banglarchokh Logo

বিধবা আইফুল বিবির নতুন টিনের ঘরে বসবাস

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর
বাংলার চোখ
 বিধবা আইফুল বিবির নতুন টিনের ঘরে বসবাস

গালদা ওয়েল ফেয়ার গ্রুপের সহযোগিতায় অসহায় ফুল বিবি আবার নিশ্চিন্তে টিনের ঘরে বসবাস করছেন। এই গ্রুপের সদস্যরা তার অতি বর্ষনে ধ্বসে যাওয়া ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। গালদা ও খড়িঞ্চি গ্রামে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মসজিদ ও মন্দিরে ফলজ বৃক্ষ চারা রোপণ করেছেন। তাদের পরবর্তী সামাজিক কর্ম উদ্যেগে রয়েছে রাজধানী ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাাতালে ভর্তি রোগী আকবর আলীর প্যারালাইজড চিকিৎসা খরচ যোগান দেওয়া। ঘাড়ের শিরা ইনজুরড হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এজন্য প্রয়োজন তিন লাখ টাকা। যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার ৭নং খেদাপাড়া ইউনিয়নের গালদাহ খড়িঞ্চি গ্রামে গালদা ওয়েল ফেয়ার গ্রুপ ও তার সদস্যরা নানা সামাজিক উন্নয়ন মূলক সেবা মূলক কাজ করছেন।
গ্রামের অসহায় বিধবা আইফুল বিবি (৫২)’র চলতি বর্ষা মৌসুমে ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়ে। তিনি ঘরহারা হয়ে পড়েন। ১০০ টাকা যোগাড় করার ক্ষমতাও ছিলনা এই বয়সী নারীর। এসময় চোখে সর্ষে ফুল দেখতে শুরু করেন তিনি। এগিয়ে আসে গালদা ওয়েলফেয়ার গ্রুপ। প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ করে গ্রুপের সদস্যরা আইফুল বিবির টিনের নতুন ঘর নির্মাণ করে দেন তারা। বিধবা নিশ্চিন্তে সেই ঘরে বসবাস করছেন। তার এই অসহায়ত্ব দেখে গালদা ওয়েল ফেয়ার গ্রুপ তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারই ভিটেয় ঘর নির্মাণ করেন এই গ্রুপের সদস্যরা। এ কাজে অগ্রবর্তী সৈনিক ছিলেন গালদা ওয়েল ফেয়ার গ্রুপের ফাউন্ডার এডমিন মো: আব্দুল আলিম। তিনি সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার (ম্যানেজার) অর্থাৎ শত ব্যস্ততা সর্ত্তেও মানুষের সেবায় নিজে ও গ্রুপের সদস্যদের নিয়োজিত করেছেন। তরুণ যুব সমাজ তার সাথে সামাজিক কর্মে সদা ব্যস্ত রয়েছেন।
ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আকবর আলী। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন তিন লাখ টাকা। নিজের পকেটের টাকায় একা এটা সম্ভব নয় তাই গ্রামের বিত্তশালী ৬৫ জন সামাজিক মানুষের তালিকা করে তাদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে আদায় কৃত অর্থের ফান্ড করে আকবর আলীর চিকিৎসা খরচ যোগাচ্ছেন গালদা ওয়েল ফেয়ার গ্রুপ।
আব্দুল আলীমের সহযোগিতাকারীরা হলেন, আব্দুল্লা ( টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার), আব্দুর রহমান, মাহাবুব, হাসান, মোস্তফা, বোরহান, ওসমান, নিশান, জাহিদ, মাসুম, নাইম, জোবায়ের প্রমুখ। ১৮০ জনের বিশাল বহর গালদা ওয়েল ফেয়ার গ্রুপের সামাজিক কাজে নিয়মিত ব্যস্ত রয়েছেন। এরা পুরস্কারের আশায় এই জন উদ্যোগী কাজ করছেন না। মানুষের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে জনসেবার দৃষ্টান্তমূলক কর্মে তারা জন সেবকের ভূমিকায়। চলতি বছরের জুলাই মাসে যাত্রা শুরে করেও ইতিমধ্যে বেশ কটি জনহিতকর কর্ম সম্পাদন করে আশে পাশে সুনাম ছড়িয়েছেন।
গালদা ওয়েল ফেয়ার গ্রুপ মাত্র তিন মাসেই অন্তত: ১০ টি জনহিতকর সামাজিক কর্ম সম্পাদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫২ টি ফলজ গাছের চারা রোপণ, বিধবা আইফুল বিবির ঘর নির্মাণ, আকবর আলীর চিকিৎসার উদ্যেগ। গ্রামের মানুষের ছোট খাট সহায়তাও চলছে একই সাথে। এজন্য কিছু তরুণ, কিশোর, উদ্যমী নারী পুরুষ মিলিত হয়ে একটি জোট গড়েছে। আর তা হচ্ছে এই গালদা ওয়েল ফেয়ার গ্রুপ।
গালদা ওয়েল ফেয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ব্যাংকার আব্দুল আলীম জানান, মানুষের সেবা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। এখানে কোন রাজনৈতিক বিভাজন নেই। সামাজিক দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকারেই আমরা সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়ানোর লক্ষ্যে সমাজ সেবায় মনোনিবেশ করেছি। শত বাঁধা সর্ত্ত্বেও এই মানবিক সেবার কর্ম অব্যাহত থাকবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2022 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com