banglarchokh Logo

বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে রাবির তরুণ-নবীন প্রাণে

মিনহাজ আবেদিন রাবি প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে রাবির তরুণ-নবীন প্রাণে

হৃদয়ে অকারণে খুশির দোলা দিতেই বসন্ত আসে। বসন্তের ছোঁয়ায় মুখরিত চারদিক। এমন দিনেই তো উৎসব জমে ওঠে। বাঙালির বারো মাসের তেরো পার্বনের সূচনাও হয় এমনই এক ঋতুতে। যখন মানুষের মন ঠিক যেন কবিগুরুর ভাষায় ‘অলক্ষ্য রঙে`র ছোঁয়ায় অকারণের সুখে’ ভরে ওঠে। ঠিক এভাবেই ফল্গুনের শুরুতে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদেরও লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতেছে তরণ-নবীন প্রাণ।

প্রতিবছর ১৩ ফেব্রয়ারি পহেলা ফাল্গুন পালিত হলেও এবার বাংলা দিনপঞ্জিকায় পরিবর্তন হওয়ায় ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) দিপসটি উদযাপিত হলো। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা মেতে ওঠেন উৎসবের আমেজে। সকাল থেকেই শাড়ি, পাঞ্জাবি পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসতে শুর করেছে।

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারকলা প্রাঙ্গণ, টুকিটাকি চত্বর, ইবলিশ চত্বর, পশ্চিমপাড়া, পরিবহন মার্কেট ও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রায় শতাধিক স্টল গড়ে উঠেছে।

এদিকে প্রতিবছরের ন্যায় ব্যাতিক্রম অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর এই দিনে এশটি ছবি প্রদর্শন হলেও এবার দুটি প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই চারুকলা প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। নানান ধরনের মুখরোচক পিঠার আয়োজন করেছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে আনার কলি নামক একটি যাত্রপালা মঞ্চস্থ হয়েছে।

এদিন কেউ বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে, কেউবা প্রিয় মানুষটির সঙ্গে, কেউবা পরিবারের সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠেছেন। সবাই একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করছেন বসন্তের শুভেচ্ছা। সেই সঙ্গে সেলফি তো আছেই। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে বসন্ত বরণে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ব্যতিক্রম এই আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে চারুকলার ডীন অধ্যাপক শিদ্ধার্থ সঙ্কও তালুকদার বলেন, ‘প্রতিবছরই চারুকলার আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানগুলো পালন করা হয়ে থাকে। তবে এবারের কিছু আয়োজনে ভিন্নতা রয়েছে। যা অনুষ্ঠানকে স্বতন্ত্র রূপ দিয়েছে। বছরের এই দুটি দিনে চারুকলা প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও বহিরাগতদেরও আগমন ঘটে। আমরা আমাদের এই আয়োজনের মাধ্যমে বাঙ্গালি ঐতিহ্যকে ধারণ করি।

বসন্ত বরণে ক্যাম্পাসে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয়, আশেপাশের স্কুল-কলেজ থেকেও অনেককে আসতে দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাইন দিপু বলেন, ‘বসন্ত বরণে ক্যাম্পাসে ঘুরতে খুব ভালো লাগছে। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক আড্ডা ও মজা হচ্ছে। প্রতিবছরই এমন আয়োজন বাংলার ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।’

রাজশাহী মহিলা কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থী নীলা বলেন, ‘বসন্ত এলেই বিশ^বিদ্যালয়ে চলে আসি। মনে হয় নতুন করে আবার জীবন শুর করলাম। ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততার মধ্যে এ দিনটি যখন আসে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা-ঘোরাফেরা সবমিলিয়ে দিনটা অনেক মজায় কাটে।’



সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2020 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com