banglarchokh Logo

শেরপুরে ভার্চুয়াল আদালতে জামিন পেলেন এক নারীসহ ৫৩ আসামি

শেরপুর প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 শেরপুরে ভার্চুয়াল আদালতে জামিন পেলেন এক নারীসহ ৫৩ আসামি

করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটির কারণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো বিচার অঙ্গণও বন্ধ থাকায় সরকার ও বিচার বিভাগের যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এবার ন্যায়বিচার পাচ্ছেন লঘু অপরাধের অভিযোগে কারাগারে আটক আসামিরা। ভার্চুয়াল কোর্টের বদৌলতে বিচারকদের পাশাপাশি আইনজীবীরাও নিজ নিজ চেম্বার বা বাসায় বসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিচ্ছেন হাজতী আসামিদের জামিন শুনানীতে। কেবল কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নয়, স্মার্টফোনের মাধ্যমেও যুক্ত হওয়া যাচ্ছে আদালতের সাথে। আর এরই আওতায় শেরপুরে ভার্চুয়াল আদালতে তৃতীয় দিনে জামিন পেয়েছেন আরও ৫৩ জন হাজতী আসামি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ শিশু আদালত এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ আমলী আদালতগুলোতে করা ৭১টি আবেদন শুনানী শেষে ওই ৫৩ জনের জামিন মেলে। এরমধ্যে রয়েছে কারাগারে সন্তান প্রসব করা এক নারী এবং গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা এক কিশোর। এ নিয়ে ৩ দিনে জেলায় জামিন পেলেন ৮৭ জন আসামি।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৫টি আবেদন শুনানী শেষে ৪টি আবেদন মঞ্জুর করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আল মামুন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ শিশু আদালতে করা ৮টি আবেদনের মধ্যে ৭টি আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক মোঃ আখতারুজ্জামান। আর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা ৩টি আবেদনের মধ্যে ৩টিই মঞ্জুর করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীর। এছাড়া জেলার ৫টি জিআর আমলী আদালতের মধ্যে নালিতাবাড়ী আমলী আদালতের ৩টি আবেদনের মধ্যে ২টি মঞ্জুর করেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুলতান মাহমুদ। আর শেরপুর সদরে রেকর্ডসংখ্যক ৩৫টি আবেদনের মধ্যে ১৮টি আবেদন মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিন ফারজানা। এতে ওই আদালতে জামিন মেলে ২২ জন আসামির। শ্রীবরদী আমলী আদালতে করা ৭টি আবেদনের মধ্যে ৬টি আবেদন মঞ্জুর করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল মামুন। ঝিনাইগাতীর ৭টি আবেদনের মধ্যে ৬টি মঞ্জুর করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম খান। নকলার ৩টি আবেদনের মধ্যে ২টি মঞ্জুর করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহসিনা হোসেন তুষি। এছাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর বিচারিক আদালতে করা একটি আবেদন মঞ্জুর করেছেন ভারপ্রাপ্ত বিচারক মুহসিনা হোসেন তুষি। এতে প্রায় ৫ মাস পর জামিন পেয়েছেন কারাগারের সন্তান প্রসব করা এক নারী। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে জেলায় সব আদালত মিলে আরও জামিন পায় ৩৪ জন আসামি।
এদিকে জেলা ও দায়রা জজ, নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও অধস্তন আদালতগুলোতে আরও অন্ততঃ ৫০টি আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। ওইসব আবেদনের প্রায় সবগুলোই রবিবার শুনানীর সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ মে নিম্ন আদালতের ভার্চুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দেন সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। এরপর ১১ মে থেকে সারাদেশে ওই শুনানীর সুযোগ নিশ্চিত হলেও শেরপুরে তা শুরু হয় ১২ মে থেকে। ওইদিন নবাগত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীর ২টি আবেদন গ্রহণ করে ২টিই নিস্পত্তি করায় জেলায় ভার্চুয়াল আদালতে প্রথম জামিন মেলে ২ জন আসামির।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2020 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com