banglarchokh Logo

সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারনার মামলা

জেলা প্রতিনিধি। বরগুনা
বাংলার চোখ
 সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারনার মামলা

বরগুনার আমতলী উপজেলার কাউনিয়া গ্রামের ইউসুফ আকন প্রতারনা করে আমতলী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের চড়পাড়া এলাকার কাজল বেগম নামের এক নারীকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২১ দিন সৌদি আরবের একটি ক্লাব ঘরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করেছে বলে এমন অভিযোগ ওই নারীর। এ ঘটনায় সোমবার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের বিচারক মোঃ সাকিব হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে আমতলী পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমানকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরন সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের ইউসুফ আকন দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকুরী করে আসছে। বর্তমানে তিনি আমতলী গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান করছেন। সৌদি আরবে চাকুরীর সুবাদে তিনি আমতলী থেকে বিভিন্ন লোকজন সৌদি আরবে পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। গত ২৯ জুলাই তিন বছরের চুক্তিতে ঝিয়ের কাজ দেয়ার কথা বলে আমতলী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাজল নামের এক নারীর কাছ থেকে দের লক্ষ টাকা নেন। যথারীতি ওই নারীকে তিন বছরের চুক্তির স্থলে তিন মাসের টুরিষ্ট ভিসা দিয়ে সৌদি আরবে পাঠিয়ে দেয়। দালাল ইউসুফ আকনের লোকজন ওই নারীকে সৌদি বিমান বন্দর থেকে গ্রহন করে তাদের জিম্মায় নিয়ে যায়। পরে একটি ক্লাব ঘরে আটকে রেখে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি হয়নি ওই নারী। ২১ দিন ধরে ওই ক্লাব ঘরে আটকে রেখে তাকে শারীরিক ও অমানষিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ওই নারী দেশে আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করে। পরে তাদের প্রচেষ্টায় গত ২১ আগষ্ট দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফিরে দালাল ইউসুফ আকনের সাথে সৌদি আরবে নির্যাতনের ঘটনা জানালে তিনি টাকা ফেরত দিবে বলে জানান। কিন্তু ওই টাকা ফেরত দেয়নি। এ ঘটনায় কাজল বেগম বাদী হয়ে সোমবার ইউসুফ আকনকে প্রধান আসামী করে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে চারজনের নামে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আমতলী পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমানকে আগামী পয়েলা অক্টোবরের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী কাজল বেগম বলেন, দালাল ইউসুফ আকন তিন বছরের চুক্তিতে সৌদি আরবে ভিসা দেয়ার কথা বলে আমাকে তিন মাসের টুরিষ্ট ভিসা দেয়। পরে আমি সৌদি আরব বিমান বন্দরে পৌছলে তার লোকজন আমাকে নিয়ে একটি ক্লাব ঘরে আটকে রেখে অবৈধ কাজের প্রস্তাব দেয়। আমি তাতে রাজি না হওয়াতে আমাকে ২১ দিন ক্লাব ঘরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করেছে। তিনি আরো বলেন, কোন মতে পালিয়ে আমি আত্মীয় স্বজনের প্রচেষ্টায় দেশে ফিরে এসেছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
দালাল ইউসুফ আকন সৌদি আরবে টুরিষ্ট ভিসায় কাজল বেগমকে পাঠানোর কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই নারীর কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি এবং সৌদি আরবে কেউ ওকে আটকে রেখে নির্যাতনও করেনি। তিনি আরো বলেন, সৌদি আরবে নারী পাঠানোর জন্য কোন টাকা লাগে না। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2019 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com