banglarchokh Logo

পাওয়ার প্লান্ট বন্ধের অন্তরালে রহস্য কি?

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী
বাংলার চোখ
 পাওয়ার প্লান্ট বন্ধের অন্তরালে রহস্য কি?

শিক্ষা একটা জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌম, মানবাধিকার, ভোটের প্রয়োজনীয়তা,শান্তি ও উন্নয়নের রুপরেখা প্রদান করে।কিন্তু একবছরে উপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মানে পাওয়ার প্লান্ট গুলো বন্ধের রহস্য কি! তা কি কেউ অনুসন্ধান বা গবেষণা করেছেন! এ দিকে ছেলে-মেয়েদের অবিভাকরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থেকে অদ্যবধী বেতন সহ অন্যান্য ফী দিয়ে প্রায় লক্ষাধীক টাকা দাবী করে বসছে।প্রতিষ্ঠান প্রধান অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের আচরণ দেখে মনে হয় তার আচরণ গাড়ীর কন্ট্রাক্টরের মত? আর সাংবাদিক শুনলে একদম তালা বন্ধ? ঢাকা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষের আচরণ, এমন বলে তার সাথে দেখা করার চাইতে চাঁদে যাওয়া সহজ বলে জনশ্রুতি আছে!আরো কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ শুনা যায়।গত একবছরের অধিক সময় অবিভাবকদের আয় বিপদ জনক সীমায় নেমে আসলেও,এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়,অধীদপ্তর,কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের শিক্ষাঙ্গন চালু রাখতে নাম মাত্র ব্যায় নিধারনের বিষয়টি মাথায় নাই?শুনা যায় এই উপমহাদেশের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করতেই নাকি ১৭৫৭ সালের পলাশীর বিপর্যয় সৃষ্টি করেই মুসলিম ছেলে-মেয়েদের শিক্ষায় নানা প্রতিকুল পরিবেশ সৃষ্টি করে।যার কারণে বৃটিশ দেশ-ছাড়ার পরে মুসলিম ছেলে-মেয়েদের ভালো কর্মসংস্থান হয়নি!২০২০ সালে করোনার সাথে লড়াই করে এমন বিজয় হয়েছে, ২০২১ সালে প্রতিদিন কত মানুষ মাড়া যাচ্ছে তার সঠিক তথ্য জনগনের কাছে নাই।বিশ্বের অনেক দেশেই করোনার মত গজব চলছে!কিন্তু মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ মুসলিম দেশে আনুপাতিক হারে সংখ্যায় তুলনামূলক কম? কিন্তু রাষ্ট্রের অপ্রয়োজনীয় ব্যায় মেটাতে,ট্যাক্স,ভ্যাট,খাজনা,হল্ডিং,ট্যাক্স,বিদ্যুৎ,গ্যাসের মুল্যবৃদ্ধি করে আপদকালীন সময় সিংহভাগ অর্থে অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। অথচ গত এক বছর পাউয়ারপ্লান্ট গুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে তার পার্শ্বপ্রতিক্রীয়া কত ভয়ানক কেউ কি বিবেচনা করে দেখছেন?জনশ্রুতি আছে এই পাউয়ারপ্লান্ট বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো দেখভাল বা পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের একটা বড় অংশ এই দেশকে তাদের দেশই মনে করে না?এই কথাটা বিশ্বাস হোক আর নাই হোক এটাই সত্য?আর পাউয়ারপ্লান্ট বন্ধ হলে, তারাই সবচাইতে বেশী উপকৃত হবে। এখন প্রশ্ন হলো করোনার মত গজবকালীন সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা সম্ভব কি? একটু কষ্ট করলে তা সম্ভব সকাল ৮-৪টা পর্যন্ত ক্লাস চালু রাখা যেতে পারে?প্রতি ক্লাস সর্বোচ্চ জরুরী বিষয় গুলো উপর দেড় ঘন্টা করে ক্লাস হবে।সাথে মাস্ক ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করবে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।অন্যান্য খরচ রাষ্ট্র মেটাবে,শুধু ছাত্ররা সর্বোচ্চ একশত টাকা মাসিক বেতন দিবে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক বছর বন্ধ থাকায় শুধুমাত্র মাসিক ৫০টাকা বকেয়া বেতন নির্ধারণ করে দিতে হবে। এটা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর বেলায় নিশ্চিত করা।কোন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ উঠলেই ম্যানিজিং কমিটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধানকে তাৎক্ষণিক অব্যহতি দিতে হবে।এ ব্যাপারে কোন রকম বিভাগীয় বা উচ্চ আদালতের সরণাপূর্ণ হওয়ার এখতিয়ার রহিত করার মত ব্যাবস্হা নিতে হবে। তা নাহলে পাউয়ারপ্লান্ট গুলোর যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ো যাবে।ইতিমধ্যে মোবাইলে অনৈতিক ছবি,গেম খেলা,মাদক সেবন সহ নানা অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত হতে শুরু হয়েছে। আর রহমতের সেক্টর মানে মাদ্রাসা গুলো আরো সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করে ধ্বংস করা হচ্ছে!১৭৫৭ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি ভারত বর্ষের মুসলিম জমিদারদের মধ্যে যারা ২/১জলুমকারী ছিলো প্রথম পর্যায় তাদের সব কিছু কেড়ে নেয়। এর প্রজা বান্ধব জমিদারদের ক্ষমতাচ্যুত করে! তারপর আস্তে হিংস্র প্রকৃত হিন্দুদের জমিদার বানান। তারপর নব্য প্রতিংসা পরায়ন জমিদাররা প্রথমেই যে কাজটি করে, তাহলো মুসলমানদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা গ্রহনের অধীকার হরণ করে। এরপর শুরু হয় আইনের আড়ালে জুলুমের নয়া কৌশল?আজও রাজার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে রাজভৃত্যদের নানা কৌশলে প্রচার উপর জুলুম? এ সব দেখে তখনকার মুসলিম গুনিজনরা মক্তব্য বা দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গরে তুলেন। যাতে মুসলিম সন্তানরা আল্লাহ এবং কোরআন-রাসুল সাঃও আল-হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান আর্জন করে। এতে করে জালেমরা জুলুম করতে ভয় পায়?কিন্তু হিংস্রতা তারা পরিহার করার পরিবর্তে মুসলিম ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা বিমুখ করে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বাধা সৃষ্টি করে ভদ্রবেশী সাম্প্রদায়িক কবি রবীন্দ্রনাথ গং?কিন্ত নবাব স্যার সলিমুল্লাহ সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এর অনুসারীরা ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় সহ মুসলমানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ধ্বংসের প্রক্রিয়া হাতে নেয়।যে প্রক্রিয়া সফল করতে করোনার মত গজবকে কাজে লাগায়! দেশের মেরুদন্ড মসজিদ ভিত্তিক মাদ্রাসা গুলো বন্ধের পরিকল্পনা কার্যকর করতে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী শাসকদের পরোক্ষ সহযোগীতায় মাদ্রাসা গুলোর প্রধান আয় কোরবানির চামড়ার দাম শূণ্যের কোঠায় নিয়ে আসে!শাসক এর মূল্যবৃদ্ধির ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা গ্রহন করেনা। তারপর করোনা বা গজব থেকে মুক্তির মহাঔষেধর কারখানা মক্তব,মাদ্রাসা, মসজিদ করোনার উসিলা দেখীয়ে বন্ধ করে দেয়।আলেম-ওলামাদের জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মাস্তানারা লেবাস পরিবর্তন করে জনগনের শান্তি বিঘ্ন ঘটিয়ে আলেম-ওলামা-ইসলামী চিন্তাবিদ-দেশপ্রেমিকদের উপর অদৃশ্য চক্রান্ত শুরু৷ হয়।যার পরিণতি অত্যান্ত ভয়াবহ! কিন্তু প্রতিরোধ করার মেরুদন্ড ধ্বংস করতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে বলে, বিশেষ অজ্ঞমহল ধারণা করছে।অথচ এই শিক্ষার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে।দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ থাকলেও কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা সত্যে ও অবিভাবকদের কাছে, এই বিপদের সময় বেতন সহ অন্যান্য ফি দাবী করায় অবিভাবরা দিশে হারা!অনেকেই বলছে,বাচ্চার জীবনটা প্রথয় নষ্ট হয়ে যাবে,এইচএসসি ফরম পূরণ করতে অক্ষম হলে?আজকে বাংলাদেশ তথা অবিভক্ত ভারত বর্ষে মুসলিম পরিবারের সন্তানদের নানা প্রতিকুল অবস্হার স্বীকার হতে, শুরু করে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন থেকে। বিভিন্ন তথ্য মতে "১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলিকাতা গড়ের মাঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বাঁধা দানে এক বিশাল জনসভা করে।(অবশ্য তথা কথিত সাম্প্রদায়িক শক্তির গোলামরা ইনিয়ে বিনিয়ে এই সাম্প্রদায়িক ব্যাক্তিটিকে অসাম্প্রদায়িক বানানোর কল্পকাহিনী তৈরীতে কম কসরত করে না)স্যার সলিমুল্লাহার তার নিজের ৬০০একর জমি দান করলে,সেই জায়গায়`র উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়।আজকে এই লেখা শুধু করোনাকালিন বন্ধের জন্যে নয়!ইষ্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি তথা ইংরেজরা হিন্দুদের সহযোগিতায় ভারতবর্ষ কৌশলে দখল করে, তারপর থেকে এখানকার মুসলমানদের অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল ও শিক্ষা থেকে বন্চিত ও তাদের সংস্কৃতি মুসলমানদের ঘাড়ে চাপিয়ে মানবিক বিপর্যয় ঘটায়?যা মুসলিম এবং নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের মৌলিক অধীকার হরণের পর্যায়ে পরার কারণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ধ্বংশ করে।যা এখন সংখ্যালঘু সাজিয়ে মুসলমানদের উপর জুলুম করার নতুন কৌশল করে?১৯৪৭ এর পর থেকে মুসলমানরা নতুন করে শিক্ষার সুযোগ পেতে থাকে?২৪ বছরে কিছু উচ্চ শিক্ষিত নাগরিক হলেও তা পর্যাপ্ত ছিলো না!স্বাধীনতার শুরুতেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে " রাব্বি জিদনি ইলমা" ঢাবি বিরোধী চক্রান্তকারী সরিয়ে ফেলে সেখানে জ্ঞানী আলো প্রতিস্থাপনের মধ্যে দিয়ে,ঢাবির" শিক্ষার গুনগত মান নিম্নমুখী করেদেয়।এ চক্র বোঝে মুসলমানদের শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারলেই,মানবতার লেবাস পরে মানবতা হরণ করার পরও তাদের ত্রান কর্তা হিসাবে অধিষ্ঠিত থাকা যাবে। আজ সেই প্রক্রিয়ার চুড়ান্ত সফলতার দিকে যখন সফলতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে তখনই করোনা বা covid-19 এর গজব নেমে আসে বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশের এর শাসক মহল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদের উপর কঠোর নজরদারী বা বন্ধ ঘোষনা করে। অবশ্য পরে আল্লাহ তালার ঘরে প্রবেশ এর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে,নামাজ আদায়ের সুযোগদেয়। সামনে ঢাকার মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোড এইচ এস সি পরিক্ষার তারিখ পরিক্ষার ফী ঘোষনা করেছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবিভাকরা দেড় বছরের অধিক (সময়)ক্লাশ না করায়ে বকেয়ার বিশাল অংকের স্লীপ ধরিয়ে দিচ্ছে। এই টাকা আয় না থাকায়,অনেক অবিভাবক পরিশোধ করতে পারবে না এমন মন্তব্য শুনা যায়!তাহলে ঐ সকল ছাত্র/ছাত্রী পরিক্ষা থেকে বন্চিত হবে।কিছু কিছু অবিভাবকের মন্তব্য বকেয় বেতন-ভাতাদি ১৫-২০হাজার ফিক্সড করে দেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করে?পুরনো ইতিহাস পুনরায় উল্লেখ করলে বর্তমান সংন্কট পরিস্কার করতে সহজ হবে তাই? প্রিয়পাঠক আল্লাহ তালা পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন প্রত্যককে নিশ্চিত মৃত্যু বরণ করতে হবে। সুরা ত্বহাতে জানিয়ে দিলেন "রাব্বি জিদনি ইলমা"! অর্থ যে মানুষের মধ্যে মৃত্যু ভিতি কাজ করবে আর শিক্ষা বা আদর্শ জ্ঞান থাকবে তারদ্বারা মানুষের মৌলিক অধীকার ক্ষন্ন করা সম্ভব নয়? আজ এক বছরে অধিক সময় দেশের ভবিষ্যৎ বংশধররা শিক্ষা থেকে বন্চিত, এটার পরিনাম কত ভয়াবহ তা একটু বিবেচনা করুন?তারপর আল কোরআন আর আল হাদিস বা রাসুল পাক সাঃ এর জীবনিকে অত্যান্ত সুক্ষ্ম ভাবে সরিয়ে দেওয়া নাগরিক অধীকার পদে পদে বন্চিত করায় নাগরিক আজ রাষ্ট্রের বোঝা আর রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে গেছে মালিক? আজকে প্রায় লক্ষাধীক কিন্ডারগার্ডেন সহ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক,কলামিষ্ট.বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ) চেয়ারম্যান

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2021 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com