১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রবিবার ১১:৫০:৫৮ এএম
সর্বশেষ:

১৩ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪২:১২ পিএম সোমবার     Print this E-mail this

নোয়াখালীতে নকলে বাধা দেওয়ায় দুই শিক্ষক লাঞ্চিত, প্রতিবাদে মানববন্ধন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 নোয়াখালীতে নকলে বাধা দেওয়ায় দুই শিক্ষক লাঞ্চিত, প্রতিবাদে মানববন্ধন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নকলে বাধা দেওয়ায় গত রোববার দুই শিক্ষককে নকলকারির অভিভাকরা লাঞ্চিত করেছে। এতে লিটন চন্দ্র দাস নামে এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়। তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর শিক্ষক নাহিদা আক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।  সোমবার দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন-সমাবেশ করেছে লাঞ্চিত শিক্ষকের বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ সময় মানববন্ধন-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নরোত্তমপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুছ নবী মানিক, শিক্ষক আবু জাফর, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এডভোকেট এ.বি.এম ইউসুফ, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আবদুল কাদের ও ডা. আবুল কালাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, লাঞ্চিত দুই শিক্ষক নরোত্তমপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তারা জেএসসি লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত সোমবার গণিত পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের ভিতর নকল করার চেষ্টা করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় এক ছাত্রীকে নকলে বাধা দেয় পরিদর্শক লিটন চন্দ্র দাস। পরে ঘটনার বিষয় ওই ছাত্রী বাহিরে জানিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে লিটন চন্দ্র দাস ও অপর শিক্ষক নাহিদা আক্তারসহ হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় কেন্দ্র বাউন্ডারির মধ্যে লিটন চন্দ্র দাসকে বেদম মারধর করা হয়। এ সময় নাহিদাকে শারীরিক ও মানসিক লাঞ্চিত করে একটি কক্ষে দুই ঘন্টা আটক রাখে। পরে চারদিক থেকে শিক্ষক ও লোকজন এলে লিটনকে ফেলে হামলাকারীরা চলে যায়। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষক লিটন চন্দ্র দাসকে দ্রুত ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই কেন্দ্রের শিক্ষকরা আজ (মঙ্গলবার) পরীক্ষায় পরিদর্শক হিসেবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন-সমাবেশ করতে বাধ্য হয়। সমাবেশ থেকে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তবে জেলা প্রশাসক না থাকায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মাহবুবুল আলম তা গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি ঘটনা পরিদর্শন পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন।
জানতে চাইলে শিক্ষকের উপর হামলার কথা নিশ্চিত করে লতিফপুর কেন্দ্রের সহকারি সচিব ও লাউতলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, কেন্দ্রে নকল করার চেষ্টা করে শিক্ষার্থীরা। নকল করতে বাধা দেওয়ায় ওই দুই শিক্ষক লাঞ্চিত হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক শিক্ষকগণ আগামী কালকের (আজ মঙ্গলবার) পরীক্ষায় পরিদর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন ইউএনও এর নিকট।
জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদা খানম শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, দুই শিক্ষককে লাঞ্চিত করেছে বহিরাগতরা। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার জন্য তিনি বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শিক্ষক করা অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম না থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
চৌধুরী কমপ্লেক্স, ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-৭১২৬৩৬৯
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2017. All rights reserved by Banglar Chokh
Developed by eMythMakers.com
Close