banglarchokh Logo

উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা রোগী রাখার চুক্তির খবরে স্থানীয়দের প্রতিবাদ

তানু রায়হান, বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলার চোখ
 উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা রোগী রাখার চুক্তির খবরে স্থানীয়দের প্রতিবাদ

রাজধানীর উত্তরায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সংবাদে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের সামনে প্রতিবাদ করেছে স্থানীয়রা।

রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তার দুইপাশে ব্যারিকেড দিয়ে হাসপাতালটি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা দাবি করে বলেন, আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয় রিজেন্ট হাসপাতাল। এই হাসপাতালটি অবস্থিত হচ্ছে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে। ভাড়া বাসায় গড়ে তোলা এই হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হবে, তা আমরা মানি না। কারণ এটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা।

স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালটিতে গ্রাম থেকে রোগী এনে চিকিৎসার নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সামান্য হাত ভাঙার কারণে হাসপাতালটিতে গেলেও আইসিইউতে ঢুকিয়ে মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেয়া হয়।

এসম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন চন্দ্র সাহা বলেন, করোনা রোগী এই ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হবে এমন গুজবে এলাকার লোকজন জড়ো হয়েছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। সোমবার (২৩ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরে অবহিত করা হবে।

তিনি বলেন, ১১ নম্বর সেক্টরের কল্যান সমিতির নেতাদের বলেছি, সবাইকে শান্ত থাকতে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যারা চুক্তি করেছে তাদের সাথে কথা বলতে।

পুলিশ এ কথা জানানোর পর এলাকাবাসী শান্ত হন। এলাকাবাসী জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুনরায় করোনার রোগী রাখার চেষ্টা করলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

স্থানীয়রা জানান,  আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল থাকায় মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর এখানে করোনা আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।ক্লিনিকের মালিক সবাইকে ব্যবহার করে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।


উত্তরা ১১ নম্বর কল্যাণ সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুরাদ বলেন, মহল্লার ভেতর গড়ে ওঠা এ হাসপাতালটি এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। এ ছাড়া করোনার রোগীদের এখানে চিকিৎসা দেয়া হবে শুনে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে।

তিনি বলেন, পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। হাসপাতালটিতে যাতে করোনার রোগীদের চিকিৎসা না দেয়া হয়, সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফুর রহমান বলেন, জীবন দিয়ে হলেও এলাকার শান্তি-পরিবেশ বজায় রাখব। সেক্টরের ভেতরে কোন করোনা রোগী চিকিৎসা করাতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, রিজেন্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন নানা ধরনের অভিযোগ করে বলেছেন ক্লিনিকটি এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। এছাড়া এই হাসপাতাল থেকে পাশের বাসার দুরত্ব ২ ফিট ও তিন ফিটের মতো। আর এদের জানালা একটির সঙ্গে অন্যটি লাগানো। তাই এলাকাবাসীরা অসন্তুষ্ট হয়ে এই হাসপাতালের সামনে এসে প্রতিবাদ করে।

অন্যদিকে জ্বর ও সর্দিতে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে এক রোগী রোববার (২২ মার্চ) দুপুর দুইটায় আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাসের কিট নেই বলে ভর্তি করায়নি। এতে রোগীর স্বজনদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাকবিতন্ডা হয়।

প্রসঙ্গত, নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাসপাতাল প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা রিজেন্ট গ্রুপের হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতর পরিচালকের কক্ষে রিজেন্ট হাসপাতালের পক্ষে এই সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ শাহেদ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2020 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com