প্রধান স্তম্ভ ভোটারের প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন, ও গণমাধ্যমের স্বাধীন ভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, সামাজিক সম্প্রতি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়া,জনগনের সম্পদ আত্মসাৎ করে!যে রাষ্ট্রে নিয়ে যাবে তা বাজেয়াপ্ত করে,সেই দেশে ফীরিয়ে দেওয়া আর বির্তকিত শাসককে আন্তর্জাতিক ভাবে অসহযোগিতা করা,মুসলিম নামে মিথ্যাচার করে ক্যামেরা ট্রাইলের মাধ্যমে অপরাধী চিহ্নিত করা। মুসলিম হত্যাকারী দেশগুলোর প্রতি বিশ্বে সকল দেশের প্রতি আহবান জানান এই সকল কর্মকাণ্ড, যে সকল রাষ্ট্র চালাবে তাদের উপর সকলে মিলে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা।বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বাতিল হলেও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ,সাম্রাজ্যবাদ,সম্প্রসারণবাদ,সামপ্রদায়িক অপশক্তি ইন্ডিয়া এই সম্মেলনে দাওয়াত পায়।কাশ্মির,গুজরাট,ত্রিপুরা, আসাম,সহ ইন্ডিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে যে ভাবে মুসলমানদের উপর র্নিবিচারে হত্যা জুলুম করছে,তাতে তাদের উপর কোন নিষেধাজ্ঞা হয় না!ইসরাইল ফিলিস্তিনি মুসলমানদেরকে যে ভাবে হত্যা করছে,তাদের ব্যাপারেও কোন নিষেধাজ্ঞা হয় না!এটা কি আসলে মানবতা,গনতন্ত্র,ও ইসলামের প্রতিপক্ষ দাঁড় করানোর চেষ্টা কিনা এটাও বিভিন্ন মহল পর্যালোচনা করতে শুরু করেছে! পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে ইন্ডিয়া ঐ সম্মেলনে দাওয়াত দেওয়ার পিছনে অন্য কোন রহস্য নিহিত কিনা!সেটাই আগে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তাদের ভাষায় গাছের গোড়া বাঁধ দিয়ে আগাই আঘাত করার পিছনেই বা কি এমন রহস্য আছে!ইতিমধ্যে জাতিসংঘ, বিশ্ব ব্যাংক, আই,এম,এফ,সহ অনেক গুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূতরা চাকরি নিয়ে,মুসলিম রাষ্ট্র গুলো বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম দেশ গুলোর স্বার্থেরপরিপন্হি কর্মকাণ্ড করেছে।এটা যেমন মুসলিম দেশ গুলোর জন্যে বিপদ জনক তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের,পশ্চিমাবিশ্বের সাথে সম্পর্কে অবনতি ঘটতে পারে!সচেতন মানুষ মনে করছে বাংলাদেশ সহ মুসলিম রাষ্ট্র গুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে এটা একটা নতুন চক্রান্ত! এই অঞ্চলের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, ন্যায় বিচার,আইনের শাসন,সঠিক সংবাদ প্রকাশ করা সহ নানা কাজে বাধা সৃষ্টি আইন তৈরীতে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা "র" ও ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে সন্দেহ করে। আর এদের অপরাধ ডাকতে আলেম-ওলামা-ইসলামের দিকনির্দেশনা প্রচারকারীদের উপর জুলুম চলছে।বাংলাদেশে বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সহ নানা কালাকানুন দিয়ে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। দেশের তিন তিন বারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি কাল্পনিক মামলায় সাজা দিয়েছে।এখন তার চিকিৎসার জন্য জরুরী ভিত্তিতে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তাকে যেতে দিচ্ছে না?এ বিষয় আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ কোন ভুমিকা গ্রহণ করছে না!,অথচ নানা কায়দায় জনগনের টাকা আত্মসাৎ করে,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,কেনাডা সহ পশ্চিমা বিশ্বেয় জমা রাখছে,তা বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশের জনগনের কাছে ফেরত পাঠালে জনগনের আস্হা বৃদ্ধি পেতো?ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে বাংলাদেশের জনগন ভোট প্রয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত? মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর, কাশ্মির,ত্রিপুরা, আসাম,গুজরাট,দিল্লি সহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের হত্যা যায়েজ করতে, গত দূর্গােূজার সময় অত্যান্ত কৌশলে একটি মন্দিরে পবিত্র কোরান এর সাথে অবমাননা করে? তারপর বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় খুব পরিকল্পিত ভাবে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে?কিন্তু মুসলমানরা আলেম-ওলামা-ইসলামের দিকনির্দেশনাকারীদের পরামর্শ অনযায়ী ধৈর্য ধারণ করে। সবচাইতে আর্শ্চজনক মুসলমানরা যখন আত্মরক্ষার উদ্দ্যেগ নেয় তখন জাতিসংঘ, পশ্চিমা বিশ্ব বলে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে আর মুসলমানদের জঙ্গি, সন্ত্রাসী সহ তাদের কৃত অপরাধ মুসলমানদের ঘাড়ে চাপানো হয়? শুধু ১৯৪৬ এ বিহার সহ বিভিন্ন প্রদেশে কয়েক লক্ষ উর্দুভাষী ও বাংলাভাষী মুসলমানকে হত্যা করে।তাদের মধ্যে থেকে যারা তখনকার পূর্ব বাংলায় আশ্রয় গ্রহণ করে তার মধ্যে বাঙালীরা এদেশের বাঙালী মুসলমানদের সাথে মিশে যায়!কিন্তু উর্দুভাষীরা মিশতে না পেরে ১৯৭১ সালে আরেকবার ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে শুধু জীবনি দেয়নি বরং তাদের বাড়ীঘর থেকে উচ্ছেদ করে জোর করে পাকিস্তানি বানিয়ে মানবতার ভাবে জীবন-যাপন করতে বাধ্য করেছে।আজ ৫০ বছরেও তারা মানবিক জীবন-যাপন ফীরে পায় নাই!মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর দুই দেশ মিলে জুলুম,হত্যা সহ এমন কোন নিষ্ঠুরতা নাই যা করা হয়নি!তারাও বাংলাদেশে অমানবিক জীবন -যাপন করছে।এই যখন এই অঞ্চলের পরিস্থিতি তখন ইন্ডিয়াকে ঐ সম্মেলনে ডাকা মানে এই অঞ্চলের জনগনকে অপরাধীদের কাছে জিম্মি কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক কি? এর পর নতুন একটা সংগঠন"ইসকনের" আর্বিভাব হয়েছে।যেটা ভয়ানক সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মলে ইতিমধ্যে মানুষের ধারণা। এমন অবস্হায় জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,পশ্চিমা বিশ্ব মুসলমানদের সঙ্গে বিমাতা সুলভ আচরণ করলে বিকল্প জাতিসংঘের কথা মুসলমানদের চিন্তা করতেই হয় কি?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক,কলামিষ্ট.বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ) চেয়ারম্যান

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2022. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close