১৯ নভেম্বর ২০১৭, রবিবার ০১:২৭:৩৪ এএম
সর্বশেষ:

১৪ নভেম্বর ২০১৭ ১১:৪০:০৮ পিএম মঙ্গলবার     Print this E-mail this

ঘূর্ণিঝড় সিডর প্রলয়ংকারী হলেও শিশু সিডর সরকার দুরন্ত-মেধাবী

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 ঘূর্ণিঝড় সিডর প্রলয়ংকারী হলেও শিশু সিডর সরকার দুরন্ত-মেধাবী

১৫ নভেম্বর ২০০৭ প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডরের রাতে মোংলার চিলা এলাকার সেন্ট মেরিস গীর্জা সংলগ্ন একটি আশ্রয় কেন্দ্রে জন্ম নিয়েছিল সাথী সরকারের প্রথম ও একমাত্র পুত্র সন্তানের। ঘূর্ণিঝড় সিডরের নামেই মা-বাবা ওই সন্তানের নাম রেখেছিলেন সিডর সরকার। দেখতে দেখতে সেই সিডর এখন ১০ বছর বয়সে পা রেখেছে। আজ ১৫ নভেম্বর সিডর সরকারের জন্মবার্ষিকী হলেও দারিদ্রতা তাকে সকল সখ-আহ্লাদ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। দিন মজুর বাবা ও দাদীর কষ্টের উপার্জনের মধ্যদিয়ে তার লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে কতদূর যেতে পারবেন তা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। বিভিন্নজন বিভিন্ন সময়ে সিডরের লেখা পড়ার খরচের ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দিলেও ১০ বছরে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে আক্ষেপ করেন সিডরের দাদী।
সিডর এখন চিলা গ্রামের দিশারী হাই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়দেব নাথ বলেন, সিডর সরকার খুব চঞ্চল, মিশুক ও মেধাবী ছাত্র। পড়াশুনায় যেমন ভাল, খেলাধুলায় সে খুব ভাল। তবে দুরন্ত বটে। সকালে সবার আগে স্কুলে আসে আবার ছুটি হলে সবার আগে ছুটে। তবে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। আগামীতে সাহায্য সহযোগীতা ছাড়া ওর পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়াটা খুব কঠিন হয়ে পড়বে। সিডরের হাতে খড়ি যে পাঠশালায় সেই দিশারী ফ্রি স্কুলের শিক্ষিকা সুমা সরকার বলেন, সিডর অসম্ভব মেধাবী কিন্তু খুব দুরন্ত। সে যখন দিশারী ফ্রি স্কুলে পড়ত তখন থেকে তার কম্পিউটার শিখার উপর খুব আগ্রহ ছিল। ওর মত অনেকেই এখন কম্পিউটার শিখতে কিন্তু ও পারছেনা অর্থের অভাবে।
সিডরের দাদী রিভা সরকার (৬০) বলেন, সিডরের বাবা জর্জি সরকার (৩৫) দিন মজুরের কাজ করেন। সব সময় কাজও থাকে না। তাই খেতে-পরতে অনেক কষ্ট হলেও কষ্টের মধ্যদিয়ে ভবিষ্যতের আশায় সিডরের লেখা-পড়া চালিয়ে নিচ্ছি, জানি না কতদূর পড়াতে পারবে। সিডরের বাবা জর্জি সরকার বলেন, আমার তো ইচ্ছা হয় একমাত্র সন্তানকে ভাল স্কুলে পড়াতে, প্রাইভেট শিক্ষক দিতে কিন্তু অভাবের কারণে পারি না।
সিডর সরকার (১০) বলেন, আমি দিশারী হাই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। পড়া-শুনা আর খুব ভাল লাগে। লেখা-পড়া শিখে বড় চাকরি করবো, বাবা-দাদীকে নিয়ে ঢাকায় থাকবো। আমার বন্ধুদেরও নিয়ে যাব, ওদের সাথে খেলা করিতো তাই।
কানাইনগর গ্রামের সিডরের প্রতিবেশী বাসিন্দারা বলেন, ঝড়ের রাতেই সিডরের মা সাথী সরকার ঠাই নেয় আশ্রয় কেন্দ্রে। সাথী সন্তান পেটে প্রসব বেদনার যন্ত্রণা নিয়েই নিজের জীবন বাচাঁতে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে উঠেন। ঝড়ের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সাথী সরকারের প্রসব যন্ত্রণাও বাড়তে থাকে। অবশেষে ঝড়ের রাত (১৫ নভেম্বর) ৪টার সময় সেই আশ্রয় কেন্দ্রে জন্ম নেয় ফুটফুটে শিশু সিডরের।  ঝড়ের রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে একটি শিশুর জন্ম হয়েছে শুনে সিডরকে দেখতে পরদিন সকালে সেখানে শত শত মানুষের ঢল নামে। সিডরের সময় ও পরে অনেকে সিডরকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে চাইলেও তা কেউ করেনি। প্রতি বছর ১৫ নভেম্বর আসলে সাংবাদিকেরা শুধু সিডরের ছবি তুলে নিউজ করে কিন্তু ওতে সিডরের তো কোন উপকার হয় না।
মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রবিউল ইসলাম বলেন, সিডরের পরিবার দারিদ্রতার কারণে যে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন বিষয়টি আমি জানতাম না। তবে তারা আমার সাথে যোগাযোগ করলে আগামী দুই মাসের মধ্যে তাদেরকে সরকারি সাহায্য সহায়তা দেয়া সম্ভব হতে পারে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
কার্যালয়
চৌধুরী কমপ্লেক্স, ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-৭১২৬৩৬৯
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2017. All rights reserved by Banglar Chokh
Developed by eMythMakers.com
Close