Banglar Chokh | বাংলার চোখ

পদ্মা সেতু ঘিরে যশোরের সবজি চাষীদের নতুন আশা

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর থেকে

প্রকাশিত: ০১:০৮, ২৩ জুন ২০২২

আপডেট: ০১:০৯, ২৩ জুন ২০২২

পদ্মা সেতু ঘিরে যশোরের সবজি চাষীদের নতুন আশা

ফাইল ছবি

পদ্মা সেতু ঘিরে যশোরসহ দক্ষিনাঞ্চলের কৃষক নতুন দিনের আশায় বুঁক বাঁধতে শুরু করেছেন। এতদিন ফেরীঘাটে তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন গড়িতে বিনষ্ট হয়ে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিলো। এখন সময় যেমন নষ্ট হবেনা তেমনি গুনগত মান ভাল থাকায় কৃষিপণ্য কাঁচামাল তথা তরি তরকারির মূল্য ভাল পাওয়া যাবে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয় তথ্য অনুযায়ি এ জেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়। বছরে দুই মৌসুমে মোট ছয় লাখ টন সবজি উৎপাদিত হয়। জেলার মানুষের চাহিদা বছরে এক লাখ মেট্রিক টন। বাকি পাঁচ লাখ মেট্রিক টন রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, মাদারীপুর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। এখন থেকে বিদেশেও যয়। এখন পদ্মা সেতু চালুর খবরে যশোরের সবজি জোনের সকল কৃষক আশায় বুক বেঁধেছেন। ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনা ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরার কৃখশ নতুন স্বপ্ন দেখছেন পদ্মা সেতু নিয়ে। তাদের ধারনা, পদ্মা সেতু চালু হলে এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য বিপণনে নতুন কৃষি বিপ্লব ঘটবে। চুড়ামনকাটি ব্লক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতু দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সেতু। এই সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হলে এখানকার মানুষের অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে। যশোরের কৃষক সবজি নিয়ে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টায় সরাসরি রাজধানী ঢাকায় যেতে পারবে।

এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় যেমন কমবে, তেমনি সবজির মান থাকবে অটুট,  টাটকা। সময় ও খরচ কমলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ভোক্তা সাশ্রয়ী মূল্যে সতেজ টাটকা সবজি কিনতে পারবেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবজির সবচেয়ে বড় মোকাম সাতমাইল-বারীনগর হাট। এ হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা সদরের বারীনগরের কৃষকরা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের খবরে উচ্ছ্বসিত। এরা জানিয়েছেন, এই হাটে ১কেজি পেঁপে বিক্রি হয় ১৩ থেকে ১৫ টাকায়। ঢাকার কারওয়ান বাজারে সেই পেঁপের দাম ৪০ টাকা কেজি। অন্য সবজির দামের পার্থক্যও এমন। পদ্মা সেতু চালু হলে দু-তিন কৃষক মিলে  ট্রাক ভাড়া করে সবজি নিয়ে ঢাকার বাজারে সরাসরি দিতে পারলে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা সম্ভব। কিন্তু ফেরিঘাটের কারণে এতদিন তা সম্ভব ছিল না। কারণ ঘাটের জ্যাম, পরিবহন ব্যয়, সবজি পচে যাওয়ার শঙ্কা ইত্যাদি। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হলে এ সমস্যা কেটে যাবে বলাই বাহুল্য। কৃষকরা জানান, পদ্মা সেতু চালু হলে ৪ ঘণ্টায় সবজি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে পারবো। সবজি ভালো থাকবে, দাম ভালো পাওয়া যাবে।

কৃষক ও তরিতরকারী সরবরাহকারীরা জানান, সবজি ঢাকায় পাঠানোর সময় চিন্তায় থাকতে হয় সময়মতো ঘাট পার হওয়া নিয়ে। কারণ সময়মতো পার হতে না পারলে সঠিক সময়ে ঢাকার আড়তে সবজি পৌঁছাবে না। এতে সবজির মান কমে যাবে। দাম কম হবে। এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ফেরি বন্ধ থাকে। সে সময় আরও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। দেরির কারণে সবজি বাসি হয়ে গেলে দাম তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসে। এমন বিড়ম্বনায় অনেক টাকার লোকসানও হয়েছে। সবজি চাষিরা জানান, শুধু সরাসরি সবজি পাঠানোর বিষয়টি নয়, ঘাটের কারণে অনেক ব্যাপারী এ অঞ্চলে আসে না। পদ্মা সেতু চালু হলে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেক ব্যাপারী পাইকারি সবজি কিনতে যশোরে আসবেন। ক্রেতা বাড়লে স্থানীয় মোকামে কৃষক ভালো দামে সবজি বিক্রি করতে পারবেন।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরুজ্জামান জানান, যমুনা সেতু চালুর ফলে উত্তরাঞ্চলে কৃষিখাত বিপ্লব ঘটেছে। তেমনি পদ্মা সেতু চালু হলে উত্তরের মতো কৃষি বিপ্লব ঘটবে যশোর তথা দক্ষিন অঞ্চলে। যশোরে মোট ৩৩ ধরনের সবজি উৎপাদন হয়। হেক্টর প্রতি সবজির গড় ফলন ২৩-২৫ টন। যা অন্য জেলার চেয়ে বেশি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ সবজি রাজধানীসহ পদ্মার ওপার ওপারে বিভিন্ন জেলায় যায়। ফেরিঘাটে সময় বেশি লাগায় অনেক সবজি নষ্ট হয়। পদ্মাসেতু চালু হলে সবজি বিনষ্ট হবেনা এবং দাম ভালো পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়