Banglar Chokh | বাংলার চোখ

বৈদেশিক ঋণের সব তথ্য চেয়েছে আইএমএফ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:৫৯, ১ ডিসেম্বর ২০২২

বৈদেশিক ঋণের সব তথ্য চেয়েছে আইএমএফ

.

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) দেশের বৈদেশিক ঋণের সব ধরনের তথ্য চেয়েছে।

দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কে জানতেই তারা এসব তথ্য চায়। ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে সংস্থাটিকে সরকার থেকে বেশ কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে।

আরও কিছু তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের কী পরিমাণ কিস্তি কখন পরিশোধ করতে হবে, এর বিপরীতে ডলারের সংস্থান কীভাবে করা হচ্ছে-তা জানতে চেয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণ অনেক কম। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বেশি। ফলে ঋণ পরিশোধে সরকার সময় পাচ্ছে।

এতে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের কারণে সার্বিক অর্থনীতিতে তেমন ঝুঁকি নেই। তবে বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ অনেক বেশি, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ তুলনামূলকভাবে কম।

বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণের কারণে সরকারের ওপর ঝুঁকি নেই। তবে ওই ঋণ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত ডলার নেই।

ফলে ওই ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকেই জোগান দিতে হবে। এতে রিজার্ভ চাপে পড়বে। কেননা রিজার্ভ ইতোমধ্যেই বেশ চাপে আছে। বেসরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের একটি বড় অংশ নেওয়া হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে। যা ১৯০ কোটি ডলার।

নির্মাণ খাতে ১৪ কোটি ডলার ও বাণিজ্য খাতে ১৭৯ কোটি ডলার। এসব ঋণেল বিপরীতে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে না। ফলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি থেকে আসা বৈদেশিক মুদ্রা থেকেই এসব ঋণ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে হবে। এটি বেশ কঠিন। কারণ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় রপ্তানির প্রায় পুরোটাই চলে যাচ্ছে কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমদানিতে। ফলে এ খাত থেকে ডলার নিয়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে জোগান দেওয়া কঠিন হবে। এছাড়া রেমিট্যান্স কম আসায় তা দিয়ে আমদানির ঘাটতি মেটানো যাচ্ছে না। ফলে এ খাত থেকেও ডলারের জোগান দেওয়া আরও কঠিন হবে। ফলে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার জন্য ডলারের সংস্থানে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপরই নির্ভর করতে হবে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের জোগান দিতে থাকলে রিজার্ভ কমে যাবে।

সূত্র জানায়, বৈশ্বিক মন্দা ও দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে দুটি খাতে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চেয়েছে। যা বাংলাদেশের কোটার চেয়ে কম। কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে ৫৫০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পেতে পারে। এ ঋণের ব্যাপারে আলোচনা করতে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত আইএমএফের মিশন বাংলাদেশ সফর করেছে। ওই সময়ে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে বৈদেশিক ঋণের আলোচ্য বিষয়টি উঠে এসেছে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন তৈরি করছে। এতে কোন সময়ে কত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে এবং ওইসব ঋণ পরিশোধের জন্য ডলারের সংস্থান কীভাবে করা হবে সে বিষয়ে উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর কেমন চাপ তৈরি হবে সে বিষয়েও তাদের জানাতে হবে।

উৎস:যুগান্তর

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়