banglarchokh Logo

শুক্রবার নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর, নিহত ১, আহত অর্ধশত

মো: ইমাম উদ্দিন সুমন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলার চোখ
 শুক্রবার নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর, নিহত ১, আহত অর্ধশত

 নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলাস্থ চৌমুহনীর ৮টি পূজা মন্ডপে তৌহিদী জনতার ব্যানারে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যতন সাহা (৪২) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার, বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি, ওসি (তদন্ত)সহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ, ফাঁকাগুলি ও লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় ১টি মামলা হয়েছে এবং রাত ১২ পর্যন্ত দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জুমার নামাজের পর থেকে পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন পূজা ম-পে দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় কলেজ রোডের বিজয়া পূজা ম-পে অগ্নিসংযোগও করা হয়। পূজা ম-পের পাশাপাশি হিন্দুদের বাড়িঘর ও দোকানপাটেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তদের হামলায় যতন সাহা (৪২) নামের একজন মারা যান।

নিহত যতন সাহার বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন সাহার ছেলে যতন পূজা উপলক্ষে চৌমুহনীতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, বেগমগঞ্জের ঘটনায় এক জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এছাড়া ৩ পুলিশসহ ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হামলায় জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শিকদার, পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন, কনস্টেবল শাহাদাত হোসেন, কামরুল হাসান, রাকেশ দেবনাথসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার দাস জানান, পুলিশ সুপার ও ওসিসহ মোট ১৮ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য তপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, শুক্রবার দুপুরে চৌমুহনীর ৮টি পূজাম-পে হামলা ও অগ্নিসংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হামলায় ইস্কন মন্দিরের প্রভু নিতাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। আমরা নিজেদের জীবন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ ইমরান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে পূজাম-পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরিস্থিতি সামাল দিতে চৌমুহনীতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছে বিজিবি ও র‌্যাব।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2022 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com