banglarchokh Logo

ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেবার সিদ্ধান্ত হয়নি,তবে অসন্তুষ্টি আছে

ডেক্স রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেবার সিদ্ধান্ত হয়নি,তবে অসন্তুষ্টি আছে

`ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙার নির্দেশ` গুজব ছাড়া কিছু নয় বলে জানা গেছে দলের একাধিক সূত্রে। সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তবে কমিটি ভেঙে দেয়ার মত কোনো সরাসরি নির্দেশনা দেননি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেবার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ছাত্রলীগের বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যাপারে দল প্রধানের অসন্তুষ্টি আছে। সেসব শোধরাতে বলা হয়েছে। তবে এটাও সত্য যে, ছাত্রলীগের প্রশংসা করার মতো কাজও আছে। কমিটি ভেঙে দেয়ার যেসব খবর ছড়াচ্ছে, সেসব হাওয়া থেকে পাওয়া।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালের খবরে বলা হয়েছে, শোভন-রাব্বানীকে আমি প্রধানমন্ত্রীর বড়ি থেকে চলে যেতে বলেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে তারা গেছে, আমি তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলবো কেনো? আমি পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে তাদের ভালো খবরের শিরোনাম হতে পরামর্শ দেই।

উল্লেখ্য, শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দলের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের কার্যক্রমে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন, কমিটি ভেঙে দেয়ার মতো কোনো নির্দেশ দেননি প্রধানমন্ত্রী। যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারায় এবং সাম্প্রতিক বেশ কিছু কর্মকাণ্ডে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, `ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

বৈঠকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রংপুর-৩ এর উপ-নির্বাচন এবং কয়েকটি উপজেলার প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আয়োজিত এ বৈঠকে ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে তাদের সময়নিষ্ঠা ও বেশ কিছু ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়ে ব্যর্থতা ও অনিয়মের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্নসূত্রে পাওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তখন বেশ কয়েকজন নেতাও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন।

সভা চলাকালে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার পরামর্শে তারা সেখান থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে জানান, শুনেছি ছাত্রলীগের কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কমিটি ভাঙার মতো কিছু বলেননি। অনেকেই এই কমিটিকে নিয়ে বিতর্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারাই এসব ছড়িয়ে থাকতে পারে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2019 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com