banglarchokh Logo

যশোরে মসুর ডাল বাম্পার ফলন

এম.জামান কাকা, যশোর থেকে
বাংলার চোখ
 যশোরে মসুর ডাল বাম্পার ফলন

 ভাতের সাথে ডাল-বাংলাদেশের সর্বত্র কম বেশি মানুষ এই খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত। ডালের মধ্যে বেশি গ্রহনযোগ্য মসুর ডাল। দেশের বাজারে মসুর ডালের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছরই পণ্যটির চাহিদা পূর্বের থেকে আরো বাড়ছে। ক্রম বর্ধমান চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে সংকট এড়াতে মসুর ডাল আমদানি করা হয়। আশার কথা এই, মসুর ডালের নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে এবারের মৌসুমে যশোর জেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে মসুর ডাল আবাদের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিপরীতে উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২১ হাজার টন। মূলত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় যশোরের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে ডাল আবাদ বেশি করেন। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এখানে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে মসুর ডাল আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আবাদ হয়েছে ৮,২৮০ হেক্টর জমিতে। অর্থবছর শেষে উৎপাদন হতে পারে ২১ হাজার টন।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জেলায় মসুর ডাল আবাদ হয়েছিল ১৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। পণ্যটি উৎপাদন হয়েছিল সব মিলিয়ে ১৭ হাজার ৮৭৬ টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আবাদ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন হয় ১৮ হাজার ১১১ টন।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসে যশোরে মসুরের আবাদ হয়েছিল ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৩০৯ টনে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে মসুরের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছিল ২১ হাজার ১৮১ টন। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যশোরে ৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ১৭ হাজার ৭৩ টন মসুর উৎপাদন হয়েছে।
যশোরের শার্শা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা জানান, অনেক বছর ধরে মসুর ডাল আবাদ করছেন তারা। পণ্যটির ফলন ভালো হয়। দাম পাওয়া যায় ভালো। এতে তাদের বেশ লাভ থাকে।
বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রামের কৃষক তবিবর রহমান বলেন, এবার তিন বিঘা জমিতে মসুর ডালের আবাদ করেছি। আশা করছি, ফলন ভালো হবে। মূল্য বা বাজার দর ভাল পাওয়ার আশা তার।
সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন, শরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে তারা মসুর ডাল আবাদ করেছেন। মসুর আবাদে লোকসানের ঝুঁকি কম।
ঝিকরগাছা উপজেলার কাশিপুরের সাবেক মেম্বর হাফিজুর রহমান বলেন তার বাপ দাদার আমল থেকেই তারা মসুর চাষ করেন। কোন বার ভাল ফলন হয় আবার কোনবার খারাপ হয় আবহাওয়ার কারনে। তবে বাজার প্রতিবার ভাল থাকে। এ কারণে স্থানীয় কৃষকরা পণ্যটি আবাদে আগ্রহী হন।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক শেখ এমদাদ হোসেন বলেন, যশোরের আবহাওয়া মসুর ডাল উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী। এ কারণে যশোর ও আশপাশের জেলা গুলোয় এই পণ্যটির আবাদ ও উৎপাদন বেশি হয়। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার কারণে কৃষকরা মসুর ডালের আবাদ বাড়াতে আগ্রহী থাকেন সব সময়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2020 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com