১৯ নভেম্বর ২০১৭, রবিবার ০১:২৫:৫৫ এএম
সর্বশেষ:

০৩ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৪৯:৪২ পিএম শুক্রবার     Print this E-mail this

জয়পুরহাটে সবজির চারা বিক্রি করে লাখপতি

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 জয়পুরহাটে সবজির চারা বিক্রি করে লাখপতি

জয়পুরহাট সদর উপজেলার গনকবাড়ী এলাকার হারুন অর রশিদ শীতকালীন সবজি উৎপাদন না করে,শুধুমাত্র শীতকালীন সবজির বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটায়ে সেখান থেকে চারা বিক্রি করে হয়েছেন লাখপতি। গড়ে তুলেছেন শাহানাজ নামে একটি নার্সারী।
সরেজমিন গনকবাড়ী এলাকায় গিয়ে হারুনের সাথে কথা বলে জানা যায়,সবজির চারার ব্যবসা শুরু করার আগে হারুন ফেরি করে মুরগি ও কলার ব্যবসা করতেন, এতে করে তার সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত,অভাব-অনটনের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে একদিন হারুন সিদ্ধান্ত নেয় সবজির চারা উৎপাদন করার।
সেই মোতাবেক হারুন ২০১০ সালে সবজির চারা ব্যবসায়ী শ্বশুড় ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে চারার প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখান থেকে সফল হয়ে তিনি তার তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, মেঝ ছেলে ঠেঙ্গামারা এনজিও স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিবে এবং ছোট মেয়ে শিশু শ্রেনীতে পড়ছে। এছাড়াও তার নার্সারীতে বর্তমানে ১০ জন শ্রমিককে প্রতিদিনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।
প্রথমে অবস্থায় ৪ শতক জায়গা ইজারা নিয়ে তার উপর সবজির চারা ব্যবসা করে এখন তিনি নিজ জমি ও লিজসহ ৩ বিঘা জায়গার উপর সবজির চারা উৎপাদন করছেন,অসময়ে বৃষ্টির কারণে তার চারার ব্যবসার ক্ষতি হলেও এবার এ মৌসুমে তিনি বীজ ও শ্রমিক খরচ বাদ দিয়ে ৭-৮ লক্ষ টাকা লাভ করবেন।
মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে শুরু হওয়া চারা উৎপাদন চলতি জ্যেষ্ঠ মাস অবধি চলবে। এতে একই জমিতে তিন থেকে চার বার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা হবে বলে জানান হারুন।
মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে বীজতলা প্রস্তত করে বাঁধাকপি, ফুলকপি, মরিচ, টমেটো, বেগুন, পেঁপের বীজ বপন করা হয়।ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে ২৫-৩০ দিন বয়সে তুলে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়।
হারুন এখানে বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন করছেন। এর মধ্যে মরিচের জাতঃ ১৭০১, পিলিয়াম ও সনি। টমেটোর জাতঃ মিন্টু, সুরক্ষা, ডেলটা, সালামত, বিউটি, মিন্টু সুপার, কামরাঙ্গা, ব্রাক ১৭৩৩, ফুলকপির জাতঃ সিলভার, মার্বেল, সনোষ্টার, ৭৭৭, ৭৭০, হোয়াইট বস,সুনো হোয়াইট,সুনো গ্যাস কেন্ডেড, ইনফ্লেন। বাঁধাকপির কপির জাতঃ কেকে,৭০, আটাম নরেশ, সাসার ডায়মন্ড। বেগুনের জাত-গ্রীণ বল, লাইট আলতাফন, রবার বেগুন, লরি বেগুন, চোখরি লেদা, সবুজ বেগুন, সাদা গোল্ড রবার, হাজারি। পেঁপের হাইব্রীড জাত।
বর্তমানে বাজারে প্রতিটি ভালো মানের চারা মানভেদে ১ হাজার পিচ মরিচের চারা চারশত থেকে ছয় শত টাকা, টমেটোর চারা পাঁচশত থেকে সাতশত টাকা, ফুলকপির চারা সাতশত থেকে নয়শত টাকা, বাঁধাকপির চারা ছয়শত থেকে আটশত টাকা, বেগুনের চারা তিনশত থেকে চারশত টাকা, পেঁপের চারা পাঁচশত থেকে ছয়শত টাকা বিক্রি করেন ।
হারুনের চারা উৎপাদনের ব্যবসার প্রতি উদ্বদ্ধু হয়ে এই গ্রামেরই জীবন দেবনাথ, আব্দুল ওহাব ও মাসুদ রানাসহ আরও অনেকে এই চারা উৎপাদনের ব্যবসা শুরু করেছেন।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার বিল্লাহ্ গ্রামের ৪০০ পিচ বাঁধাকপির চারা নিতে আসা অখিল চন্দ্র, ক্ষেতলাল উপজেলার জালিয়াপাড়া গ্রামের ২ হাজার পিচ বাঁধাকপি ও  ফুলকপির চারা নিতে আসা আব্দুস সামাদ ও বিজন দেবনাথ জানান, আমরা প্রতিবছরই হারুনের নার্সারী থেকে সবজির চারা সংগ্রহ করে থাকি এবং এই নার্সারী থেকে চারা নিলে ফলনও ভালো হয়।   
জয়পুরহাট জেলা ছাড়াও সৈয়দপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার কৃষক ও সবজি চারার পাইকারি ব্যবসায়ীরা তার এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
শাহানাজ নার্সারীর হারুন অর রশিদ জানান, দিনদিন আমার নিজ উদ্যোগে ব্যবসার প্রসার হচ্ছে, কিন্ত সরকার বা কৃষি অফিস থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা দেওয়া হয় না, এই কারণে আমাকে ভালো বীজের জন্য জয়পুরহাটের বিভিন্ন বীজের দোকানসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হয়।
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্র নাথ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সবজি চারা উৎপাদনকারী হিসাবে হারুন ইতোমধ্যে বেশ সুনাম করিয়েছে। তিনিসহ যে কোন চারা ব্যবসায়ীকে সর্বাতœক সহযোগিতা দেওয়া হবে।


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
চৌধুরী কমপ্লেক্স, ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-৭১২৬৩৬৯
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2017. All rights reserved by Banglar Chokh
Developed by eMythMakers.com
Close