Banglar Chokh | বাংলার চোখ

মিরসরাইয়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন আয়াতও না ফেরার দেশে  

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:২৯, ৬ আগস্ট ২০২২

মিরসরাইয়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন আয়াতও না ফেরার দেশে  

ফাইল ফটো

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে গিয়ে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের প্রাণে বেঁচে যাওয়া সাত জনের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়াত হোসেন (১৭) নামের আরও একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।

প্রায় সাতদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে আয়াত নামে ওই এসএসসি পরীক্ষার্থী। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালের আইসিইউয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রণয় কুমার দত্ত।

তিনি বলেন, গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরো-সার্জারি বিভাগ থেকে আহত আয়াতকে (২০) আইসিইউতে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। তার মাথায় আঘাত ছিল, মাল্টিপল ট্রমাসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল তার। আজ দুপুর দেড়টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। 

নিহত আয়াত হাটহাজারী উপজেলার চিকনদন্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রামের যুগিরহাট এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাইনম্যান বাড়ির সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. আবদুর শুক্কুরের ছেলে। সে চলতি বছর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের কে এস নজু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অধীনে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল।

এদিকে, তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আবারও খন্দকিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এরমধ্যে সন্ধ্যার দিকে নিহত আয়াতের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, গতকাল রাত ১০টায় ছমদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহত আয়াতের নামাজে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় করবস্থানে দাফন করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখে ফেরার পথে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানগর প্রভাতি ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন নিহত হয়। তারা হাটহাজারীর খন্দকিয়া গ্রামের যুগিরহাটের আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টার থেকে খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে গিয়েছিল। এ ঘটনায় সাতজন আহত হন। 

আহতদের মধ্যে মো. ইমন নামে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন এবং শুক্রবার আয়াত হোসেনের মৃত্যু হলেও আর পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন কে এস নজুমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. সৈকত ও মো. তাসফির; কে সি শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. মাহিম ও মো. হৃদয় এবং মাইক্রোবাস সহকারি তৌহিদ ইবনে শাওন বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে মো. তাসফির আইসিইউতে আছে বলে জানা গেছে

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়