banglarchokh Logo

আমতলীতে করোনায় নন এমপিও শিক্ষক- কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন

বরগুনা প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 আমতলীতে করোনায় নন এমপিও শিক্ষক- কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে সারাবিশ্ব। আমাদের দেশেও এ ভাইরাসটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। ভাইরাসের কারনে সারাদেশের ন্যায় বরগুনার আমতলী উপজেলার সকল সরকারী, এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নন এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় এসকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানাগেছে, এ উপজেলায় ১২টি নন এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় দের শতাধিক শিক্ষক- কর্মচারী কর্মরত। মহামারি করোনাভাইরাসে বেকার হয়ে পড়েছেন তারা। সরকারি, বেসরকারি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করলেও অদ্যবদি কোন সহযোগীতা পায়নি উপজেলায় নন এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দের শতাধিক শিক্ষক- কর্মচারীরা। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় তারা বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিক্ষকতা পেশায় থাকায় তারা না পারছেন কারো কাছে হাত পাততে, না পারছেন সাহায্য চাইতে, না পারছেন লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রান নিতে।

অপরদিকে সরকারীভাবে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষনা দেওয়ায় ব্যাক্তিগত প্রাইভেট ও কোচিং বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়িয়ে কিছু টাকা আয় করে সংসারের খরচ বহন করবেন সেটাও এখন আর করতে পারছেন না। এ কারনে নন এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- কর্মচারীরা বাড়িতে বসে বেকার ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

টিয়াখালী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের উপজেলায় নন এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বেতন হতে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- কর্মচারীদের সম্মানীভাতা পরিশোধ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় তাদের সম্মানীভাতাও বন্ধ রয়েছে। করোনায় অদ্যবদি সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে এসকল অসহায় শিক্ষক- কর্মচারীদের সাহায্যে কেহ এগিয়ে আসেনি।

চলাভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান কবির জানান, গত দুই মাস যাবত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। নন এমপিও ভূক্ত শিক্ষকরা তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সম্মানী ভাতা দিয়ে সংসার চালাতে পারেন না। এ কারনে তারা পাশাপাশি টিউশনি করে থাকেন। সম্মানী ও টিউশনি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে তারা সংসারের খরচ বহন করে আসছিল। করোনা প্রার্দুভাবে তাও এখন বন্ধ রয়েছে। এজন্য এ উপজেলার নন এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দের শতাধিক শিক্ষক- কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন মুঠোফোনে বলেন, নন এমপিওভূক্ত শিক্ষক- কর্মচারীদের বিষয়টি আমি দেখবো। তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2020 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com