ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

মধ্যরাতে ৮ সীমান্তে পুশইনের প্রতিরোধে বিজিবি ও সীমান্তবাসী

প্র্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮:৪৫, ৯ জুন ২০২৬

মধ্যরাতে ৮ সীমান্তে পুশইনের প্রতিরোধে বিজিবি ও সীমান্তবাসী

 কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর সীমান্ত। ফাইল ছবি

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এক রাতেই আটটি পৃথক স্থানে শতাধিক মানুষকে ট্রাকে করে এনে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর ও সতর্ক অবস্থান এবং স্থানীয় সাহসী বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় বিএসএফের এই বড় ধরনের পুশইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত ১১টা থেকে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন কৌশলগত সীমান্ত এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটে বলে বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে সুনির্দিষ্টভাবে জানা গেছে। রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ সীমান্তবর্তী অরক্ষিত এলাকায় পুশইনের এসব অপচেষ্টা চালানো হয়।

বিজিবি জানায়, রৌমারী ও চর রাজিবপুরের দাঁতভাঙা বিওপির ১০৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায়, মোল্লারচর সীমান্তের ১০৬২ নম্বর পিলার সংলগ্ন কুচুনিমারা এলাকায়, ইজলামারী বিওপির ১০৬৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে মানকারচর এলাকায় এবং খেয়ারচর বিওপির ১০৬৯ নম্বর পিলারের বিপরীতে সদরটিলা এলাকায় গভীর রাতে ট্রাকযোগে শতাধিক মানুষকে এনে বাংলাদেশে জোরপূর্বক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে সীমান্তে দিনরাত নিরলস দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের তাৎক্ষণিক পেশাদার তৎপরতা এবং একইসঙ্গে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফের কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টাই সফল হতে পারেনি। সীমান্ত জুড়ে বিজিবির টানা নজরদারি এবং স্থানীয়দের এই সক্রিয় ও দেশপ্রেমিক অংশগ্রহণের ফলে ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া মানুষগুলোকে বিএসএফ আবার তাদের দেশের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়; যার ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে বড়াইবাড়ি সীমান্তের স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা ফারুক হোসাইন বর্তমান মাঠের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের গ্রামের সাধারণ মানুষ যেকোনো মূল্যে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে দিন-রাত সমানতালে বিজিবি ভাইদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুরো সীমান্ত এলাকা পাহারা দিচ্ছে।

এই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত রাতে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাকে করে মানুষ এনে পুশইনের একাধিক অপচেষ্টা চালানো হলেও বিজিবির কঠোর বাধার মুখে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও অত্যন্ত সচেতন ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন। দেশ ও সীমান্ত সুরক্ষায় যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে ঠেকাতে সীমান্ত জুড়ে আমাদের সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা ও দৃশ্যমান নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং বিজিবি সদস্যরা দিনরাত সমানভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুন